রিয়াজ ওসমানী

৩০ মে ২০২৫

আহাম্মকের প্রশ্ন: গত ৯-১০ মাসে তো কোনো সংস্কারই চোখে পড়লো না। এখন সংস্কারের কথা বলে বলে নির্বাচন পেছানোর পায়তারা চলছে কেন?

উত্তর: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিগত ৯-১০ মাস কেটে গেছে প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষ ও গোষ্ঠীর লাগিয়ে দেয়া আগুন নেভানো, তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়া, একটি অসহযোগিতামূলক আমলাতন্ত্রের সাথে কাজ করতে শেখা, বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন সংস্কারের জন্য গঠন করে দেয়া বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশমালা তৈরি করা, আরও কত কিছু নিয়ে (গত বছরের বন্যার কথা তো সবাই ভুলেই গেছে)!

এর মধ্যেই ব্যাংকিং খাতে এসেছে বিপুল সংস্কার। মরা খাতকে সরকার সবল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রচুর বিদেশি ঋণের বকেয়া শোধ করতে পেরেছে। রপ্তানি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আবারও উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। এখন থেকে টাকার মান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে সেই মানটা হবে বাস্তবতার নিরিখে। মোটা দাগে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঘোড়ার বেগে না দৌড়ালেও তা স্থিতিশীল রয়েছে৷ দেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসার দুটো পূর্ব শর্তের মধ্যে বর্তমান সরকার একটি শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর তা হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থিতিশিলতা।

দ্বিতীয় শর্তটি হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আর এখানেই বিএনপি বাংলাদেশকে এই শর্ত পূরণে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার লোভ সামলাতে না পেরে এই বছরের ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়ে বিএনপি বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অথচ বিএনপি সহ বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়েই জাতীয় ঐক্য কমিশন আগামী সংস্কারগুলোর পরিধি নির্ধারণ করে যাচ্ছে যার প্রক্রিয়া এই বছরের জুলাই মাসে শেষ হবে একটি জুলাই সনদের ঘোষণার মাধ্যমে, এবং যেই সনদে সকল অংশীজন সই করবে।

বিএনপি এক দিকে এই প্রক্রিয়াটার সাথে যুক্ত, অন্য দিকে নির্বাচন নির্বাচন বলে রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে ফেলছে। এটা তাদের হঠকারিতা। তারা খুব ভালো করেই জানে যে জুলাই সনদ প্রকাশিত হবার সময়ে আমরা সংস্কার পরিধির যেই রূপটি পাবো, সেটাই নির্ধারণ করে দেবে আগামী নির্বাচন কবে হতে পারে এবং সেই নির্বাচনের পথনির্দেশিকা কী হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা এই ব্যাপারে কিছুটা নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য বার বার পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে সংস্কার পরিধি যাই হোক না কেন, নির্বাচনের তারিখ কোনো অবস্থাতেই ২০২৬ সালের জুন মাস অতিক্রম করবে না।

অর্থাৎ এই বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আগামী বছরের জুনের শেষ পর্যন্ত যত খানি সময়, তার মধ্যেই কোনো এক দিন নির্বাচন হবে। এবং সেই তারিখটা আমরা কয়েকটি সপ্তাহ পরেই জুলাই সনদ প্রকাশের পরপরই জানতে পারব। চরিত্রহীন বিএনপির (এবং সিপিবির) কি এই সামান্যতম ধৈর্য দেখানোর ক্ষমতা নেই?

Leave a comment