
রিয়াজ ওসমানী
২০ নভেম্বর ২০২৪
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজের ধীর গতি সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত উপদেষ্টারা কীভাবে ওঁদের কাজ করবেন সেটাই ওঁদের জানা ছিল না। রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো কী কী তা ওঁদের শিখতে হয়েছে। তার উপর হয়েছে ভয়াবহ বন্যা, অজস্র দাবী দাওয়ার হিড়িক এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে সংঘর্ষ। এখনও পুলিশ প্রশাসন পুরাপুরি গড়ে তোলা যায়নি। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে আমলাতন্ত্র। আমলারা এই সরকারকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সহযোগিতা করছে না, যার কারণ বহুবিধ।
আমলা গোষ্ঠীর সংস্কারের কাজ তো এখনও শুরুই করা হয়নি। কমিশনগুলোর প্রতিবেদন আসার পর সরকার, রাজনীতিবীদ, ছাত্র-জনতা এবং সুশীল সমাজ মিলে সিদ্ধান্ত নিবে কী কী সংস্কার করা হবে। হয়তো আমলা গোষ্ঠীর সংস্কারের বিষয়ে সকলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে, হয়তো যাবে না৷ কিন্তু সেই সংস্কারটি যদি হতে পারে, তারপরেই তো এই সরকারের কাজের গতির প্রসঙ্গ আসে! তার আগে যে সেই গতি অসন্তুষ্টিমূলক হবে তা সকলকে মেনে হতে হবে এবং সাবালকের মতো ধৈর্য ধরে সরকারকে তার কাজ করতে দিতে হবে।
দেশের রাজনীতিবীদ এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন কথামালা অনুষ্ঠানের পটপটি ও আঁতেলরা এটা মাথায় রেখে গঠনমূলক সমালোচনা করলে ভালো হয়। কারণ তাদের বাপেরও সাধ্য নাই মাননীয় উপদেষ্টারা যা করছেন সেটা সাধন করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখার। কেউ কেউ বলছে যে তাঁরা ঠিক মতো কাজ করতে না পারলে তাঁদের ইস্তফা দেয়া উচিৎ। এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁরা যদি দলবল মিলে সেটাই করেন, তাহলে একবারও কি ভেবে দেখেছেন দেশটির অবস্থা কী হতে পারে? হাউকাউ একটু কম করুন।