নির্বাচন ও গণভোট

রিয়াজ ওসমানী

২১ ডিসেম্বর ২০২৫

হাউকাউ বিগ্রেড অর্থাৎ ব্যর্থ আফসোস লীগের সকল সমর্থক, সাথে অগণিত বুমবামদের (বামপন্থী এবং/অথবা সাম্যবাদীদের) উদ্দেশ্য করে বলছি যে গত দেড়টি বছরের বেশি সময় ধরে ফেসবুকে হাউকাউ করা ছাড়া আপনারা আর কিছুই সাধন করতে পারেননি। তবে এবার সময় এসেছে বাংলাদেশের ভবিষ্যতকে কেন্দ্র করে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার।

আমরা যারা বর্তমানে ঘোর আওয়ামী লীগ বিরোধী এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণাঙ্গ নৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছি, তাদের অনেকজনের সাথেই আপনাদের একটি আদর্শগত মিল আছে – জামায়াত বিরোধিতা। উদাহরণস্বরূপ, আমি বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে এসেছি কিন্তু একই সাথে আমি রাজনৈতিক ইসলামের চরম বিরোধী।

হাসিনার কারণে আপনারা সহ বাংলাদেশের অনেক মানুষই হয়তো ভোটের অসীম ক্ষমতার কথা জানেনই না বা ভুলে গেছেন। তাই জোর গলায় বলতে চাই যে ভোটের মাধ্যমে আমরা ও আপনারা সকলেই পারব জামায়াতকে শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতার প্রাঙ্গণ থেকেই দূরে রাখতে নয়, তারা যেন প্রধান বিরোধী দল হিসেবেও উদিত না হয়, সেটাও নিশ্চিত করতে। তারা প্রধান বিরোধী দল হয়ে গেলে তারা আগামীতে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটিতে স্থান পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে যা আমাদের একেবারেই কাম্য নয়।

আফসোস লীগ যেহেতু নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছে না তো কাকে ভোট দেবেন ভাবছেন? বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে ৫০টির ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত আছে। সুযোগ এসেছে দলকানা না হয়ে আপনার নির্বাচনী এলাকায় কোন মানুষরা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকে চিনতে, তাদের কথাবার্তা শুনতে ও তাদের মতাদর্শের সাথে পরিচিত হতে। তারপর দলকানা মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে জামায়াতের লোকটি ছাড়া আর কাউকে নিজের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী ভোট দিন। এভাবেই জামায়াতকে আপনি এবং আমি প্রতিহত করতে পারব।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গে বলতে হবে যে নিছক বিরোধিতা করার জন্যই আপনারা এই সনদের বিরোধিতা করছেন। তার উপর জুলাই সনদের প্রতি জামায়াত (এবং তাদের নতুন শয্যাসঙ্গী এনসিপি)র অবদান সবচেয়ে বেশি বলে আপনারা সনদটির কোনো প্রকার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নও করতে নারাজ। এটাও সত্য যে বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে হাসিনার মতো স্বৈরাচার আর কখনও আবির্ভূত হবে না। তাই আপনারা অনেকেই জুলাই সনদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন।

অনেক কারণেই ইতিহাস আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। দয়া করে সেই কারণগুলোর সাথে এই কারণটি আর যোগ করবেন না। জুলাই সনদের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করুন। বিএনপির কারণে এই সনদ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংকুচিত হয়ে গেলেও, তার মধ্যে এখনও যথেষ্ট অঙ্গীকার লিপিবদ্ধ হয়ে আছে যা আগামীতে বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

তাই নির্বাচনের দিন জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে যেই গণভোটটি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে জুলাই সনদকে “হ্যাঁ” বলুন। গণভোটটি পাশ হলে আগামী নির্বাচিত সংসদ ও সরকার সনদে উল্লেখিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে। উপসংহার হিসেবে আপনাদের কাছে আবারো আবেদন করছি যে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে ভোট দিয়ে জামায়াতকে “না” বলুন এবং জুলাই সনদকে “হ্যাঁ” বলুন।

Leave a comment