রিয়াজ ওসমানী

২৮ জুন ২০২৪

একটি কওমি মাদ্রাসায় “পড়া না পারায়” একজন শিক্ষিকার হাতে প্রহারের শিকার হয়ে একজন ছাত্রের চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার করুণ একটি কাহিনী নিয়ে ডয়েচে ভেলের একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধের আলোকে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ:

১) কবুতরের ক্ষেত্রে মুখস্ত বিদ্যা হয়তো প্রযোজ্য। মানুষের ক্ষেত্রে না।

২) মুখস্ত করা কিছু মনে না থাকলে সেটা কখনোই কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর অক্ষমতা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ মুখস্ত রাখতে পারার মধ্যে জ্ঞান, চিন্তা শক্তি ও মেধার ছায়াটুকুও নেই।

৩) ২ নম্বরের সূত্র ধরে বলা যবে যে কোরআনের আয়াত ও হাদিসের উক্তি আরবি ভাষায় স্মৃতিশক্তি থেকে গরগর করে উচ্চারণ করতে পারার মধ্যে কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের একেবারেই কোনো জ্ঞান, চিন্তা শক্তি ও মেধার পরিচয় স্থাপিত হয় না।

৪) ১, ২ ও ৩এর সূত্র ধরে বলছি যে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই ডাস্ট বিনের উপযোগী।

৫) এই শিক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থায় “পড়া না পারা” বলতে কিছু থাকতে পারবে না। কারণ এখানে “পড়া পারা” বলতে বুঝানো হয় ছাত্র-ছাত্রীরা কবুতরের মতো করে স্মৃতিশক্তি থেকে কী কী বলতে পারে তারই সময়ের অপচয়।

৬) এই সময় অপচয়ে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো করতে পারছে না, তাদেরকে দেশের আইন ভঙ্গ করে (এবং নৈতিকতার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে) কোনো প্রকার শারীরিক এবং/অথবা মানসিক নির্যাতন করা হলে, নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে চরম সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭) বাংলাদেশের সকল শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যেহেতু কওমি মাদ্রাসাগুলোতেই এ সকল নির্যাতন বেশি ঘটিত হয়, সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদেরকে আরও বেশি করে নজর দিতে হবে।

৮) খারাপ ছাত্র বলতে কিছু নেই। কেবল শিক্ষরাই খারাপ হতে পারে।

2 thoughts on “শিক্ষাঙ্গনে শিশু প্রহার ও মানসিক নির্যাতন প্রসঙ্গে

  1. Perfect analysis and argument/logic. I wonder, why the rights organisations and the legal/political institutes are still silent on this?!

    Like

Leave a reply to zakbab25 Cancel reply