বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ডিএনএতেই নেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এমন প্রশাসনিক সংস্কার আনা, যা তাদের নিজেদের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। বিরোধী দলে থাকলেই শুধু তারা এসব তদারকি ও ভারসাম্যের কথা বলে — ক্ষমতায় গেলে সব ভুলে যায়। তাই স্বাধীন বিচার বিভাগ, সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক ও মানবাধিকার তদারকি প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো জারি করা কেবল একটি অরাজনৈতিক (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকারের পক্ষেই সম্ভব ছিল।
কিন্তু বিএনপির বর্তমান এজেন্ডা অনুযায়ী, একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশ করেছে এসব অধ্যাদেশের কিছু অংশ আপাতত আইন হিসেবে পাস না করে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দেওয়া হোক। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে আইনমন্ত্রী এখন বলছেন, এগুলো নাকি “পর্যালোচনা করে আরও শক্তিশালী করে” পরে বিল আকারে সংসদে আনা হবে। এই বক্তব্য নিছক বাস্তবতা বিকৃত করা ছাড়া আর কিছুই না। প্রশ্ন হলো — বর্তমান অবস্থায় অধ্যাদেশগুলোর দুর্বলতাগুলো কী? সেগুলো কীভাবে শক্তিশালী করা হবে? এসবের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা কোথাও নেই।
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করতে চায় না। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর এই আশ্বাসকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মনে করাই যৌক্তিক। বরং খুব সম্ভবত, এই অধ্যাদেশগুলো যদি কখনো বিল হিসেবে আসে, তাহলে সেগুলোকে এমনভাবে দুর্বল করে আনা হবে, যাতে সরকারের ক্ষমতার ওপর প্রকৃত কোনো লাগাম না পড়ে — যেই লাগামগুলো ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সাথে সম্পৃক্ত।
ইতোমধ্যে একজন সচেতন নাগরিকের শেয়ার করা পোস্টে দেখা গেছে, বিশেষ কমিটিতে বিএনপি সদস্যরা নিজেদের স্বার্থে অধ্যাদেশগুলোর বহু গুরুত্বপূর্ণ ধারা দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপিকে এটা বুঝতে হবে যে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া মানে এই নয় যে তারা যা খুশি তাই করার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগও ২০০৯ সালে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, আর তার ফলাফল তারা খুব ভালোভাবেই দেখেছে।
This article presents a list of 133 ordinances issued by Bangladesh’s previous interim government, along with brief descriptions of each. These have been placed before the country’s new parliament on the very first day of its first session. The aim is to pass them into law within 30 days; otherwise, they will automatically lapse. It must be noted that these matters do not fall under the July Charter. Even where some items may technically fall within its scope, they do not constitute constitutional reform.
Source: The Daily Star and Gemini
Bangladesh Bank (Amendment) Ordinance, 2024: Increasing autonomy and redefining board powers to control inflation.
Zila Parishad (Amendment), 2024: Provisions for removing chairmen/members and appointing administrators in special situations.
Upazila Parishad (Amendment), 2024: Allowing government officials to act as administrators in the absence of chairmen.
Local Government (City Corporation) (Amendment), 2024: Rules for removing mayors/councillors and appointing administrators to break stagnation.
Local Government (Paurashava) (Amendment), 2024: Legal basis for replacing elected representatives with government administrators.
Sheikh Hasina National Youth Development Institute (Amendment), 2024: Renaming the institution and restructuring administration.
Bangladesh Energy Regulatory Commission (Amendment), 2024: Reducing direct government intervention in fuel pricing; increasing commission powers.
Special Security Force (Amendment), 2024: Cancelling lifelong special security for the former Prime Minister’s family.
Father of the Nation’s Family Members’ Security (Repeal), 2024: Fully repealing the law providing special security/benefits to Sheikh Mujibur Rahman’s family.
Water Supply and Sewerage Authority (WASA) (Amendment), 2024: Reforms for MD appointments and accountability.
Maximum Age Limit for Direct Recruitment, 2024: Setting the entry age for government/autonomous jobs at 32 years.
National Parliament Secretariat (Interim Special Provisions), 2024: Special administrative measures for the Secretariat after the dissolution of Parliament.
Expatriate Employment and Migrants (Amendment), 2024: Simplifying overseas recruitment and increasing agent accountability.
International Crimes Tribunal (Amendment), 2024: Legal power to trial July killings and allow trials of political parties.
Quick Enhancement of Electricity and Energy Supply (Special Provisions) (Repeal), 2024: Repealing the controversial “Indemnity” law.
National Human Rights Commission (Amendment), 2024: Increasing effectiveness and neutrality in appointments.
Bangladesh Law Officers (Amendment), 2024: Redefining recruitment and criteria for government lawyers (PP, GP).
VAT and Supplementary Duty (Amendment), 2025: Simplifying VAT collection and duty exemptions on certain products.
The Excises and Salt (Amendment), 2025: Amending old laws to protect salt farmers and excise revenue.
Supreme Court Judges Appointment, 2025: Introducing merit-based transparency over political considerations.
International Crimes (Tribunals) (Amendment), 2025: Applying modern evidence laws and increasing transparency.
Certain Laws Related to Universities (Amendment), 2025: Stopping partisan politics and new VC appointment guidelines.
Sheikh Russel Rural Development Academy (Amendment), 2025: Renaming and amending the operational scope.
Sheikh Hasina Rural Development Academy (Amendment), 2025: Renaming the Jamalpur academy and board restructuring.
Bangabandhu Poverty Alleviation & Rural Development Academy (Amendment), 2025: Reform and neutral management of the Gopalganj institution.
এই প্রচ্ছদে বাংলাদেশের বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের তালিকা ও সাথে প্রতিটি বস্তুর অল্প বর্ণনা দেয়া হলো। এগুলো আজ বাংলাদেশের নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে এগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে আইন হিসেবে পাস করা, যা না হলে যেগুলো আপনা-আপনিই নাকোচ হয়ে যাবে। উল্লেখ করতে হবে এই বিষয়গুলো জুলাই সনদের আওতায় পড়ছে না। কিছু বস্তু জুলাই সনদের আওতায় যদি পড়েও থাকে তবে তা সংবিধান সংস্কারের গোত্রে পড়ছে না।
সূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা ও জেমিনি
১. বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা পর্ষদের ক্ষমতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
২. জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: বিশেষ পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অপসারণ এবং প্রশাসক নিয়োগের বিধান করা হয়েছে।
৩. উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: উপজেলা চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
৪. স্থনীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে প্রশাসক নিয়োগের নিয়ম করা হয়েছে।
৫. স্থনীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের স্থলে সরকারি প্রশাসক বসানোর আইনি ভিত্তি প্রদান করা হয়েছে।
৬. শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন এবং এর প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যে এই সংশোধন।
৭. বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: জ্বালানির দাম নির্ধারণে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমানো এবং কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ।
৮. বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা পাওয়ার সুবিধা বাতিল করা হয়েছে।
৯. জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪: শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা প্রদানকারী আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
১০. পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সংস্কার আনা হয়েছে।
১১. সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪: সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সাধারণ প্রার্থীদের জন্য ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
১২. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪: সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
১৩. বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রিক্রুটিং এজেন্টদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধির বিধান।
১৪. আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: ট্রাইব্যুনালকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করার জন্য আইনি ক্ষমতা প্রদান এবং রাজনৈতিক দলের বিচারের সুযোগ রাখা।
১৫. বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪: বিতর্কিত ‘ইন্ডেমনিটি’ বা দায়মুক্তি আইনটি বাতিল করা হয়েছে।
১৬. জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা আনার উদ্যোগ।
১৭. বাংলাদেশ ল অফিসারস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪: সরকারি আইনজীবীদের (পিপি, জিপি) নিয়োগ প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড পুনর্নির্ধারণ।
১৮. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং কতিপয় পণ্যে শুল্ক ছাড়ের বিধান।
১৯. The Excises and Salt (Amendment) Ordinance, 2025: আবগারি শুল্ক ও লবণ চাষিদের সুরক্ষায় পুরাতন আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন।
২০. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫: উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে মেধা ও স্বচ্ছতার নীতি প্রবর্তন।
২১. International Crimes (Tribunals) (Amendment) Ordinance, 2025: ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ায় আধুনিক সাক্ষ্য আইনের প্রয়োগ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।
২২. বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় লেজুড়বৃত্তি বন্ধ এবং ভিসি নিয়োগে নতুন নীতিমালা।
২৩. শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন এবং গ্রামীণ উন্নয়নে একাডেমিটির কার্যপরিধি সংশোধন।
২৪. শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: জামালপুরস্থ এই একাডেমির নামকরণ এবং পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন।
২৫. বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: গোপালগঞ্জের এই প্রতিষ্ঠানটির সংস্কার এবং নিরপেক্ষ পরিচালনা ব্যবস্থা।
২৬. বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: ফেলোশিপ প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মেধার ভিত্তিতে নির্বাচনের নিয়ম কঠোর করা।
২৭. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: প্রতিষ্ঠানের নাম সংশোধন এবং বিজ্ঞান মনস্কতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনিক সংস্কার।
২৮. নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা এবং ভিকটিমদের সুরক্ষায় নতুন ধারা সংযোজন।
২৯. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: বিএসএমএমইউ-এর উচ্চতর চিকিৎসা গবেষণা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন।
৩০. শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ পরিবর্তন এবং একাডেমিক কার্যক্রমের নতুন নীতিমালা।
৩১. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫: সিলেটের এই হাসপাতালের প্রশাসনিক সংস্কার ও নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ।
I have compiled a list of the constitutional reform proposals included in the July Charter. Although this list is a little incomplete compared to the ones in the actual section in the Charter, it highlights the main issues and provides some clarity. According to the latest information, only the constitutional reform proposals of the July Charter will be subjected to the February 12 referendum.
