রিয়াজ ওসমানী

২৮ জুন ২০২৪

বাংলাদেশ থেকে ছাত্র ভিসা, পর্যটক ভিসা, বিভিন্ন কর্মী ভিসায় গত এক দুই বছরে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে, যার ৯৫%ই নাকোচ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে আয়োজন করে যুক্তরাজ্য সরকার এখন এই মানুষদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।

সকলের বোঝা উচিৎ যে যারা এই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে, তাদেরকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। দেশে তাদের জান মালের উপর যে হুমকি আছে, তা বলা যাবে না। শুধু একটি উন্নত জীবনের উদ্দেশ্যেই এই প্রচেষ্টা।

এর ফলে বাংলাদেশে কোনো কারণে সত্যিকার অর্থে যাদের জান মালের উপর হুমকি আছে, তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ অনেক খানি সংকুচিত হয়ে যাবে। বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতে অনেকেই আর যুক্তরাজ্যের ছাত্র ভিসা, পর্যটক ভিসা, কর্মী ভিসা ইত্যাদি পাবে না। তার উপর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মর্যাদাটাও ক্ষুণ্ণ তো হয়ে গেছেই।

কোভিডের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ একটা সম্ভাবনাময় দেশ ছিল। তারপরেই বিশ্ব পরিস্থিতি, বর্তমান সরকারের চরম অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির সীমাহীন প্রশ্রয় এবং একনায়কতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতাহীন রাজনীতি দেশটিকে কিছুটা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই হয়তো দেশে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ।

দেশকে বদল করা সকলেরই দায়িত্ব। এর সাথে সকলের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর অভিবাসন নীতির অপব্যবহার করে সত্যিকারের ছাত্র, পর্যটক, কর্মী ও আশ্র‍য় আবেদনকারীদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবেন না। বিলেতি গণমাধ্যমে এই দেশের রাজনীতিবীদরা এখন অভিবাসন প্রসঙ্গ আসলেই অন্যান্য দেশ সহ বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্য যে বন্ধ হয়ে যাবে তা অনুমেয়।

Leave a comment