মধ্যপন্থা

রিয়াজ ওসমানী

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত ডাকসু* নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির* সমর্থিত প্রার্থীদের বিশাল জয়ের কারণ জানতে গিয়ে কিছু বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য পড়ে যা বুঝলাম তা হলো:

১) ২০১০-২০১১ সালের দিকে শেখ হাসিনা সরকারের মেয়াদে মাদ্রাসার ছাত্ররা যেন সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে তার জন্য পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন।

২) আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ও বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল উভয়েরই ক্যাম্পাস দখলের ইতিহাস যা ঘটনাচক্রে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেই।

৩) শিবির বিরোধীদের মাঝে শত শত বিভক্তি – কোনো ঐক্যবদ্ধ ভিত্তি ও মঞ্চের অভাব।

৪) শিবিরের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্বচ্ছন্দ।

৫) শিবিরের ছাত্রকেন্দ্রিক রাজনীতি।

৬) সাবলীল ও কথ্য ভাষায় শিবিরের গণসংযোগ।

৭) ছাত্র ভোটারদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ট্যাগিঙের রাজনীতির পরিহার। কে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক আর কে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের লোক, এই শ্রেণিবিন্যাসের বিভক্তিময় রাজনীতির পরিহার।

বিএনপি সহ বাকি শিবির বিরোধীদের এবার এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের পালা। দক্ষিণপন্থা শিবিরের বিপরীতে বাকিরা শিক্ষাঙ্গন তথা দেশকে কী দিতে পারে তা সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হবে এবং তা তুলে ধরতে হবে। রাজাকারদের ভোট দিবেন না, এই কথা এখন আর কেউ গিলবে না। রাজাকারের বিপক্ষ শক্তির কাছ থেকে ভোটাররা কী আশা করতে পারে সেটাই হবে আলোচনা।

এই বিপক্ষ শক্তির মধ্যে একটা পক্ষ হচ্ছে বামপন্থী, আরেকটা হচ্ছে মধ্যপন্থী। আমি বলবো যে বাংলাদেশে এখন মধ্যপন্থীদের উত্থানের সময় এসেছে।

কারা এই মধ্যপন্থীগন?

এরা হচ্ছে তারা, যারা সকলের সামাজিক মর্যাদা ও সাম্যতায় বিশ্বাসী, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সকলের জন্য সমান আইন ও ন্যায় বিচারে বিশ্বাসী, তারা ব্যক্তিগত জীবনে গৌণ ধর্মপ্রবণ মানুষ এবং তারা রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী; তারা সকল ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাত, ভাষা, যৌন অভিমুখিতা, লিঙ্গ পরিচয় ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার ভিত্তিতে কোনো প্রকার পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরোধী – উল্লেখিত সকল মানুষদের সমান নাগরিক অধিকার ও দায়িত্বে বিশ্বাসী।

তারা মুক্ত বাজার, ব্যক্তিগত ও বেসরকারি উদ্যোগ, বিশ্ব বাণিজ্য ও বিশ্বায়ণে বিশ্বাসী, তারা সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের কাছ থেকে প্রগতিশীল কর আদায়ের মাধ্যমে অর্থনীতির মইয়ের নিচের দিকের সকল জনগণের সহায়তা প্রদানে বিশ্বাসী; তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে পণ্য মনে না করে রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাপ্য দুটি মৌলিক মানবাধিকারে বিশ্বাসী। তারা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, ঐতিহাসিক ব্যক্তিগন, সকল অতীত অর্জন ও ক্ষতগুলোর কাসুন্দি না ঘেটে, সেগুলো নিয়ে সীমাহীন বিতর্কে না জড়িয়ে, উপরে উল্লেখিত আদর্শগুলো নিয়ে একটি অগ্রগামী, সংষ্কৃতি নির্ভর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিয়োজিত হয়ে যাওয়ায় বিশ্বাসী।

——————

*ডাকসু = ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।

*ইসলামী ছাত্রশিবির = বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও পাকিস্তানি সেনাদের পক্ষ নেয়া মওদুদীবাদের অনুসারী ও দক্ষিণপন্থা জামায়াতে ইসলাম নামের রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন।

Leave a comment