If the “Yes” vote wins in that referendum, the newly formed National Parliament — also acting as the Constitutional Reform Council — will be legally obligated to pass all the bills for these reforms within 180 days from the start of its first session.
If this obligation is not met, that will constitute a constitutional violation, inviting intervention by the Supreme Court. Notably, where some political parties registered “notes of dissent” on certain issues, the elected MPs of the winning party will be able to reflect those objections in the way they draft bills, after a “Yes” vote.
The proposals for legal reforms mentioned in the July Charter that are to be implemented through laws or ordinances, rules and executive orders, have no connection to the referendum and do not affect the Constitution. For that reason, I have not included them in this list.
Constitutional Reform Proposals
1. Term of the Prime Minister
Limit the tenure of the Prime Minister to a maximum of 10 years. No individual, no matter how many terms or how many times, may serve as Prime Minister for more than 10 years in total. A person holding the office of Prime Minister shall not simultaneously hold the position of party leader.
2. President
Introduce substantial changes to the election, impeachment, and pardon powers of the President. Under the new process, the President will be elected not only through party votes but by the votes of members of both the Upper and Lower Houses of the Parliament, enabling the President to maintain a neutral stance.
3. Balance of Powers and Appointment Authority
Ensure a clearly defined distribution of powers between the President and the Prime Minister; in particular, guarantee that the President has independent authority to appoint members of the Election Commission, Anti-Corruption Commission and the Judiciary — instead of appointments being based solely on the Prime Minister’s advice. Include a constitutional provision that the President may appoint the senior-most Judge of the Supreme Court Appellate Division as Chief Justice.
4. Bicameral Parliament
Form an Upper House within Parliament to include experts and distinguished citizens. Seats in the Upper House shall be allocated proportionally based on the votes received by political parties in the National Parliament (Lower House).
5. Article 70 Reform
Ensure that Members of Parliament have the freedom to cast conscience votes in favour of or against their own party on general legislation and policy; however, maintain party discipline for confidence motions (to ensure government stability) and for the passing of money bills.
6. State of Emergency
Provide for the declaration of a state of emergency by the President with the approval of the Cabinet and the presence of the opposition leader or deputy leader when there is a threat to national independence, sovereignty, territorial integrity, a pandemic, or natural disaster. Constitutionally guarantee that fundamental rights such as life, personal liberty and access to justice cannot be suspended under any circumstances during such an emergency.
7. Caretaker Government
Permanently include in the Constitution a provision for a neutral interim government for conducting free and fair elections, selected according to the procedures described in the Charter. The Chief Adviser and other Advisers of this government shall not be affiliated with any political party and shall not be permitted to contest in subsequent elections.
8. Judicial Independence
Provide full constitutional independence to the Judiciary. Remove Executive control over lower courts. Transfer the control of subordinate court Judges from the Ministry of Law entirely to the Supreme Court. Strengthen the Supreme Judicial Council’s authority over Judge tenure and removal. Ensure constitutionally that an independent judicial appointments commission, led by the Chief Justice, will be formed to appoint Judges of the Supreme Court, and include provisions in the constitution regarding appointment commissions for the Appellate Division and High Court Division.
9. Decentralisation of the Supreme Court
Establish permanent circuit benches of the Supreme Court in each divisional city to bring justice closer to the people, reduce excessive centralisation in Dhaka, save time and costs for litigants, and implement effective decentralisation of judicial functions at the divisional level.
10. Expansion of Subordinate Courts at Upazila Level
Clearly define that subordinate courts located in district headquarters (Upazila Courts) remain attached to the District Judges’ Courts. Establish new courts in remaining upazilas in phases, considering population density, geographic conditions, transportation, distance, economic conditions and case loads.
11. Establish a Permanent Attorney Service
Form a permanent attorney service comprising the Supreme Court and district units. Appointments will be made through competitive examinations by the Judicial Service Commission based on merit and ability, replacing the current temporary and politically influenced system.
12. Autonomy of the Election Commission
Ensure the Election Commission is free from direct or indirect influence by the Prime Minister’s office in matters of finance and administration. Provide the Commission full authority to recruit and control its own staff and full financial autonomy to use state funds directly from the consolidated fund rather than being dependent on government oversight for election expenses.
13. Appointment of Election Commissioners
Constitutionally mandate the formation of an independent and neutral ‘selection committee’ for appointing the Chief Election Commissioner and other commissioners. Provide for legislation to hold the Chief Election Commissioner and commissioners accountable and establish a code of conduct.
14. Local Government
To ensure effective decentralisation of state power, transform elected local governments (union, upazila and district councils) into truly autonomous institutions with adequate administrative powers, legal protection, and independent budgets. Provide constitutional guarantees to strengthen local government so it is not dependent on the central government and can ensure local development and good governance, including direct participation of local people in decision-making and development activities. Transfer the responsibility for conducting local government elections to the Election Commission.
15. Increasing Women’s Representation in Parliament
Maintain the existing 50 reserved seats and gradually increase women’s representation to 100 seats. After implementing the July Charter, require each political party to nominate at least 5% more women candidates when nominating candidates for the 300 parliamentary seats.
16. Appointment of an Ombudsman
According to Article 77 of the constitution, introduce an independent Ombudsman to ensure administrative transparency and accountability, and curb abuse of power by the civil service. Provide the Ombudsman full authority to investigate complaints and take necessary action against harassment and corruption faced by citizens.
17. Appointments in the Public Service Commission
Ensure that the Public Service Commission is free from all political and administrative interference at all levels of public service recruitment. Constitutionally guarantee full autonomy of the Commission to build a professional and efficient civil service.
18. Appointment of the Comptroller and Auditor General
Provide full administrative and financial independence to the office of the Comptroller and Auditor General to ensure accurate accounting of every penny of public funds. Make the institution accountable only to Parliament and ensure public transparency through annual public reporting.
19. Anti-Corruption Commission (ACC)
Transform the Anti-Corruption Commission into a constitutional institution free from government influence. Ensure transparency in commissioner appointments and grant full independent powers to investigate and take legal action against corruption at all levels without political interference.
20. Fundamental Principles Of the State
Modernise the principles of the state based on equality, human dignity, social justice, and religious freedom and harmony. Embed the goal of creating an inclusive and non-discriminatory society — reflecting the spirit of the Declaration of Independence — as a fundamental basis of the Constitution.
21. National Identity and Citizenship
Clearly state in the Constitution that citizens of Bangladesh shall be known as “Bangladeshi.” Resolve legal complications related to dual citizenship, simplify citizenship rights for expatriates, guarantee their voting rights in national elections, and protect their participation and investment in policy processes.
22. Coexistence and Dignity of All Communities
Include in the Constitution that Bangladesh is a multi-ethnic, multi-religious, multi-lingual, and multi-cultural country where the coexistence and proper dignity of all communities will be ensured.
23. Language
Retain “Bangla” as the language of the Republic. Constitutionally recognise all other mother tongues used by citizens as commonly used languages of the country.
24. Expansion of the List of Fundamental Rights
According to the recommendations of the Constitutional Reform Commission, revise and expand the list of fundamental rights in Part III of the Constitution. Replace the limited list of prohibited discrimination with a broader list including religion, race, colour, ethnicity, language, culture, gender, political opinion, physical or mental disability, economic status, place of birth, and many other grounds.
25. Parliamentary Approval of International Treaties
Add to the Constitution that international treaties affecting national interest or security shall be approved by the majority vote of both Houses of Parliament.
26. Reapportionment after Census or Every Ten Years
Mandate that the Election Commission shall redraw parliamentary boundaries after each census or approximately every ten years based on population changes to ensure fair and equal representation. Provide for a temporary specialised committee to make this process more transparent, precise, and participatory.
27. Parliamentary Standing Committees
Strengthen standing committees of Parliament by including opposition MPs to ensure oversight and transparency of each Ministry’s activities, and constitutionally require Ministries and authorities to answer to these committees for any irregularities or decisions.
28. Election of the Deputy Speaker
To preserve the true beauty and neutrality of parliamentary democracy, introduce a permanent provision to elect the Deputy Speaker of Parliament from the main opposition party. This strengthens balance and neutrality between government and opposition within the Legislature.
29. Constitutional Amendments
For changes to the fundamental structure of the constitution, require not only parliamentary majority but also a nationwide referendum and direct public approval. Ensure that constitutional amendments receive support from two-thirds of members in both the Upper and Lower Houses and provide constitutional guarantee of public consent for major changes.
30. Transitional and Temporary Provisions
Remove constitutional foundations that legitimised past military rule. Create opportunities to redefine the power and process to add temporary or transitional provisions in the future, significantly altering the constitutional continuity and legitimacy framework.
31. Repeal of Unchangeable or Permanent Restrictions
Abolish so-called “unchangeable” or “permanent” restrictions imposed on the Constitution. By repealing these provisions, transform the Constitution into a dynamic document so that the people of the country can fully amend or refine any part of it according to their needs and the demands of the times.
32. Prevention of Abuse of Power and Illicit Income
Constitutionally create an environment in which no one can enrich themselves using power or legal authority. Strictly control the use of power for personal gain while ensuring that people receive fair recognition for their ability and labour, and that creativity and individual potential fully develop through work. Instead of entrenched corruption and capture, merit and labour shall become the primary foundation for life.
জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংগ্রহ করে আমি একটি তালিকা তৈরি করলাম। এই তালিকাটি সনদের সাংবিধানিক সংস্কারের শাখার কিছুটা আংশিক হলেও আমি মূল বিষয়গুলো তুলে ধরতে পেরেছি এবং কিছু ব্যাখ্যা দিতে পেরেছি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জুলাই সনদের শুধু সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোই ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের আওতায় থাকছে।
সেই গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট জয়যুক্ত হলে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” হিসেবে দ্বৈত দায়িত্ব পালনকারী আগামী জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে শুরু করে ১৮০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকল বিল পাশ করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে।
এর বরখেলাপ হলে সাংবিধানিক লঙ্ঘন ঘটবে যা সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ ডেকে নিয়ে আসবে। উল্লেখ্য যে কিছু রাজনৈতিক দলগুলো যেসকল বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ‘নোটস অফ ডিসেন্ট’ দিয়েছিল, একটি “হ্যাঁ” ভোটের পর নির্বাচিত সংসদে বিজয়ী দলের সাংসদরা বিল প্রস্তাব করার সময়ে তাদের আপত্তিগুলো যেন প্রতিফলিত হয় সেইভাবে এগুতে পারবে।
জুলাই সনদে উল্লেখিত আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও বির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যেসকল আইনি সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো এসেছে, সেগুলোর সাথে গণভোটের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সেগুলো সংবিধানকে স্পর্শ করবে না। সেই জন্য আমি এই তালিকায় সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করলাম না।
সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাব
১. প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ
প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করা। একই ব্যক্তি যত মেয়াদ বা যত বারই হোক, মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন ব্যক্তি একই সঙ্গে দলীয় প্রধানের পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারবেন না।
২. রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতির নির্বাচন, অভিশংশ ও তাঁর ক্ষমা প্রদর্শনের এখতিয়ারে ব্যাপক পরিবর্তন আনা। নতুন এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি কেবল দলীয় ভোটে নয়, বরং সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবেন।
৩. ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়োগ কর্তৃত্ব
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট বণ্টন নিশ্চিত করা; বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন, দুদক ও বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একক পরামর্শের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতির হাতে স্বাধীনভাবে নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রপতি যেন সর্বোচ্চ আদালতের আপীল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করতে পারে সেই সাংবিধানিক বিধান রাখা।
৪. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ
আইন প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ ও গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত করতে সংসদের একটি উচ্চকক্ষ গঠন করা। সেখানে জাতীয় সংসদ বা নিম্নকক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে দেয়া ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন বন্টন করা। এই বন্টনের নাম হচ্ছে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা প্রপোর্শনাল রেপ্রেজেন্টেশন (পিআর)।
৫. ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার
সাধারণ আইন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাংসদদের নিজ দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা বা ‘বিবেক ভোট’ প্রদানের অধিকার নিশ্চিত করা; তবে সরকারের টিকে থাকা নিশ্চিত করতে আস্থাভোট (সরকার গঠন ও মেয়াদ চলাকালীন যেকোনো অনাস্থা প্রস্তাব) এবং অর্থবিল পাসের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের বাধ্যবাধকতা বহাল রাখা।
৬. জরুরি অবস্থা
রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতার প্রতি হুমকি বা মহামারি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষিতে বিরোধী দলীয় নেতা বা উপনেতার উপস্থিতিতে মন্ত্রীসভার অনুমোদন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতির জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার বিধান রাখা। এই রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থাতে যেন নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার মতো মৌলিক অধিকারসমূহ কোনো অবস্থাতেই স্থগিত না হয়, তার সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা।
৭. তত্ত্বাবধায়ক সরকার
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। সনদে বর্ণিত পন্থা অনুযায়ী এই সরকার বাছাই করা। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য উপদেষ্টারা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং তারা পরবর্তী কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।
৮. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
৮. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করা। নির্বাহী বিভাগ থেকে নিম্ন আদালগুলোকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা। নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ, আইন মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে সম্পূর্ণভাবে সর্বোচ্চ আলাদতের উপর ন্যস্ত করা। বিচারকদের পদের মেয়াদ ও তাদের অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপ্রীম জুডিসিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা ও এর এখতিয়ার বৃদ্ধি করা। সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করা যে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন গঠন করা হবে। একই সাথে সর্বোচ্চ আদালতের আপীল বিভাগ ও উচ্চ আদালত বিভাগের বিচারক নিয়োগ কমিশন সংক্রান্ত বিধানকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা।
৯. সর্বোচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণ
সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং বিচার ব্যবস্থার অতিরিক্ত ঢাকা কেন্দ্রিকতা পরিহার করতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সর্বোচ্চ আদালতের স্থায়ী সার্কিট বেঞ্চ স্থাপন করা। এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিচার বিভাগের কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়ন করা।
১০. উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের সম্প্রসারণ
যে সকল উপজেলা জেলা সদরে অবস্থিত (সদর উপজেলা), সে সকল উপজেলা আদালতসমূহ জেলা জজ কোর্টের সাথে সংযুক্ত রেখে সুনির্দিষ্ট করে দেয়া। অবশিষ্ট উপজেলাগুলোর জনসংখ্যার ঘনত্ব, ভৌগলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট, যাতায়াত ব্যবস্থা, দূরত্ব, অর্থনৈতিক অবস্থা ও মামলার সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে আদালত স্থাপন করা।
১১. স্থায়ী আটর্নি সার্ভিস গঠন
সর্বোচ্চ আদালত ও জেলা ইউনিটের সমন্বয়ে একটি স্থায়ী আটর্নি সার্ভিস গঠন করা হবে। এখানে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে, যা বর্তমান অস্থায়ী ও দলীয় বিবেচনাভিত্তিক ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
১২. নির্বাচন কমিশনের স্বায়ত্তশাসন
নির্বাচন কমিশনকে আর্থিক ও প্রশাসনিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি বা পরোক্ষ প্রভাবমুক্ত করা। কমিশনকে নিজস্ব জনবল নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান এবং নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারের মুখাপেক্ষী না হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে বাজেট ব্যবহারের পূর্ণ আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা।
১৩. নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ‘বাছাই কমিটি’ গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা। জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারগণের জবাবদিহিতার জন্য আইন প্রণয়ন ও আচরণবিধি প্রণয়ন করা।
১৪. স্থানীয় সরকার
রাষ্ট্রক্ষমতার কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে একটি নির্বাচিত স্থানীয় সরকারকে (ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ) পর্যাপ্ত প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইনি সুরক্ষা ও স্বাধীন বাজেট বরাদ্দ দিয়ে একটি প্রকৃত স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা।
১৫. জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি
জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমাণ্বয়ে ১০০ আসনে উন্নিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০টি আসন বহাল রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫% বর্ধিত নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা।
১৬. ন্যায়পাল নিয়োগ
সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একটি স্বাধীন ‘ন্যায়পাল’ পদ কার্যকর করা। নাগরিকদের সরকারি হয়রানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা দিতে ন্যায়পালকে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা।
১৭. সরকারি কর্ম কমিশনে নিয়োগ
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রতিটি স্তরে মেধার প্রতিফলন ঘটাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্ম কমিশনকে সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত করা। এই কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি পেশাদার ও দক্ষ আমলাতন্ত্র গড়ে তোলার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষা করা।
১৮. মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগ
রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রতিটি পয়সার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে ‘মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক’ দফতরকে পূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা প্রদান করা। সরকারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এই প্রতিষ্ঠানকে কেবল সংসদের কাছে দায়বদ্ধ করা এবং এর বার্ষিক প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের মাধ্যমে জনগণের তদারকি নিশ্চিত করা।
১৯. দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
দুর্নীতি দমন কমিশনকে সরকারের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করতে একে একটি ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে’ রূপান্তর করা। কমিশনারদের নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যতিরেকে যে কোনো স্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পূর্ণ ক্ষমতা দান করা।
২০. রাষ্ট্রের মূলনীতি
সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্রের মূলনীতিসমূহের আধুনিকায়ন করা। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল চেতনাকে ধারণ করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে সংবিধানের মূল ভিত্তি হিসেবে স্থাপন করা।
২১. জাতীয় পরিচয় ও নাগরিকত্ব
সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা যে বাংলাদেশের নাগরিকগণ ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচিত হবেন। এছাড়া দ্বৈত নাগরিকত্বের আইনি জটিলতা নিরসন করে প্রবাসীদের জন্য নাগরিক অধিকার সহজতর করা, জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগের সুরক্ষা প্রদান করা।
২২. সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা
সংবিধানে যুক্ত করা যে বাংলাদেশ একটি বহু-জাতি-গোষ্ঠী, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংষ্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
২৩. ভাষা
‘বাংলা’কে প্রজাতন্ত্রের ভাষা হিসেবে অটুট রাখা। সংবিধানে বাংলাদেশে নাগরিকদের মাতৃভাষা হিসেবে ব্যবহৃত অন্যান্য সকল ভাষাকে দেশের প্রচলিত ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা।
২৪. মৌলিক অধিকারসমূহের তালিকা সম্প্রসারণ
