বৈষম্যহীন বাংলাদেশ

রিয়াজ ওসমানী

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

এই বছরের জুলাই-আগষ্ট মাসে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সামাজিক সংলাপ ও রাজনৈতিক দৃশ্যপট কীভাবে বদলে গিয়েছে, এবং সেখানে মুক্তমনা, উদারপন্থী, গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমান এবং নিধার্মিকদের কী কর্তব্য তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মধ্যযুগীয় আইন এবং তার হিংস্র প্রয়োগ দিয়ে যেভাবে জনগণের মুখ চেপে ধরেছিল, তার সাময়িক সমাপ্তি ঘটেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগমনে। সকলের প্রত্যাশা যে এই সমাপ্তিটি চিরস্থায়ী হবে।

কিন্তু ফিরে পাওয়া এই বাকস্বাধীনতা আমাদের মাঝে নিয়ে আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ। বিগত একটি সময়ে “রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও গৌণ ধর্মীয়তা” বনাম “রাজনৈতিক ইসলাম”-এর দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, এখন আর তা চলতে পারবে না।

এর কারণ হচ্ছে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশে “সকলের” অন্তর্ভুক্তি হতে হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আহবানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার সময়ে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে বিভিন্ন দল, মত, জাত ও ধর্ম নিয়েই আমরা একটি পরিবার। আমাদের মাঝে বাগবিতণ্ডা হবে কিন্তু মারামারি ও কাটাকাটি হবে না।

আমি যদি দেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশকে গোত্র ১ এবং গোত্র ২ নামের ছকে ফেলি এবং মুক্তমনা, উদারপন্থী, গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমান এবং নিধার্মিকদেরকে গোত্র ১এ বসিয়ে দেই, এবং গোত্র ২য়ে যারা মৌলবাদী মুসলমান, যারা রাজনৈতিক ইসলামে বিশ্বাস করে এমনকি তাদের মাঝে যারা দেশে শরীয়া আইনের সংবিধান এবং দন্ডবিধি কামনা করে, তাদেরকে বসিয়ে দেই, তাহলে বাংলাদেশের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন তুলে ধরা যাবে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভাজনও কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান। অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত বিভাজন তো রয়েছেই। কিন্ত আজ আমি উল্লেখিত গোত্র ১ এবং গোত্র ২য়ের মধ্যেকার বিভাজনকে নিয়েই কথা বলতে চাই।

অতীত থেকেই গোত্র ১ এবং ২ ছিল পরষ্পরের চিরশত্রু। একে অপরের অস্তিত্বটুকুও সহ্য করতে পারতো না। গোত্র একের অনেকেই দুইয়ের ধর্মটিকে উপহাস করে, তাকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে, কোরান-হাদিসের অজস্র অসঙ্গত বিষয়গুলো তুলে ধরে, ধামাচাপা পড়ে যাওয়া নবীর অসংখ্য বিতর্কিত আত্মকাহিনী তুলে ধরে দুইয়ের মানুষদেরকে এক প্রকার কোণঠাসাই করে ফেলেছিল।

গোত্র দুই নানাভাবে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে, যার একটি সৌম্য উদাহরণ ছিল গোত্র একের মানুষদেরকে “নাস্তিক” উপাধি দিয়ে সমাজে তাদেরকে অপ্রস্তুত বানিয়ে ফেলা, এবং যার একটি চরম উদাহরণ ছিল গোত্র একের বিশিষ্টজনদেরকে হত্যা করা। সেই হত্যা গোত্র একের মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর বাইরেও ভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষ, সাংষ্কৃতিক কর্মী এবং যৌন সংখ্যালঘুও সেসকল হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।

গোত্র ১ চেয়েছে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা এবং একটি গৌণ ধর্মপ্রবণ বাংলাদেশ, যেখানে গোত্র ২ চেয়েছে একটি ইসলামী রাষ্ট্র। এদিকে পলায়ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষতা নামক বিষয়টিকে একটি হাস্যকর, বিদ্রুপের বস্তু এবং বিষাক্ত চিন্তা বানিয়ে ফেলেছিলেন তার নোংরা রাজনীতি দিয়ে। এখন গোত্র একের মানুষরা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা উচ্চারণ করার আগে তিন বার ভেবে নেয়।

অপর দিকে নতুন বাংলাদেশ, নতুন সরকার এবং নতুন সংবিধানের গন্ধ পেয়ে গোত্র দুইয়ের মানুষরা তাদের স্বপ্নের ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার লক্ষ্যে ধীরে ধীরে তাদের নিদ্রা ভেঙে উঠে বসতে শুরু করেছে। তাদের কাছে এই হলো সুবর্ণ সুযোগ যা হাতছাড়া হবার নয়।

