জুলাই সনদ

রিয়াজ ওসমানী

১৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার বা মেরামত, সাথে নির্বাচন নিয়ে যারা বিএনপির প্যান প্যান এবং অসহযোগিতামূলক রাজনীতির কারণে আগামী কয়েকটা মাসের চিত্রটা বুঝতে হিমসিম খাচ্ছেন, বা সঠিক চিত্রটা বোঝার জন্য যেই মেহনতটার প্রয়োজন, তা করতে অপারগ, অক্ষম বা অলস, তাদের জন্য এই লেখাটা দিলাম।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস ছাত্র-জনতার দাবী বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের সংস্কার বা মেরামতের সুপারিশমালা তৈরি করার জন্য অনেকগুলো কমিশন গঠন করে দিয়েছিলেন। কয়েকটা খাতের উদাহরণ হচ্ছে প্রশাসন, পুলিশ, সংবিধান, নির্বাচন ইত্যাদি। তাদের মধ্যে ছয়টা কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বাকিরাও দিচ্ছে।

পরবর্তী কাজ হচ্ছে অধ্যাপক ইউনুস এবং অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে বসে সকলের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে একটি ন্যূনতম সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন। বুঝাই যাচ্ছে যে বিএনপি খুবই কম সংস্কার চাবে আর বাকিরা (বিশেষ করে নব নির্মিত এনসিপি) কমিশনগুলোর সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন চাবে। এই দর কষাকষি চলবে আগামী জুলাই পর্যন্ত যার নেতৃত্ব দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

দর কষাকষির শেষে আগামী সম্ভাব্য সংস্কারের পরিধি নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশ্ন উঠবে সেই পরিধিটা কি অনেক বড় (অনেক সংস্কারের)? নাকি অনেক ছোট (অল্প সংস্কারের)? ছোট পরিধির হলে সরকার এই বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন দিয়ে দেবে এবং তার আগে ছোট সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে ফেলবে। বড় পরিধির হলে সরকার আগামী বছরের জুন মাসে নির্বাচন দেবে এবং তার আগে বড় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে ফেলবে।

এখানে বিশেষভাবে বলে রাখা উচিৎ যে সংস্কার কমিশনগুলো তাদের প্রতিবেদন তৈরি করার সময়ে নানা উপায়ে দেশের জনগণের কাছ থেকে প্রচুর সুপারিশ ও মতামত গ্রহণ করেছিল। কাজেই দিনের শেষে সংস্কারের পরিধি নিয়ে একটি ন্যূনতম ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে নির্দিধায় বলা যাবে যে সেখানে জনগণেরই আকাঙ্খা ফুটে উঠেছে। সেই আকাঙ্খাকে আনুষ্ঠানিক একটা রূপ দেয়ার জন্য জুলাই মাসে লিখিত আকারে ঘোষণা করা হবে একটি “জুলাই সনদ”, ইংরেজিতে যেটা “জুলাই চারটার”। এই সনদে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল সই করবে এবং সনদটি তখন হয়ে উঠবে বাংলাদেশ ২.০ গড়ে তোলার পথ নির্দেশক।

Leave a comment