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারসমূহের তালিকা সংশোধন ও নাগরিকদের অধিকার সম্প্রসারণ করা। কমিশন সুপারিশ করেছে যে সংবিধানে অননুমোদিত বৈষম্যের যে সীমিত তালিকা আছে তা পরিবর্তন করে এমন একটি তালিকা করা হোক, যেখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ, গায়ের রঙ, নৃগোষ্ঠী, ভাষা, সংষ্কৃতি, লিঙ্গ, রাজনৈতিক মত, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা, অর্থনৈতিক অবস্থা, জন্মস্থান – এই সব সহ আরও অনেক কারণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২৫. আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনসভায় অনুমোদন
সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা যে জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভাবিত করে এরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের পর আইনসভার উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।
২৬. প্রতি জনশুমারি বা দশ বছর পর পর সীমানা পুন:নির্ধারণ
নির্বাচন কমিশন প্রতি জনশুমারি বা প্রায় দশ বছর অন্তর জনসংখ্যার পরিবর্তন অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা যে পুনর্নির্ধারণ করবে, তার বিধান রাখা। এই প্রক্রিয়ায় জনশুমারির উপাত্তকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা এবং এলাকাভিত্তিক জনঘনত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুষ্ঠু ও সমতাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ, সুনির্দিষ্ট ও অংশগ্রহণমূলক করতে একটি অস্থায়ী বিশেষায়িত কমিটি গঠনের বিধান যুক্ত করা।
২৭. সংসদের স্থায়ী কমিটি
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোকে বিরোধী দলীয় সাংসদদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করা। প্রশাসনিক নজরদারির পূর্ণ ক্ষমতা কমিটির হাতে ন্যস্ত করা এবং যে কোনো মন্ত্রণালয়ের যেকোনো অনিয়ম বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কমিটির কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য করার বিধান নিশ্চিত করা।
২৮. ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌন্দর্য ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে প্রধান বিরোধী দল থেকে ‘ডেপুটি স্পিকার’ নির্বাচনের স্থায়ী রীতি ও বিধান প্রবর্তন করা। এর মাধ্যমে আইনসভার কার্যক্রমে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সংসদের নিরপেক্ষতা সুসংহত করা।
২৯. সংবিধান সংশোধন
সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেবল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়, বরং দেশব্যাপী ‘গণভোট’ আয়োজন ও জনগণের সরাসরি রায় গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা। যেকোনো সংশোধনী পাসের জন্য জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ উভয়েরই দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের সম্মতির সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা।
৩০. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলি
অতীতের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়া সংক্রান্ত সাংবিধানিক ভিত্তি সরিয়ে ফেলা। ভবিষ্যতে কোনো অস্থায়ী বা ক্রান্তিকালীন বিধান যুক্ত করার ক্ষমতা ও প্রক্রিয়া নতুনভাবে নির্ধারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা, যা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও বৈধতার কাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পারে।
৩১. সংবিধান বিলুপ্তি ও স্থগিতকরণ ইত্যাদির অপরাধ
সংবিধানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া তথাকথিত ‘অপরিবর্তনযোগ্য’ বা ‘স্থায়ী’ বিধিনিষেধগুলো বাতিল করা। এই বিধানগুলো বিলুপ্ত করার মাধ্যমে সংবিধানকে একটি গতিশীল দলিলে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে দেশের মানুষ তাদের প্রয়োজন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের যেকোনো অংশ সংশোধন বা পরিমার্জন করার পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পায়।
৩২. ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনুপার্জিত আয় রোধ
সাংবিধানিকভাবে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে পদমর্যাদা বা আইনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ নিজের পকেট ভারী করতে পারবে না। কোনো সরকারি বা সাংবিধানিক পদে থেকে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ক্ষমতার ব্যবহার করাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি ‘অনুপার্জিত আয়’ বা কোনো পরিশ্রম ছাড়া অবৈধভাবে (যেমন: ঘুষ, দুর্নীতি বা চক্রের মাধ্যমে) অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করা। এর পরিবর্তে এমন ব্যবস্থা করা যাতে প্রতিটি মানুষ তার মেধা ও শারীরিক পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন পায় এবং কাজের মাধ্যমে একজন নাগরিকের সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটে। অর্থাৎ, দখলদারিত্ব ও দুর্নীতির বদলে মেধা ও শ্রমই হবে জীবন গড়ার প্রধান ভিত্তি।
হাউকাউ বিগ্রেড অর্থাৎ ব্যর্থ আফসোস লীগের সকল সমর্থক, সাথে অগণিত বুমবামদের (বামপন্থী এবং/অথবা সাম্যবাদীদের) উদ্দেশ্য করে বলছি যে গত দেড়টি বছরের বেশি সময় ধরে ফেসবুকে হাউকাউ করা ছাড়া আপনারা আর কিছুই সাধন করতে পারেননি। তবে এবার সময় এসেছে বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার।
আমরা যারা বর্তমানে ঘোর আওয়ামী লীগ বিরোধী এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণাঙ্গ নৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছি, তাদের অনেকজনের সাথেই আপনাদের একটি আদর্শগত মিল আছে – জামায়াত বিরোধিতা। উদাহরণস্বরূপ, আমি বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছি কিন্তু একই সাথে আমি রাজনৈতিক ইসলামের চরম বিরোধী।
হাসিনার কারণে আপনারা সহ বাংলাদেশের অনেক মানুষই হয়তো ভোটের অসীম ক্ষমতার কথা জানেনই না বা ভুলে গেছেন। তাই জোর গলায় বলতে চাই যে ভোটের মাধ্যমে আমরা ও আপনারা সকলেই পারব জামায়াতকে শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতার প্রাঙ্গণ থেকেই দূরে রাখতে নয়, তারা যেন প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও উদিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে। তারা প্রধান বিরোধী দল হয়ে গেলে তারা আগামীতে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে স্থান পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে যা আমাদের একেবারেই কাম্য নয়।
আফসোস লীগ যেহেতু নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছে না তো কাকে ভোট দেবেন ভাবছেন? বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে ৫০টির ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত আছে। সুযোগ এসেছে দলকানা না হয়ে আপনার নির্বাচনী এলাকায় কোন মানুষরা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকে চিনতে, তাদের কথাবার্তা শুনতে ও তাদের মতাদর্শের সাথে পরিচিত হতে। তারপর দলকানা মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে জামায়াতের লোকটি ছাড়া আর কাউকে নিজের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী ভোট দিন। এভাবেই জামায়াতকে আপনি এবং আমি প্রতিহত করতে পারব।
জুলাই সনদের প্রসঙ্গে বলতে হবে যে নিছক বিরোধিতা করার জন্যই আপনারা এই সনদের বিরোধিতা করছেন। তার উপর জুলাই সনদের প্রতি জামায়াত (এবং তাদের নতুন শয্যাসঙ্গী এনসিপি)র অবদান সবচেয়ে বেশি বলে আপনারা সনদটির কোনো প্রকার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নও করতে নারাজ। এটাও সত্য যে বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে হাসিনার মতো স্বৈরাচার আর কখনও আবির্ভূত হবে না। তাই আপনারা অনেকেই জুলাই সনদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।
অনেক কারণেই ইতিহাস আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। দয়া করে সেই কারণগুলোর সাথে এই কারণটি আর যোগ করবেন না। জুলাই সনদের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করুন। বিএনপির কারণে এই সনদ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংকুচিত হয়ে গেলেও, তার মধ্যে এখনও যথেষ্ট অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ হয়ে আছে যা আগামীতে বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।
তাই নির্বাচনের দিন জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যেই গণভোটটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জুলাই সনদকে “হ্যাঁ” বলুন। গণভোটটি পাশ হলে আগামী নির্বাচিত সংসদ ও সরকার সনদে উল্লেখিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে। উপসংহার হিসেবে আপনাদের কাছে আবারো আবেদন করছি যে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভোট দিয়ে জামায়াতকে “না” বলুন এবং জুলাই সনদকে “হ্যাঁ” বলুন।
Bangladesh just wrapped up its DUCSU election — and I dug into expert opinions to figure out why candidates backed by Islami Chhatra Shibir won big. Here’s what stood out:
1. Back around 2010–2011, under Sheikh Hasina’s government, the exam system was tweaked so that madrasa students could get into Dhaka University more easily.
2. Student groups linked to the Awami League (Chhatra League) and the BNP (Chhatra Dal) both have a history of hijacking campus spaces. Incidentally, Islami Chhatra Shibir—tied to Jamaat-e-Islami—does not.
3. Their opponents are deeply fragmented—with no unified platform or common stage to organize around.
4. Shibir’s advantage? Solid management and strong financial backing.
5. Their politics are oriented around student needs.
6. They’re great at reaching students in smooth, everyday language that connects.
7. Student voters rejected the politics of labeling or tagging people based on who’s “for” or “against” the Liberation War—a divisive tactic others still used.
So here’s the challenge: it is now up to the opponents of the right-wing Shibir to step up and learn from this. Stop simply opposing—start asking: what can we actually offer to campuses and country – because “don’t vote for razakaars (traitors)” just isn’t going to cut it anymore. Instead, let’s focus on what voters can expect from those opposing collaborator-linked forces.
There are two groups of people opposing Shibir: the left-leaning group and the centrist one. And I’d argue: now is the time for centrists in Bangladesh to rise.
Who are these centrists?
They are people who believe in equal dignity and social status for everyone, people who believe in equal laws and fair justice from the state, people who are peripherally religious—and believe in state-level, religious neutrality; people who reject any form of discrimination—whether it is religion, colour, gender, ethnicity, language, sexual orientation, gender identity or physical disability—and believe everyone mentioned above deserves equal rights and responsibilities.
They are supporters of free markets, private enterprise, global trade, and globalization—but also of progressive taxation so the government can help the people at the lower rungs of the economic ladder. They are people who don’t treat health and education as commodities, but see them as basic human rights, to be provided by the state. They are people who believe in moving forward—not getting stuck in endless debates about Bangladesh’s political history, historical figures, all past achievements and wounds, but to build a culture-rooted, AI-enabled society and state, incorporating all the ideals mentioned above.
——————
*DUCSU = Dhaka University Central Students’ Union.
*Islami Chhatra Shibir = The student wing of Bangladesh’s right-wing political party Jamaat-e-Islami, which historically opposed the Liberation War and sided with the Pakistani army; also follows the Maududi ideology.
বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত ডাকসু* নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির* সমর্থিত প্রার্থীদের বিশাল জয়ের কারণ জানতে গিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য পড়ে যা বুঝলাম তা হলো:
১) ২০১০-২০১১ সালের দিকে শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদে মাদ্রাসার ছাত্ররা যেন সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে তার জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন।
২) আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল উভয়েরই ক্যাম্পাস দখলের ইতিহাস যা ঘটনাচক্রে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেই।
৩) শিবির বিরোধীদের মাঝে শত শত বিভক্তি – কোনো ঐক্যবদ্ধ ভিত্তি ও মঞ্চের অভাব।
৪) শিবিরের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছন্দ।
৫) শিবিরের ছাত্রকেন্দ্রিক রাজনীতি।
৬) সাবলীল ও কথ্য ভাষায় শিবিরের গণসংযোগ।
৭) ছাত্র ভোটারদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ট্যাগিঙের রাজনীতির পরিহার। কে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক আর কে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোক, এই শ্রেণিবিন্যাসের বিভক্তিময় রাজনীতির পরিহার।
বিএনপি সহ বাকি শিবির বিরোধীদের এবার এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের পালা। দক্ষিণপন্থা শিবিরের বিপরীতে বাকিরা শিক্ষাঙ্গন তথা দেশকে কী দিতে পারে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে এবং তা তুলে ধরতে হবে। রাজাকারদের ভোট দিবেন না, এই কথা এখন আর কেউ গিলবে না। রাজাকারের বিপক্ষ শক্তির কাছ থেকে ভোটাররা কী আশা করতে পারে সেটাই হবে আলোচনা।
এই বিপক্ষ শক্তির মধ্যে একটা পক্ষ হচ্ছে বামপন্থী, আরেকটা হচ্ছে মধ্যপন্থী। আমি বলবো যে বাংলাদেশে এখন মধ্যপন্থীদের উত্থানের সময় এসেছে।
কারা এই মধ্যপন্থীগন?
এরা হচ্ছে তারা, যারা সকলের সামাজিক মর্যাদা ও সাম্যতায় বিশ্বাসী, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সকলের জন্য সমান আইন ও ন্যায় বিচারে বিশ্বাসী, তারা ব্যক্তিগত জীবনে গৌণ ধর্মপ্রবণ মানুষ এবং তারা রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী; তারা সকল ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত, ভাষা, যৌন অভিমুখিতা, লিঙ্গ পরিচয় ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ভিত্তিতে কোনো প্রকার পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরোধী – উল্লেখিত সকল মানুষদের সমান নাগরিক অধিকার ও দায়িত্বে বিশ্বাসী।
তারা মুক্ত বাজার, ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগ, বিশ্ব বাণিজ্য ও বিশ্বায়ণে বিশ্বাসী, তারা সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের কাছ থেকে প্রগতিশীল কর আদায়ের মাধ্যমে অর্থনীতির মইয়ের নিচের দিকের সকল জনগণের সহায়তা প্রদানে বিশ্বাসী; তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে পণ্য মনে না করে রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাপ্য দুটি মৌলিক মানবাধিকারে বিশ্বাসী। তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, ঐতিহাসিক ব্যক্তিগন, সকল অতীত অর্জন ও ক্ষতগুলোর কাসুন্দি না ঘেটে, সেগুলো নিয়ে সীমাহীন বিতর্কে না জড়িয়ে, উপরে উল্লেখিত আদর্শগুলো নিয়ে একটি অগ্রগামী, সংষ্কৃতি নির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিয়োজিত হয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী।
——————
*ডাকসু = ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।
*ইসলামী ছাত্রশিবির = বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষ নেয়া মওদুদীবাদের অনুসারী ও দক্ষিণপন্থা জামায়াতে ইসলাম নামের রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন।
চ্যাটজিবিটি দ্বারা রচিত ——————————– মওদুদী মতাদর্শের উৎপত্তি
আবুল আ’লা মওদুদী (১৯০৩–১৯৭৯) ছিলেন একজন ভারতীয় মুসলমান চিন্তক। বিলেতি ঔপনিবেশিক শাসনের সময় ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে তিনি তার মতাদর্শ গড়ে তোলেন। ১৯৪১ সালে তিনি অবিভক্ত ভারতে জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন। তার ধারণা জন্ম নেয় একদিকে পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিকতার প্রতিক্রিয়া হিসেবে, আরেক দিকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিকল্প হিসেবে—কারণ তিনি মনে করতেন, এসব আন্দোলনে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। —
মওদুদীর মতাদর্শ (সংক্ষেপে)
১. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব: মওদুদীর মতে সার্বভৌমত্ব কেবল আল্লাহর। মানুষ বা রাষ্ট্রের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা নেই। মানুষের সব আইন কোরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
২. থিও-ডেমোক্রেসি বা ধর্মভিত্তিক গণতন্ত্র: তিনি পাশ্চাত্যের ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তার মতে, জনগণের ভোটে নেতা নির্বাচিত হতে পারে, তবে তারা পুরোপুরি শরীয়ার অধীন থাকবে।
৩. ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা: ইসলাম কেবল ধর্ম নয়; বরং রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতিসহ জীবনের সবক্ষেত্রকে নিয়ন্ত্রণকারী পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা। ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করা তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
৪. রাষ্ট্রের ভূমিকা: রাষ্ট্রের কাজ হবে শরীয়া আইন কার্যকর করা, সমাজকে ইসলামী নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অ-ইসলামী কার্যকলাপ বন্ধ করা।
৫. ধর্মনিরপেক্ষতা ও পাশ্চাত্য মতাদর্শের বিরোধিতা: ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও উদারনীতি — এসবকে তিনি ইসলামের জন্য হুমকি মনে করতেন।
৬. জিহাদ বা সংগ্রাম: মওদুদীর কাছে জিহাদ মানে শুধু সামরিক লড়াই নয়; বরং এমন এক বৃহৎ সভ্যতাগত সংগ্রাম, যার লক্ষ্য ইসলামকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। জামায়াতে ইসলামীকে তিনি এই সংগ্রামের অগ্রদূত ভাবতেন।
৭. ক্রমিক পরিবর্তন: হঠাৎ সহিংস বিপ্লবের বদলে ধীরে ধীরে সমাজ পরিবর্তন, শিক্ষা, প্রচার ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথকেই তিনি সঠিক মনে করতেন। —
বাংলাদেশে প্রভাব
মূল ভিত্তি: বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী সরাসরি মওদুদীর চিন্তাধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে দেখা ও ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা ছিল এর মূল ভিত্তি।
মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১: জামায়াত স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তাদের মতে, একটি মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানকে ভাঙা ইসলামের পরিপন্থী। তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল এবং নৃশংসতায় জড়িত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্বাধীনতার পর রাজনীতিতে ফেরা: ১৯৭১ সালের পর জামায়াত নিষিদ্ধ হয়। তবে ১৯৭০-এর শেষ দিকে সামরিক শাসকরা (জিয়াউর রহমান ও পরে এরশাদ) ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে দুর্বল করার জন্য তাদেরকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনে। পরে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোট গড়ে সংবিধানে ইসলামী ধারা যুক্ত করতে ভূমিকা রাখে।
সামাজিক বিস্তার: কেবল রাজনীতিতেই নয়, জামায়াত স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, দাতব্য সংস্থা ও এনজিওর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে। শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্তের মধ্যে মওদুদীর ধারণা ছড়িয়ে দেয়।
সমাজে প্রভাব: এতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় এক ধরনের পরিবর্তন আসে। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদ ধীরে ধীরে ইসলামী পরিচয়কেন্দ্রিক বিতর্কে রূপ নেয়।
সমালোচনা ও পতন: ধর্মনিরপেক্ষ শক্তি জামায়াতকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতক মনে করে। ২০১০-এর দশকে যুদ্ধাপরাধের বিচারে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতা দোষী সাব্যস্ত হয় এবং দলটি রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে তাদের ছড়িয়ে দেওয়া মওদুদী চিন্তাধারা আজও বাংলাদেশের ইসলামপন্থী ধারা ও বিতর্কে প্রভাব বিস্তার করে।
সারসংক্ষেপ: ১৯৩০–৪০-এর দশকে উপনিবেশিক ভারতে জন্ম নেওয়া মওদুদীর মতাদর্শ — আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের প্রত্যাখ্যান — জামায়াতে ইসলামীকে তার পরিচয় ও কর্মপন্থা দিয়েছে। বাংলাদেশে এটি জামায়াতকে এক বিতর্কিত কিন্তু স্থায়ী শক্তি বানিয়েছে, যারা রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তির বিরোধিতা করেছে এবং রাজনীতি, শিক্ষা ও সমাজে গভীর ছাপ রেখেছে।
এক্স (X)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বেশ কিছু “পণ্ডিত”দের কাছ থেকে জানতে পারলাম যে একটি মানুষের যৌন অভিমুখিতা এবং/অথবা লিঙ্গ পরিচয় নির্ভর করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার যৌন সংখ্যালঘু (এলজিবিটি)দের বিভিন্ন সংস্থা বা গবেষণার পেছনে কতটুকু ব্যয় করে তার উপর! ট্রাম্প প্রশাসন দ্বারা অর্থায়নের কাটছাট আর প্রচারণার কমতি হবে জেনে তারা এখন প্রফুল্ল যে বাংলাদেশ সহ সবখানেই যৌন সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব বা সংখ্যা এখন কমে আসবে।
এর থেকে আজগুবি বোধশক্তি মানুষের আর কী হতে পারে তা আমার বোধগম্য নয়। এই পণ্ডিতদের ধারণা যে মার্কিন তথা পশ্চিমা দুনিয়ার একটি বিশেষ “এজেন্ডা” ভিত্তিক প্রচারণার ফলে সারা দুনিয়া সহ বাংলাদেশেও অনেক তরুণরা সমকামী হয়ে যাচ্ছে বা সমকামিতার পথ বেছে নিচ্ছে বা সমকামিতায় “আসক্ত” হয়ে যাচ্ছে! কেউ কেউ ছেলে হয়ে মেয়ে হয়ে যাচ্ছে, মেয়ে হয়ে ছেলে হয়ে যাচ্ছে। লিঙ্গ ভাগ এখন বাড়তে বাড়তে একশত একে গিয়ে পৌছেছে!
