রিয়াজ ওসমানী

৩ অক্টোবর ২০২৪

সারা জীবন যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা দুনিয়ার গিবত গেয়ে দিনের শেষে ভিসার জন্য সেই আমেরিকার দূতাবাসের সামনে কাতারে দাঁড়ানোর মতো ধৃষ্টতা এবং দ্বিচারিতা বাংলাদেশের বামপন্থীরা এবং মুসলমান মৌলবাদীরাই দেখাতে পারে। তারা একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। অথচ বাংলাদেশকে আমরা অধিকাংশ মানুষই অনেকটা পশ্চিমা দেশগুলোর ধাঁচে দেখতে চাই।

আমাদের দেশে আমরা চাই গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সকল মৌলিক মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত সুশীল সমাজ, বহুত্ববাদ, সকল প্রকার ধর্মালম্বীর এবং নিধার্মিকদের সমান অবস্থান, দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া সকল লিঙ্গের, জাতের, বর্ণের ও ভাষার মানুষদের সমান অবস্থান, মূলধারার চেয়ে ভিন্ন যৌন প্রবৃত্তি অথবা লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারী – অর্থাৎ যৌন সংখ্যালঘুদের সমান নাগরিক অধিকার, সর্বাঙ্গীন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ, একের ভিন্নতার প্রতি অপরের সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধ, ইত্যাদি।

এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশকে রাশিয়া আর চীনের মতো দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ট না হয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ট হওয়াই শ্রেয়। রাশিয়া ও চীন উপরের বৈশিষ্টগুলো একেবারেই বহন করে না। সাম্রাজ্যবাদের জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে বামপন্থী ও মুসলমান মৌলবাদীদের একটি মুদ্রাদোষ। অথচ রাশিয়া আর চীনের সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তারা একেবারেই অজ্ঞ।

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিল, তিনি বাইডেনের ঘেটুপুত্র – এই ধরনের কথা যারা বলে, তাদের অনেককেই আগামীতে কোনো এক সময়ে আমেরিকার ভেতরেই খুঁজে পাওয়া যাবে। সংকীর্ণ মস্তিষ্ক দিয়ে যারা সব কিছু বিশ্লেষণ করে, তারা এরকমই হয়ে থাকে।

Leave a comment