
রিয়াজ ওসমানী
২৬ অক্টোবর ২০২৩
বিগত ৩০ বছর ধরে দেখলাম ফিলিস্তিনি চরমপন্থী গোত্র হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ কীভবে অসলো চুক্তিকে বর্জন করে ইসরায়েলিদের উপর অবিরাম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ধীরে ধীরে ইসরায়েলিদেরকে ডানপন্থীতে রূপান্তরিত করে। ইসরায়েলিদের মাঝেও পশ্চিম তীরে কট্টরপন্থী বসতিস্থাপনকারীরা অসলো চুক্তির বিরুদ্ধেই কাজ করেছে। আজ অবস্থা শোচনীয়। দুই রাষ্ট্রের দর্শন থেকে পুরা অঞ্চলটাই এখন লক্ষ মাইল দূরে।
প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতিগন বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে বারাক ওবামা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মধ্যপন্থীদের একত্রিত করে তাদেরকে একটি চূড়ান্ত বন্দোবস্তে আনার চেষ্টা বহুবার করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এই মধ্যপন্থীরা দুই রাষ্ট্রের সীমানা, নিরাপত্তা বিষয়ক জটিলতা ইত্যাদির ব্যাপারে কখনো এক মত হতে পারেনি। তাদের উপর বাইরে থেকে কোনো বন্দোবস্ত চাঁপিয়ে দেয়া যাবে না। বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন আবারও চূড়ান্ত বন্দোবস্তের উদ্যোগ নিলে তার কাছে কী এমন যাদুমন্ত্র আছে যেটা ক্লিন্টন এবং ওবামার কাছে ছিল না?
আমি মোটেও আশাবাদী নই যে আমরা অল্প কোনো সময়ের মধ্যে দুটি রাষ্ট্রের সমাধানে পৌছতে পারবো। হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ সেটা হতে দেবে না (তারা পুরা ইসরায়েলের ধ্বংস চায়) এবং ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখন আর দুই রাষ্ট্রে বিশ্বাস করে না আর সেটা চায়েও না। অসলো চুক্তির সময়ে ইসরায়েলি বামপন্থী নেতা ইৎজাক রাবীন ও পিএলওর ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে দুই রাষ্ট্র কায়মের চেষ্টাকে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ নিরীহ ইসরায়েলিদের উপর অবিরাম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে নস্যাৎ করে ফেলে। ফলে ইসরায়েলিরা এখন আর সেই পথে আগাতে চায় না।
২০০৫ সালে ইসরায়েলি নেতা এড়িয়েল শারনের নেতৃত্বে ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে জোরপূর্বক সকল ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদেরকে সরিয়ে নেয় এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়। এখানে উদ্দেশ্য ছিল গাজা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন শুরু হউক। কিন্তু এর বিনিময়ে গাজায় ঘাটি মেরে বসা হামাস ইসরায়েলে অবিরাম রকেট ছুড়তে শুরু করে। তারপর ইসরায়েলের প্রতিশোধে গাজায় ৩০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয় এবং গাজাকে অবরূদ্ধ করে ইসরায়েল ও মিশর সেই উপত্যকাটিকে আজকের উন্মুক্ত কয়েদখানায় পরিণত করে।
গাজা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার পর ইসরায়েলিদের যেই অভিজ্ঞতা হলো (হামাসের রকেট), তারপর তারা এখন আর পশ্চিম তীর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার কথা কল্পনাও করতে পারে না। বরং মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক আপত্তি উপেক্ষা করে সেখানে ইহুদি ডানপন্থীদের বসতিস্থাপন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেখানে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বেড়েই চলেছে। বর্তমান ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের উপর এরকম কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করেই অগ্রসর হতে চায় যা কখনোই তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এবং এতে ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কোনো দিন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না, ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই জট থেকে বের হয়ে আসার পথ এখন আর কারোর জানা নেই।