পশ্চিমা দুনিয়ার একটি স্বার্থান্বেষী মহল (এলজিবিটি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে তদবির করে তাদের এই কুরুচিপূর্ণ, বিক্রিত ও অপ্রাকৃতিক যৌনাচার এবং জীবনধারণকে স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক হিসেবে ঘোষিত করে নিয়েছে। এখন তারা চক্রান্ত করে বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল দেশগুলোর ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার পাঁয়তারায় লিপ্ত! বাংলাদেশে আগে কোনো সমকামী ছিল না, এলজিবিটি বলতে কিছু ছিল না। এখন উদিত হওয়া এই জঘন্য নরকের কীটরা উলঙ্গ হয়ে গায়ে রঙ মেখে পতাকা উড়িয়ে উড়িয়ে “প্রাইড র্যালি” করতে চায়। মদ খেয়ে বা মাদক সেবন করে নাইটক্লাবে নাচানাচি করতে চায়, সবার সাথে সবখানে যৌন মিলন করতে চায়।
বলাই বাহুল্য যে উপরের শেষের বাক্যটি বাংলাদেশের বহু তরুণদেরই সুপ্ত বাসনা – সমকামী (গে), উভকামী (বাইসেক্সুয়াল), বিষমকামী (স্ট্রেইট) যেই হউক না কেন! কিন্তু আমার এই লেখাটির উদ্দেশ্য সেটাকে বিশ্লেষণ করা নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে যে অজ্ঞতা আর ধর্ম দ্বারা অনুপ্রাণিত সমকামী-বিদ্বেষ (হোমোফোবিয়া) ও রূপান্তরকামী-বিদ্বেষ (ট্রান্সফোবিয়া)র আড়ালে যে সত্যগুলো লুকিয়ে রয়েছে তা নিয়ে কথা বলা। আমি বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘুদের নিয়ে প্রচলিত কিছু বদ্ধ ধারণাগুলো একে একে নির্মূল করার চেষ্টা করবো।
১) সমকামিতা একটা মানসিক বা শারীরিক রোগ!
কোনো গোষ্ঠীর তদবিরের কারণে নয়, বরং গবেষণার খাতিরেই পশ্চিমা দুনিয়ার অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সমকামীদের নিয়ে গবেষণা করেছে যে তাদের যে ব্যতিক্রমী যৌন অভিমুখিতা (সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন), অর্থাৎ সমলিঙ্গের প্রতি তাদের যেই যৌন আকর্ষণ, প্রেম ও ভালোবাসা, সেটা কোনো প্রকার রোগের ছকে পড়ে কি না। কোনো প্রকার রোগবালাই হলে, হোক সেটা মানসিক বা শারীরিক, তার অনেক উপসর্গ থাকে যা সহজেই চিহ্নিত করা যায়। মানুষটার উপর সেই উপসর্গগুলো বিভিন্ন রকমের প্রভাব ফেলে। এর উদাহরণস্বরূপ শারীরিক যন্ত্রনা, দুর্বলতা, নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক যন্ত্রণা, ও ভারসাম্যহীনতাকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
অথচ সমকামীদেরকে পর্যবেক্ষণ করে বার বার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে শুধু তাদের এই যৌন অভিমুখিতার কারণে তাদের মধ্যে উপরে উল্লেখিত কোনো শারীরিক উপসর্গ লক্ষ্য করা যায়নি এবং মানসিক যন্ত্রণা উপস্থিত থাকলে তা ছিল পরিবার, সমাজ, ধর্ম ইত্যাদি থেকে অবিরাম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কারণে, স্রোতের বিপরীতে চলতে বাধ্য হওয়ার কারণে। দুটো ব্যক্তি, যাদের মধ্যে স্বাস্থ্যজনিত বা মানসিক কোনো পার্থক্য নেই এবং প্রায় সব কিছুই এক, অথচ তাদের যৌন অভিমুখিতা ভিন্ন (একজন বিষমকামী, আরেকজন সমকামী), তাদের মধ্যে সেই যৌন অভিমুখিতা ছাড়া আর কোনো পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়নি। ব্যাপারটা অনেকটা ডান হাত আর বাম হাত দিয়ে লেখার মাঝেকার পার্থক্যটার মতো।
কাজেই সমকামিতা নামক যৌন অভিমুখিতাকে অন্তত চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে কোনো প্রকার শারীরিক বা মানসিক রোগ বলে নির্ণয় করে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এই পরিবর্তনটা কোনো প্রকার তদবিরের কারণে আসেনি। বিজ্ঞানীরা তদবিরের উপর তাদের কর্ম নির্ধারণ করে চলে না।
২) এলজিবিটিদের মানসিক ও হরমোন চিকিৎসার প্রয়োজন!
সমকামী (গে, হোমোসেক্সুয়াল)
সমকামিতা নামক যৌন অভিমুখিতাটি যেহেতু কোনো রোগবালাইয়ের মধ্যে পড়ে না, স্বাভাবিকভাবেই সেটার চিকিৎসারও কোনো প্রসঙ্গ আসে না। তবে সেটার চেষ্টা যে করা হয়নি তা নয়! কাউন্সেলিং থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক শক, ঝাঁড়ফুক, সম্মোহন, ধর্মীয় বুটক্যাম্প, হরমোন প্রয়োগ, বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে অনিচ্ছা সত্বেও যৌন মিলন, কোনো কিছুই বাদ রাখা হয়নি।
বিগত শতাব্দীর মধ্যম সময়ে কয়েক যুগ ধরে চালিয়ে যাওয়া এই সকল চিকিৎসা নামক প্রহসনগুলো কখনোই কারো যৌন অভিমুখিতা পাল্টে ফেলতে পারেনি। বরং যাদের উপর এই অন্যায়গুলো চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাদেরকে উলটো বিষণ্ণতা এমন কি আত্মহত্যার দিকেও ঠেলে দেয়া হয়েছে। এসকল হৃদয়বিদারক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে একটি মানুষের যৌন অভিমুখিতা, সেটা যেটাই হোক, সেটাকে কোনোভাবেই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ কোনোভাবেই সমকামীদেরকে বিষমকামী বানিয়ে দেয়া যায় না এবং বিষমকামীদেরকে সমকামী বানিয়ে দেয়া যায় না।
রূপান্তরকামী (ট্রান্সজেন্ডার)
যৌন সংখ্যালঘুদের মাঝেই ছোট একটি গোত্র আছে যাদের মানুষরা “জেন্ডার ডিসফোরিয়া” নামক একটি মর্মস্পর্শী অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে জীবন অতিবাহিত করে। এদের বাহ্যিক শরীর একটি ছেলের হলেও, অতি অল্প বয়স থেকেই এরা দিন, রাত, জেগে থাকা এমন কি ঘুমন্ত অবস্থায়েও মনের গভীরতম স্তর থেকে অনুভব করে যে এরা একটি ভুল শরীরে বসবাস করছে। এই উদাহরণটিতে এরা আসলে একটি মেয়ে। ঠিক এই উলটো চিত্রটিও বিরাজমান! এরা কেউ কেউ মেয়ের শরীরে জন্মগ্রহণ করেছে, কিন্তু রন্ধ্রে রন্ধ্রে তারা জানে যে তারা আসলে একটি ছেলে।
এই লেখাটির শুরুতে যে সকল পণ্ডিতদের কথা উল্লেখ করেছি, তারা এই স্পর্শকাতর ভুবনে একটি “আইডিলজি” বা সামাজিক ও রাজনৈতিক আদর্শ এবং “প্রপাগান্ডা” বা প্রচারণা খুঁজে পায়, যেন এটা একটা বহিরাগত ষড়যন্ত্র! কেউ কেউ এই ভুবনটিকে “উয়োউক” সংস্কৃতির বহি:প্রকাশ হিসেবে দেখে। অথচ এরা কেউই ব্যাপারটার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করে না – উল্টো বলে বেড়ায় যে রূপান্তরকামীদের অবদানের ফলে এখন একশত একটা লিঙ্গ প্রকার আবিষ্কার করা হয়েছে!
জেন্ডার ডিস্ফোরিয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে কোনো মানসিক বা শারীরিক রোগ হিসেবে নির্ণয় করা হয়নি। অতএব এর কোনো চিকিৎসারও প্রসঙ্গ অবান্তর। তবে যারা জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া অনুভব করে, তাদের যন্ত্রণা অসহনীয়। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ বেশ প্রসারিত এবং প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এরা সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা হরমোন প্রয়োগ করেই ক্ষান্ত থাকবে, না কি দীর্ঘ অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে শরীরটাকে বদলে ফেলবে যাতে মনের ভেতরের মানুষটা বাইরের মানুষটার সাথে এক হয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ এদের বাহ্যিক লিঙ্গ আর অন্তর্নিহিত লিঙ্গ পরিচয়ের অসামঞ্জস্যতা দূর হয়ে যেতে পারে। সিদ্ধান্ত যেটাই হবে, সেটাই তাদেরকে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়ার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিবে। রূপান্তরকামীদের ক্ষেত্রে আর কোনো চিকিৎসার প্রসঙ্গ আসে না।
অদ্বৈত (নন-বাইনারি)
যৌন সংখ্যালঘুদের মধ্যে আরেকটি গোত্র আছে যারা জেন্ডার ডিস্ফোরিয়ার কারণে নিজেদেরকে নারী বা পুরুষ, এই ছকেই ফেলতে পারে না। তাদের বাহ্যিক শরীর যেটাই থাকুক না কেন, তারা নিজেকে নারীও ভাবতে পারে না, পুরুষও ভাবতে পারে না। এদের লিঙ্গ পরিচয় অনির্ধারিত। এরা অদ্বৈত। এরা এইভাবেই নিজেদেরকে নিয়ে সন্তুষ্ট। এখানেও কোনো রোগবালাই নেই এবং কোনো প্রকার চিকিৎসাও অপ্রাসঙ্গিক।
আন্তলিঙ্গ (ইন্টারসেক্স)
কারো কারো জন্ম হয় এমনভাবে যে তাদের যৌনাঙ্গ পুর্ণাঙ্গভাবে নারী বা পুরুষদের মতো নয়, অথবা তাদের যৌনাঙ্গে নারী ও পুরুষ উভয়েরই বৈশিষ্ট বিদ্যমান। এদের জন্মের সময়ে তাদের অভিভাবকগণ ডাক্তারের সাহায্যে কী পদক্ষেপ নেয় তা নৈতিকতা বা নীতিশাস্ত্রের আওতায় এসে পড়ে৷ কিন্তু এরাও এলজিবিটি সম্প্রদায়েরই অংশ এবং এদেরও মানবাধিকার সকল মানুষের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
৩) বাংলাদেশ সহ সারা দুনিয়াতে এলজিবিটি হওয়া একটা ফ্যাশন বা চল!
