রিয়াজ ওসমানী

২৭ অক্টোবর ২০২৩

আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে উৎপাদিত খাদ্যের ঊর্ধ্বতন মূল্যের কথা জিজ্ঞেষ করা হলে তারা ব্যাপারটা উড়িয়ে দেয় এই বলে যে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। তর্কের খাতিরে ধরলাম যে জনগণের অর্ধেকের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে (তাদের মধ্যে একাংশের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে)। তো বাকি অর্ধেক জনগণ কি না খেয়ে মরবে বা পুষ্টিহীণতায় ভুগবে?

কিছু মানুষের বাড়তি ক্রয় ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বাজার চক্রের সাথে জড়িত অল্প কিছু ব্যবসায়ীরা বাজারটাকে নিয়ন্ত্রণ করে যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী করে রেখেছে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা কি সরকারের আছে? নেই! এবং আমাদের বর্তমান বানিজ্যমন্ত্রীর স্বীকারক্তিতেই আমরা তা জানতে পারি। এবং তার কারণ এই ব্যবসায়ীরা বর্তমান সরকারেরই মদদপুষ্ট যা মাফিয়া প্রশাসনের একটি রূপ মাত্র।

এই সরকার দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সংবিধানের চারটির মূল স্তম্ভগুলোর প্রায় সব কটি থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই স্তম্ভগুলোর একটি হচ্ছে সমাজতন্ত্র। তবে খাটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি যা সাম্যবাদী অর্থনীতির সামিল, তা কখনোই চাই না কারণ সেটা হচ্ছে একটি ব্যর্থ রূপরেখা। মুক্তবাজারই চাই। কিন্তু মুক্তবাজারের যেই কঠিন দূর্বলতাগুলো রয়েছে তার প্রায় সব কটিই বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যমান। যার ফলে বাংলাদেশে মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য বিপদজনক হারে বেড়েই চলছে। এ দূর্বলতাগুলো নিরাময় করার অনেক প্রতিষ্ঠিত পন্থা রয়েছে যার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ এই সরকারকে নিতে দেখা যাচ্ছে না। সেই নিরাময়গুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনা।

শেখ হাসিনা বড় বড় গলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন। আমি নিশ্চিত যে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর বাংলাদেশে বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য অবলোকন করে ওপার থেকে বঙ্গবন্ধু চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

Leave a comment