রিয়াজ ওসমানী

৫ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের ডিএনএতেই নেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এমন প্রশাসনিক সংস্কার আনা, যা তাদের নিজেদের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। বিরোধী দলে থাকলেই শুধু তারা এসব তদারকি ও ভারসাম্যের কথা বলে — ক্ষমতায় গেলে সব ভুলে যায়। তাই স্বাধীন বিচার বিভাগ, সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক ও মানবাধিকার তদারকি প্রতিষ্ঠান, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো জারি করা কেবল একটি অরাজনৈতিক (অন্তর্বর্তীকালীন) সরকারের পক্ষেই সম্ভব ছিল।

কিন্তু বিএনপির বর্তমান এজেন্ডা অনুযায়ী, একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশ করেছে এসব অধ্যাদেশের কিছু অংশ আপাতত আইন হিসেবে পাস না করে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে দেওয়া হোক। পরে সমালোচনার মুখে পড়ে আইনমন্ত্রী এখন বলছেন, এগুলো নাকি “পর্যালোচনা করে আরও শক্তিশালী করে” পরে বিল আকারে সংসদে আনা হবে। এই বক্তব্য নিছক বাস্তবতা বিকৃত করা ছাড়া আর কিছুই না। প্রশ্ন হলো — বর্তমান অবস্থায় অধ্যাদেশগুলোর দুর্বলতাগুলো কী? সেগুলো কীভাবে শক্তিশালী করা হবে? এসবের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা কোথাও নেই।

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো কখনোই নিজেদের ক্ষমতা খর্ব করতে চায় না। সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আইনমন্ত্রীর এই আশ্বাসকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে মনে করাই যৌক্তিক। বরং খুব সম্ভবত, এই অধ্যাদেশগুলো যদি কখনো বিল হিসেবে আসে, তাহলে সেগুলোকে এমনভাবে দুর্বল করে আনা হবে, যাতে সরকারের ক্ষমতার ওপর প্রকৃত কোনো লাগাম না পড়ে — যেই লাগামগুলো ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সাথে সম্পৃক্ত।

ইতোমধ্যে একজন সচেতন নাগরিকের শেয়ার করা পোস্টে দেখা গেছে, বিশেষ কমিটিতে বিএনপি সদস্যরা নিজেদের স্বার্থে অধ্যাদেশগুলোর বহু গুরুত্বপূর্ণ ধারা দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিএনপিকে এটা বুঝতে হবে যে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া মানে এই নয় যে তারা যা খুশি তাই করার ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। আওয়ামী লীগও ২০০৯ সালে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, আর তার ফলাফল তারা খুব ভালোভাবেই দেখেছে।

Leave a comment