ছাত্র-জনতার কত শতাংশ গোত্র ১এর মধ্যে পড়ে আর কত শতাংশ গোত্র ২য়ে, তা আমার জানা নেই। তবে একটা জিনিষ স্পষ্ট – তারা সকলে মিলেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এর সাথে প্রধান উপদেষ্টা যোগ করেছেন “অন্তর্ভুক্তিমূলক”, “অসাম্প্রদায়িক” ইত্যাদি শব্দগুলো যা আমি ছাত্র-জনতার মুখ থেকে আরও বেশি করে শুনতে পেলে খুশি হতাম।

যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশ কখনোই শুধু গোত্র ১এর মানুষ দিয়ে ভরাট থাকবে না, আবার শুধু গোত্র ২ দিয়েও না। অতএব মারমুখী না হয়ে উভয়েরই সহাবস্থান কাম্য। সেখানেই আসবে নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে আমরা কীভাবে একে অপরের সহাবস্থান মেনে নেব? অতীতে গোত্র ২য়ের ভয়ে গোত্র ১কের অনেকেই দেশ ছেড়েছে এবং আর ফিরে আসেনি। বিদেশে বসে তারা ২য়ের এমন বিশদগার করেছে যে ২য়ের সবাই যেন কুষ্ঠরোগী।

ছাত্র-জনতা এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বপ্নের বাংলাদেশে এই অবস্থা চলতে পারবে না। এই নতুন পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে আমি প্রথমে গোত্র ১এর দায়িত্ব নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তারপর গোত্র ২য়ের দায়িত্ব নিয়ে। আমি নিজেকে প্রথম গোত্রে ফেলি এবং আমি রাজনৈতিক ইসলামের চরম বিরোধী। একজন নিধার্মিক হিসেবে ধর্মের বিরুদ্ধেও অতীতে কথা বলেছি। শৈশবসূত্রে ইসলাম ধর্মের সাথে আমি বেশি পরিচিত বলে আমি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধেই বেশি কথা বলেছি।

সাম্প্রতিক কালে আমি মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্ম পালনের বিরুদ্ধে কথা না বলে শুধু রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছি। আমার মতে বর্তমানে আমাদের গোত্রের সকলকে এই দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আমাদেরকে স্পষ্ট এবং জোরালোভাবে শরীয়া আইন অথবা কোনো প্রকার রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, যেমন মওদুদীবাদ।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশি ভোট দেয় না, এই বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। কারণ আমাদের নিরবতা এই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। আগেই বলেছি যে গোত্র দুই তাদের নিদ্রা ভেঙে উঠে বসতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দুইয়ের মানুষদের প্রতি মারমুখী হলে চলবে না।

আমাদেরকে নতুন করে শিখতে হবে কীভাবে দুইয়ের মানুষদের সাথে সভ্য ও ভদ্র ভাষায় রাজনৈতিক ইসলামের সমস্ত ক্ষতিকর এবং বিপদজনক দিকগুলো নিয়ে কথা বলা যায়। শরীয়া আইন দ্বারা চালিত সমাজে বৈষম্য অন্তর্নিহিত। একই সাথে এরকম সমাজ ব্যক্তি স্বাধীনতারও পরিপন্থী। মুক্তচিন্তা, যা মানব সভ্যতাকে আদিকাল থেকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে, তার বিন্দুমাত্র স্থান এই পরিবেশে নেই।

পৃথিবীতে শরীয়া আইন দ্বারা চালিত অল্প কিছু দেশ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে একেবারেই উন্নতি সাধন করতে পারেনি। একটি অন্ধবিশ্বাস এবং সেখান থেকে উদিত বিভিন্ন কঠোর রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক নিয়মকানুন সৃজনশীলতার কন্ঠ চেপে ধরে। আর এসব রীতিনীতির সবচেয়ে আপত্তিকর দিকগুলো হচ্ছে যে সেগুলো একটি দেশের অনিচ্ছুক অনেক মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। গণতন্ত্র মানে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠরা যাই চাবে তা নয়। হ্যাঁ, সেটা ভোটের বাক্সে সত্যি। কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইচ্ছার প্রতিফলন এমনভাবে ঘটানো যাতে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়। এই পরষ্পর বিরোধী প্রক্রিয়ার সুস্থ ব্যবস্থাপনাটাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে।

শরীয়া আইনের বিভিন্ন বিষয়াদি আলেম সমাজ ইচ্ছে মতো বানিয়ে নিতে পারে। মৌলিক কিছু ব্যাপার ছাড়া কোরান-হাদিস থেকে পাওয়া অধিক অনুশাসন নিয়ে সমগ্র মুসলমান জগতে কোনো একমত নেই। সবই অমুকের ব্যাখ্যা, তমুকের ব্যাখ্যায় জর্জরিত। গণতান্ত্রিক উপায়ে বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক ইসলামকে বেছে নিলে সবাই একটি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে ফেলবে যা আমাদের সংষ্কৃতি ও কৃষ্টির পরিপন্থী। ভোটের মাধ্যমেই ১এর মানুষদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে ২য়ের মানুষরা যেন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বটা না পায়। আমাদের ঐতিহ্যকে অবলম্বন করেই আমরা বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তিক এবং সাহিত্যিক দিক থেকে এগিয়ে যাব। গান-বাজনা, খেলাধূলা?