স্রোতের বিপরীতে চলে, নিজের সাথে যুদ্ধ করে, পরিবার, সমাজ এমন কি রাষ্ট্রের কাছ থেকেও নিগ্রহের শিকার হয়ে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার এত ফ্যাশন করার শখ হয়েছে, পণ্ডিতদের কাছে সেই প্রশ্নটাই রাখছি। যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় সংক্রান্ত জ্ঞানের পরিধি সময়ের সাথেই বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী একটি মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ণিত হয় তার বিভিন্ন বংশাণুর (জিনের) একটি জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলন হিসেবে। অর্থাৎ সমকামীদের ক্ষেত্রে তার জিনগুলো একভাবে একত্রে কাজ করে। উভকামী ও বিষমকামীদের ক্ষেত্রে তাদের বংশাণুগুলো ভিন্নভাবে একত্রে কাজ করে। যে সকল পণ্ডিতগণ বলে বেড়ায় যে কোনো “গে জিন” আবিষ্কৃত হয়নি, তাদেরকে জানিয়ে রাখছি যে কোনো “স্ট্রেইট জিন”ও আবিষ্কৃত হয়নি। জেন্ডার ডিসফোরিয়াও একটি মানুষের বিভিন্ন বংশাণুর একটি জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলন। এটা নিয়ে আরো অনেক গবেষণা চলছে।
৪) সারা দুনিয়া সহ বাংলাদেশেও সমকামিতাকে “প্রমোট” করা হচ্ছে!
একটি মানুষের যৌন অভিমুখিতা যেহেতু তার বিভিন্ন বংশাণুর একটি জটিল মিথস্ক্রিয়ার ফলন, সেহেতু সমকামিতাকে “প্রমোট” করার ধারণাটি একেবারেই হাস্যকর এবং অবাস্তব। ইহাকে প্রমোট করা যায় না এবং প্রমোট করারও কিছু নেই। কাওকে প্রলোভন দেখিয়ে সমকামী বানিয়ে দেয়া যায় না এবং ঠিক তার উল্টাটাও সত্যি। কিছু অনুকাহিনী অনুযায়ী শোনা যায় যে অমুক ছেলেটি কোনো বড় ভাই, চাচা-মামা-ফুপা, হুজুর বা বন্ধু দ্বারা ছোট বেলায় ধর্ষিত হয়ে বড় হয়ে সমকামী হয়ে গিয়েছে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই৷ এই ক্ষেত্রে ছেলেটি বরাবরই সমকামী ছিল। ধর্ষকটি সমকামী, উভকামী বা শিশুকামী (পেডোফাইল) জাতীয় কেউ একজন ছিল। মেয়ে সমকামীদের বেলায়েও একই যুক্তি প্রযোজ্য। অন্য কোনো নারীর স্পর্শে কেউ লেজবিয়ান হয়ে যায়নি।
৫) কেউ কি আসলেই সমকামী হয়ে জন্মগ্রহণ করে?
এই ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এখনও এক জায়গায় পৌছতে সক্ষম না হলেও এটা বলা যায় যে যেহেতু একটি মানুষের বিভিন্ন বংশাণুর জটিল মিথস্ক্রিয়া তাকে গে, স্ট্রেইট বা বাইসেক্সুয়াল বানিয়ে দেয়, সেহেতু সংশ্লিষ্ট যৌন অভিমুখিতাটি জন্মের আগে নির্ধারত হয়েছে, না কি জন্মের পরে, তা একেবারেই মুখ্য নয়। যেটা মুখ্য, তা হচ্ছে যে যৌন অভিমুখিতাটি যখনই নির্ধারিত হউক না কেন, তা একবার নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর আর বদলানো যায় না।
৬) বাংলাদেশে এলজিবিটিদের সংখ্যা নগণ্য!
নগন্য ধারনাটা আপেক্ষিক কারণ একজন মানুষও একটি মানুষ। যেহেতু নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে পৃথিবীর ৫-১০% মানুষ যৌন সংখ্যালঘু, এবং এদের বংশাণুগত বৈশিষ্টগুলো দেশ, সংস্কৃতি ও ধর্মগুলোকে আমলে নেয় না, সেহেতু নির্দিধায় বলা যায় যে বাংলাদেশের জনসংখ্যারও ৫-১০% যৌন সংখ্যালঘু। পৃথিবী জুড়ে এই শতাংশের হারটি বাড়ছে বা কমছে বলে কোনো তথ্য নেই। বলা যায় যে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতিতে এই সংখ্যাটি বরাবরই বিদ্যমান ছিল, আছে এবং থাকবে।
৭) সমকামিতা অপ্রাকৃতিক!
সমকামীরা যেহেতু প্রকৃতিরই অংশ সেহেতু তাদের বংশাণুগত এবং অপরিবর্তনীয় যৌন অভিমুখিতাটি অবশ্যই প্রাকৃতিক। তাছাড়া প্রাণী জগতে সমকামিতা বিস্তর। ব্যক্তিগত পর্যায় কার কাছে কোনটা প্রাকৃতিক সেটা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। একজন সমকামীর পক্ষে বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে যৌন মিলন করাটা একেবারেই অপ্রাকৃতিক বা আনন্যাচারাল। বরং সমলিঙ্গের কারো সাথে যৌন মিলন করাটাই স্বাভাবিক। আবার বিষমকামীদের পক্ষে সমলিঙ্গের কারো সাথে যৌন মিলন করাটা একেবারেই অপ্রাকৃতিক বা আনন্যাচারাল। বরং বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে যৌন মিলন করাটাই স্বাভাবিক।
৮) সমকামীরা বাচ্চা দিতে পারে না। কাজেই সমকামিতা প্রাকৃতিক হলো কীভাবে? এটা তো প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজ!
এই বিষয়ে বিবর্তন বিশেষজ্ঞরা বুঝিয়েছেন যে জন্ম দেয়াটাই প্রাণীর মূল উদ্দেশ্য নয়৷ প্রাণীটা যেন সময়ের সাথে সাথে টিকে থাকে পারে সেটাই প্রাণীর মূল উদ্দেশ্য। বাচ্চা জন্ম দেয়াটা সেই উদ্দেশ্য হাসিল করার একটি পন্থা, কিন্তু একটি মাত্র পন্থা নয়! যাদের জন্ম দেয়া হচ্ছে তাদের লালন-পালন এবং সার্বিক বিকাশেরও প্রয়োজন আছে৷ প্রাণী জগতে জন্ম দিতে পারে না এমন প্রাণের অবদান দেখা গিয়েছে একটি প্রাণী গোষ্ঠীর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে। মানুষের ক্ষেত্রে ইতিহাস জুড়ে যৌন সংখ্যালঘুরা সভ্যতাকে যা দিয়ে এসেছে তাতে মানব সভ্যতাই সমৃদ্ধ হয়েছে যা বিবর্তনে টিকে থাকারই প্রয়াস। ইতিহাস জুড়ে এই যৌন সংখ্যালঘুদের কিছু নাম হচ্ছে:
আলেকজ্যান্ডার দ্যা গ্রেট
লিওনার্দো দা ভিঞ্চি
আলেন টুরিং
চায়কফস্কি
ঋতুপর্ণ ঘোষ
আধুনিক উপায়ে সমকামীরা এখন বাচ্চা নিতে পারছে অনেকটা বন্ধ্যা বিবাহিত দম্পতিদের মতো করে। তাদের এই বাচ্চা নেয়াটা অপ্রাকৃতিক হলে বন্ধ্যা দম্পতিদের বাচ্চা নেয়াটা বা যৌন মিলন করাটাও অপ্রাকৃতিক, যা একেবারেই উদ্ভট একটি ধারণা। তাছাড়া পৃথিবীতে এত এতিম শিশু পড়ে আছে। তাদের কাওকে সমকামীরা দত্তক নিলে মানব জাতিরই তো কল্যান! সেই শিশুরা যে বড় হয়ে সমকামী হয়ে যাবে সেটার একেবারেই কোনো ভিত্তি নেই। তবে কাকতালীয়ভাবে হলে কোনো সমস্যাও নেই। আর জেনে রাখা উচিৎ যে বিষমকামীদেরও একাংশ বিভিন্ন কারণে কোনো বাচ্চা জন্ম না দিয়েই মারা যায়।
৯) আপনার বাবা বা মা সমকামী হলে আপনি পৃথিবীতে আসতেন না!
না আসলেই কি পৃথিবীটা জনশূন্য হয়ে যেত? আমি না আসলেও অন্য ঘরে অনেক প্রতিভাবান মানুষের জন্ম হতো এবং মনুষ্যজাতি সমৃদ্ধ হয়ে টিকে থাকতো। সবাই যে সমকামী হবে সেটা যে প্রকৃতি মা চেয়েছে তার কোনো ইঙ্গিত নেই। তাছাড়া বাবা বা মা সমকামী হলে অন্য কোনো যুগলের মাধ্যমেও আমার/আপনার জন্ম হতে পারত।
১০) পর্ণ ছবি ও আন্তর্জাল (ইন্টার্নেট) ও পশ্চিমা জনপ্রিয় সংষ্কৃতির আগ্রাসন প্রসারিত হওয়ার পর বাংলাদেশে এলজিবিটিদের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে!
