যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার

রিয়াজ ওসমানী

১ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের অনেক মানুষ মনে করে যে পশ্চিমা দেশগুলো প্রাচ্যের সংস্কৃতি, মুসলমান সংস্কৃতি ইত্যাদির ক্ষতি সাধন করার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি এলজিবিটি এজেন্ডা/ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। তারা ধারণা রাখে যে তহবিল পাঠিয়ে পশ্চিমারা স্থানীয় মানুষদেরকে ভিন্ন যৌন অভিমুখিতার বা লিঙ্গ পরিচয়ের কেউ হতে উৎসাহিত করে এবং এলজিবিটি সংষ্কৃতি ছড়িয়ে দেয়। এটি একটি উটকো অভিযোগ। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে আপনি কারও যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তন করতে পারবেন না। কেউ নিজেরটা পরিবর্তন করতে পারে না। এটি সহজাত একটি বিষয়।

জেন্ডার ডিসফোরিয়া নামক একটি বিষয়ের কারণে কেউ যদি তার লিঙ্গ পরিচয়কে নিজের জৈবিক লিঙ্গ থেকে আলাদা বলে মনে করে, তাহলে তার লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রেও একই কথাই প্রযোজ্য। তাই “প্রমোট” করার ধারণাটির সম্পূর্ণরূপে কোনও ভিত্তি নেই। পশ্চিমা এবং স্থানীয় কর্মীরা কেবল দুটি কাজে নিয়োজিত আছে: ১) দেশের যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের নিজেদের আবিষ্কার এবং প্রকাশ করার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা; ২) প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করা।

অন্য কিছু প্রচার করা হচ্ছে না, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতে দেখা যায় এমন কোনো সমকামী উপ-সংস্কৃতিও নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার মানেই তাদের ভোগলিপ্সু জীবন ধারণ নয়। সেটা হতে পারে কিন্তু লক্ষ্য সেটা নয় (অনেক শহুরে বিষমকামীরা এই ধরণের কাজে লিপ্ত হয়)। লক্ষ্য হলো দেশের যৌন সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা যেন নিজেদের কাছে নিজে সৎ থাকতে পারে – অর্থাৎ নিজেদের কাছে নিজেদের পরিচয় আড়াল করে না রাখে – এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভয়ের বাইরে থেকেই জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

এর জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমাদের দুটি জিনিস প্রয়োজন:

ক) বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অপসারণ। এটি ব্যাপকভাবে ভুল বোঝা হয়, এটা অর্থহীন – এখন পর্যন্ত এটা বাস্তবায়িত না হলেও এটা শ্বাসরুদ্ধকর একটি বিধান;

খ) বৈষম্য রোধে নতুন বা সংশোধিত সংবিধানে প্রস্তাবিত সমস্ত নির্ণায়কের মধ্যে যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা।

এটি কোনো অস্বাভাবিক বা অযৌকিত দাবী নয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫-১০ শতাংশ মানুষ সর্বদাই যৌন সংখ্যালঘুদের মধ্যে পড়ে এসেছে এবং এটি সর্বদা সেভাবেই থাকবে। বাংলাদেশেও এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। প্রকৃতি মা এটিকে সেভাবেই চেয়েছে। যদি কেউ সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে তবে তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ ২.০ সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য অনুমোদন করতে পারে না। গণতন্ত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ একসাথে চলে না।

Leave a comment