রিয়াজ ওসমানী
৬ জুন ২০২৩
ইংরেজিতে “Conflict of Interest” (কনফ্লিক্ট অফ ইনটারেস্ট) বা “স্বার্থের দ্বন্দ্ব” বলতে একটা জিনিষ আছে যা অনেক প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতিবিদদের বেলায় প্রয়োগ করা হয়। এর অর্থ দাঁড়ায় যে দেশটির যে কোনো নাগরিক রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করতে চাইলে রাজনীতির বাইরে কোনো কিছুকে অনৈতিক বা বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকলে সেই “কোনো কিছুর” সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদকে তার সম্পর্কগুলো আগে ছিন্ন করতে হবে।
এই স্বার্থের দ্বন্দ্বের একটা উলঙ্গ উদাহরণ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর নির্দশন প্রবল। অনেক সাংসদ ও মন্ত্রী রয়েছে যারা যে শুধু বণিক শ্রেণি থেকে এসেছে তা নয়, তারা এখনও তাদের ব্যবসাগুলোর সাথে জড়িত। এর পরিণাম হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। আমি বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী, তাই ব্যবসা-বাণিজ্যকে কখনোই নেতিবাচক হিসেবে দেখব না। বরং আমি সব সময়েই বলে থাকি যে দেশ গড়ে এবং কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করে আমাদের ব্যবসায়ীরা এবং উদ্যোক্তারাই।
কিন্তু রাজনীতিতে ধর্ম যেমন বিষ, ঠিক তেমনি সেখানে ব্যবসাও হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের কাল। বহির্বিশ্বে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে আসলেও বাংলাদেশে তা কেন এখনও কমে আসেনি তার উত্তর পাবেন সেখানেই। বড় বড় কিছু ব্যবসায়ীরা একত্রে মিলে কৃত্রিমভাবে অনেক জিনিষের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। এই মানুষদেরকে সমাজের অনেকেই সমষ্টিগতভাবে সিন্ডিকেট বা চক্র হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। এদের অনেকেরই সাথে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এমন কি সরকারের সাথে রয়েছে ঘনিষ্ট যোগসাজশ। সরকারের মধ্যেই এই চক্রের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া গেলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।
এই কারণে এই চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তো দূরের কথা, সরকারের পক্ষ থেকে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করারও কোনো উদ্যোগ আশা করা নিরর্থক। আর সংসদে এত এত ব্যবসায়ী থাকার কারণেই যে দেশের একটা মুষ্টিমেয় গোত্র ব্যাংকগুলো থেকে অঢেল ঋণ নিয়ে, ঋণ খেলাপি হয়ে দেশ থেকে সেই টাকা বিদেশে পাচার করে বেগম পাড়া তৈরি করতে পেরেছে তা বলাই বাহুল্য। তাই ভোটের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া না পর্যন্ত এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না।
জনগণের উচিৎ হবে সুষ্ঠ ভোটের সুযোগ তৈরি হলে যে সকল ব্যবসায়ীরা সাংসদ হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়াবে, সে সকল মানুষরা যেই দলেরই হোক না কেন, তাদেরকে নির্বাচত না করা। রাজনীতি করবে রাজনীতিবীদরা। ব্যবসায়ীরা নয়। এবং আগামীতে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে আসতে চাইলে তাদের ব্যবসাগুলোর সাথে তাদের সকল সম্পর্কগুলো আগে ছিন্ন করতে হবে এবং একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার থাকতে হবে তা নিশ্চিত করার। বলে রাখতে চাই যে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চাইলে স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়টি ব্যবসার বাইরে অন্য যে কোনো পেশার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে হবে।