সেটা কখনোই সম্ভব না। যেহেতু যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয়ের ভিত্তিটি জৈবিক, সেহেতু কে কী পর্ণ দেখলো, মার্কিন প্রশাসন কোন সংস্থাকে কত টাকা অনুদান করলো ইত্যাদি একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। আধুনিকতার এই সব ছোঁয়ার আগেও বাংলাদেশে সমকামী, রূপান্তরকামী সকলেই ছিল। কিন্তু অধিকাংশজনই নিজের জীবনে কী ঘটছিল তা সহজে অনুধাবন করতে পারেনি। তারা জানতো যে তারা আর পাঁচ-দশটা মানুষের চেয়ে যথেষ্ট ভিন্ন। এই ভিন্নতা থেকে মুক্তি পেতে তারা অনেকেই দিনরাত তাদের সৃষ্টিকর্তার কাছে কেঁদেছে৷ কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে৷ অনেকেই বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে বিয়ে করে পরিবার ও সমাজকে চুপ রেখেছে৷ কিন্তু সেই বিবাহিত জীবন ছিল অপূর্ণ, ব্যক্তিগত অত্যাচারে ডুবন্ত, মিথ্যায় জর্জরিত এবং পরকিয়ায় কলুষিত।
তথ্যপ্রযুক্তি ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের যুগে বহির্বিশ্বের সাথে তরুণ সমাজের ঘন পরিচিতি স্থাপিত হওয়ার পর এখন আর কেউ নিজের জীবন নিয়ে রহস্যের মধ্যে পড়ে থাকে না। যারা এলজিবিটি, তারা আগের চেয়ে অনেক সহজেই বুঝে ফেলে যে তারা সেটা। এর সাথে যুক্ত হয়েছে যৌন সংখ্যালঘু হিসেবে তাদের যে তাদের মতো করে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, সেই সচেতনতা। এখন আর সমাজের অন্তরালে বাস করার কোনো যৌক্তিকতা নেই৷ সমাজের চোখে একটি মিথ্যা চেহারা প্রদর্শন করে বাস করার কোনো কারণ নেই। এই সকল কারণেই পণ্ডিতদের কাছে মনে হচ্ছে যে বাংলাদেশে আস্তে আস্তে সমকামীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে আত্মপ্রকাশ করে নিজেদের কাছে সৎ হয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে এমন সমকামীদের সংখ্যা বাংলাদেশে বাড়ছে। আগে সমকামীরা মিথ্যা জীবনযাপন করতো।
১১) সমকামীরা বাংলাদেশ সহ সারা দুনিয়াতে এইডস রোগ ছড়াচ্ছে!
এই দোষ সমকামী, উভকামী, বিষমকামী সকলেরই। বাংলাদেশে যেসকল ট্রাক চালকরা নিয়মিত পতিতালয়ে যায় কিন্তু যৌন মিলনের সময়ে কন্ডম ব্যবহার করে না, তারা কি এইডস ছড়াচ্ছে না? যৌন রোগ ছড়ানো রোধ করার দায়িত্ব সকলের। এই বিষয়ে বিশ্বের সকল সমকামীরাই আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। কন্ডম ব্যবহার করা ছাড়াও বর্তমানে প্রতিরোধক ওষুধও বের হয়েছে। একজনের এইডস ধরা পড়লে সে যেন আরেকজনকে সেটা দিয়ে সংক্রমণ না করে তার জন্য পরামর্শ দেয়া আছে।
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন, এইড থেকে বাঁচুন – এই সকল বুলি আওড়িয়ে যৌন রোগের ব্যাপকতা কমানো সম্ভব নয় কারণ ধর্মের ঢালের নিচেই মানুষ (সমকামী, উভকামী এবং বিষমকামী)রা “অপকর্ম” করে। রোগবালাই ছড়ানোর পথ বন্ধ করার পন্থা হচ্ছে নিরাপদ যৌনাচার নিশ্চিত করা অর্থাৎ যৌন মিলনের সময়ে অন্তত একজন পুরুষ থাকলে সেখানে কন্ডমের ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিবাহিত দম্পতি, যারা একে অপরের প্রতি অনুগত, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার কারণ নেই। তবে তাদের বেলায় কন্ডমকে একটি জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। জেনে রাখা উচিৎ যে এইচআইভি ভাইরাস বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়াতে পারে, যার মধ্যে যৌন মিলন একটি।
১২) বাংলাদেশে সমকামিতা স্বীকৃতি পেলে এবং সমকামী যুগলদের সন্মান করলে আমাদের পরিবার ও পারিবারিক মূল্যবোধ ধ্বংস হয়ে যাবে। পারিবারিক বন্ধন নষ্ট যাবে!
৫-১০% মানুষ সমাজের বাকি মানুষদের পারিবারিক জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তার যুক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর পশ্চিমা দুনিয়াতে সমকামী দম্পতিদের স্বীকৃতি দেয়ার পর সমকামীরা বেশি করে সম্পর্কে আবদ্ধ হতে শুরু করেছে৷ বিষমকামী সম্পর্কগুলোর উপর তা একেবারেই কোনো প্রভাব ফেলেনি। পরিবার বলতে কিছুরই ধ্বংস হয়নি, বরং পরিবারের সংজ্ঞাটি একটু বিস্তৃত হয়েছে যা সমাজকেই করেছে আরও শক্তিশালী। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যে পশ্চিমা দুনিয়াতে দেখা গেছে যে বাচ্চারা একটি বিষমকামী যুগলের মধ্যেকার ভালোবাসা আর একটি সমকামী যুগলের মধ্যেকার ভালোবাসার মধ্যে একেবারেই কোনো পার্থক্য খুঁজে পায় না।
১৩) সমকামীরা এবং রূপান্তরকামীরা বাংলাদেশকে ধ্বংস করে ফেলবে!
সমকামী আর রূপান্তরকামীরা পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত ধ্বংস করেনি। আর লুত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কাহিনীটি শুধু একটি কল্পকাহিনী মাত্র। এর কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণাদি নেই। তাছাড়া যারা এই সকল উদ্ভট ভীতিতে ভুগে, তারা ঠিকই পশ্চিমা দেশগুলোর ভিসার জন্য সবার আগে কাতারে দাঁড়ায়, যেই দেশগুলোতে যৌন সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
১৪) সমকামীরা খালি সেক্স, সেক্স, আর সেক্স নিয়ে ব্যস্ত। চুপচাপ করলেই তো পারে। এত স্বীকৃতির কি আছে?
সারাক্ষণ ইয়ে করার কথা কি শুধু সমকামীরাই ভাবে? তাছাড়া সমকামীদের অধিকারকে খালি সেক্স করার অধিকার ভাবলে সেটা অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু হবে না। সমকামীরাও ভালোবাসতে জানে, একজন জীবন সঙ্গীর বাসনা ধারণ করতে পারে, তার সাথে জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখতে পারে। সেই ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতি, সুখ ও দু:খ বিষমকামীদের বেলায় যা, সমকামীদের বেলায়েও ঠিক তা।
১৫) বাংলাদেশে এই পশ্চিমা হালচাল গ্রহণযোগ্য না!
বাংলাদেশে পশ্চিমা কোন হালচালটার ছোঁয়া লাগেনি? তবে দেশে যৌন সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানিবাধিকার নিশ্চিত হওয়া মানেই ঢাকার রাস্তায় প্রাইড পদযাত্রার অনুমতি নয়, যদিও দেশীয় কৃষ্টির প্রতি সন্মান রেখেই সেই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত করা যায়। সমকামীদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হওয়া মানে দেশের দন্ডবিধি থেকে ৩৭৭ ধারা অপসারণ করা। সকল যৌন সংখ্যালঘুদের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হওয়া মানে সংবিধানে বৈষম্য করা যাবে না এমন উল্লেখিত নির্ণায়কের তালিকায় যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয়কে অন্তর্ভুক্ত করা। আমরা তাহলে নিজের পায়ের নিচে নিজের দেশের মাটিটা খুঁজে পাব। চাকুরিদাতা বা বাড়িয়ালার কাছ থেকে বৈষম্য থেকে রক্ষা পাব। পরিবার, আত্মীয় বা প্রতিবেশির কাছ থেকে শারীরিক হুমকির মধ্যে পড়লে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আশ্রয় চাইতে পারব। সমকামীদের অধিকার মানেই নাইটক্লাব, মদ ও মাদকসহ ভোগ বিলাসের জীবন নয়। সমকামীরাও দাম্পত্য জীবনযাপন করতে জানে। তাদের অধিকার হচ্ছে তাদের সেই ভালোবাসার পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি।
১৬) বাংলাদেশে সমকামিতার বৈধতা দিলে ইসলাম ধর্মের অবমাননা হবে!
এই কথাটি ইসলামি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেই দেশের সংবিধান, দন্ডবিধি ও দেওয়ানিবিধি শরীয়া আইন দ্বারা গঠিত। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ধারণাটির কোনো স্থান নেই যদিও দেওয়ানিবিধিতে নারী ও পুরুষদের নিয়ে কিছু ধর্মীয় বিষয়কে আমলে নেয়া হয়েছে। যেসকল সমকামীরা ইসলাম বা অন্য যে কোনো ধর্মের অনুসারী, তাদের যৌন অভিমুখিতা আর ধর্মবিশ্বাসের বিরোধটির সামাল দেয়ার এখতিয়ার শুধু সেই সমকামীদের, রাষ্ট্রের না। আর ইসলাম ধর্ম কি এতটাই দুর্বল যে ৫-১০% মানুষের কারণে সেই ধর্মটির ক্ষতি সাধন হবে?