গণতন্ত্রের মৃত্যু

রিয়াজ ওসমানী

১৪ জানুয়ারী ২০২৪

দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের প্রতি শেখ হাসিনার সহনশীলতা, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, সাথে তার আশীর্বাদে একটি অলিগার্ক (অতি বিত্তশীল) শ্রেণি গঠন, সংসদীয় প্রার্থী বাছাই করা যারা প্রায় একচেটিয়াভাবে সক্রিয় ব্যবসায়ী, দেশে ক্রনি পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠা করা, বিচারবিভাগ সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ কুক্ষিগত করা, এবং বাংলাদেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকে এমন মাত্রায় পৌঁছাতে দেয়া যা আগে কখনো দেখা যায়নি – এসকল কূটচালের ফলস্রুতিতে সাধারণ ভোটারদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, এমন একটি ক্ষমতার ভিত্তি থেকে হাসিনা এই নির্বাচনের পর উপকৃত হবেন। এবং এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করবে একদিকে দেশের সমাজতান্ত্রিক/সাম্যবাদীরা, অন্যদিকে ইসলামপন্থীরা। গত ১৫ বছরে তিনি দেশকে এই জায়গাটিতে নিয়ে গেছেন। বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প এবং জিডিপি পরিসংখ্যান একটি পার্শ্ব প্রদর্শনী মাত্র। আমাদের একটি বিরোধী দল রয়েছে যাদের সাম্প্রতিক রাজনীতি আরও মধ্যপন্থী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদার, যারা সম্ভবত পরিবর্তন আনতে পারে (যদিও তাদেরও অতীত উল্লেখযোগ্যভাবে নিন্দনীয়)। কিন্তু সেই দলটির পুরোটাই এখন বেশির ভাগ গায়েবী মামলায় কারাগারে। কাজেই সেই সুযোগটাও তাদের হাতে নেই।

বাংলাদেশ আর রাশিয়ার মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নেই। রাশিয়ার মতোই বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান হচ্ছে একজন কতৃত্বপরায়ণ দানব, যিনি দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতায় আছেন জনগণের অর্থবহ ভোট ও সমর্থন ব্যতিত। গণতন্ত্র লোপাট গেছে বহু আগে। এখন তার ক্ষমতার উৎস হচ্ছে পুলিশ তথা সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ এবং নব নির্মিত অলিগার্ক শ্রেণি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এখন কুক্ষিগত করা বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে দলীয়করণ করা বাকি রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিপীড়িত। কালো আইনের আদলে দেশে নেই প্রকৃত বাকস্বাধীনতা – নেই মুক্ত, পক্ষপাতহীন ও অনুসন্ধানভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ। দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনা বন্দনাকারী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী যারা দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চেহারাকে করে ফেলেছে অসুস্থ। সকল মৌলিক মানবাধিকার এখন এই সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্যই প্রদত্ত।

Leave a comment