গোত্র দুইয়ের মানুষদের সাথে এই বিষয়ে ভদ্র এবং যৌক্তিক আলোচনা দুরহ। তাদের অন্ধবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয়া তাদের রাজনৈতিক মতবাদ তাদের মধ্যে এতটাই গাঁথা যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আলোচনা আগাতে পারে না। এখানেই গোত্র ২য়ের মানুষদের দায়িত্বের কথা চলে আসে। আমরা যেমন তাদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবা থেকে দূরে সরে আসবো, তাদেরকেও আমাদের প্রতি তা করতে হবে।

আমাদেরকে গালাগাল দিয়ে, অপমান করে, খুন করে তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-ছাত্রী এবং অধ্যাপক ইউনুসের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে না। তারা তাদের মতবাদ প্রকাশ করবে এমনভাবে, যে যারা তাদের সাথে একমত নয়, তাদেরকে কাফের বা মুরতাদ বলা যাবে না (তারা নাস্তিকদের কতল করার ডাক দেয় – অথচ গোত্র ১এর কেউ দুইয়ের কাওকে কোনো দিন কতল করার ডাক দেইনি)।

গোত্র ১এ অন্তর্ভুক্ত গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমানদের চুপ করে থাকার দিন শেষ। যেখানেই শরীয়া আইন, খেলাফত বা অন্য কোনো প্রকার রাজনৈতিক ইসলামের ডাক আসবে সেখানেই আমাদের গোত্রের সবাইকে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শরীয়া আইন চাই কি না এরকম অনলাইন জরিপে আমাদেরকে সংঘবদ্ধ হয়ে জানিয়ে দিতে হবে “না”। সামাজিক মাধ্যমে তাদের আওয়াজ যেন বেশি প্রাধান্য না পায় সে দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।

এখানে সরকারেরও ভূমিকা আছে। গোত্র ২য়ের কেউ অনলাইনে গোত্র ১এর কাওকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে কতৃপক্ষ যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাকে কোনো প্রকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ধার্মিকদের বিশ্বাস কেন এত দুর্বল হবে যে তাদের অনুভুতিতে সহজেই আঘাত লাগে?

গোত্র ২য়ের মানুষদের আরেকটা প্রবণতা হচ্ছে গোত্র ১এর মানুষরা ব্যক্তিগত পর্যায় কতটা নিষ্ঠার সাথে ইসলাম ধর্ম পালন করছে তার মূল্যায়ন করা এবং সেই অনুযায়ী বিবৃতি দেয়া বা ১এর মানুষদেরকে ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপ দেয়া। ব্যক্তি স্বাধীনতায় এত বড় হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না। ইসলাম ধর্মের সমগ্র অনুশাসন যাই হোক না কেন, একজন ব্যক্তি তার কতটুকু পালন করবে বা আদৌ করবে কি না সেটা একজন ব্যক্তির একান্ত বিষয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বয়ানে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাত ইত্যাদির মধ্যে নিধার্মিকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ধর্মের প্রসঙ্গ এলে বলতে হবে যে বাংলাদেশ হচ্ছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আহমাদিয়া, অন্যান্য ধর্মালম্বী এবং নিধার্মিকদের শান্তির কুটির। জাতের প্রসঙ্গ আসলে বলতে হবে যে বাংলাদেশ হচ্ছে বাঙালী, অবাঙালী এবং পাহাড়িদের শ্যামল আলয়। এই সোনার বাংলায় উল্লেখিত সকলেই একে অপরের সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। কারণ আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা একটি পরিবার।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এখন থেকেই এরকম একটি বয়ান তৈরি করে দিতে পারে, এবং বাংলাদেশের সকলেই যদি সেই বয়ানটিকে জাতীয় স্বত্তা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়, তাহলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে৷ এরকম একটি উদারপন্থী পরিবেশে মূলধারার চেয়ে ভিন্ন যৌন অভিমুখিতা অথবা লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারী – অর্থাৎ দেশের যৌন সংখ্যালঘুরাও তাদের জায়গা করে নিতে পারবে।

One thought on “বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ধর্মীয়তার বর্ণালী

Leave a comment