বিএনপির হঠকারিতা

রিয়াজ ওসমানী

৩০ মে ২০২৫

আহাম্মকের প্রশ্ন: গত ৯-১০ মাসে তো কোনো সংস্কারই চোখে পড়লো না। এখন সংস্কারের কথা বলে বলে নির্বাচন পেছানোর পায়তারা চলছে কেন?

উত্তর: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিগত ৯-১০ মাস কেটে গেছে প্রতিদিন বিভিন্ন মানুষ ও গোষ্ঠীর লাগিয়ে দেয়া আগুন নেভানো, তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়া, একটি অসহযোগিতামূলক আমলাতন্ত্রের সাথে কাজ করতে শেখা, বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন সংস্কারের জন্য গঠন করে দেয়া বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশমালা তৈরি করা, আরও কত কিছু নিয়ে (গত বছরের বন্যার কথা তো সবাই ভুলেই গেছে)!

এর মধ্যেই ব্যাংকিং খাতে এসেছে বিপুল সংস্কার। মরা খাতকে সরকার সবল করতে সক্ষম হয়েছে। প্রচুর বিদেশি ঋণের বকেয়া শোধ করতে পেরেছে। রপ্তানি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ আবারও উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। এখন থেকে টাকার মান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে সেই মানটা হবে বাস্তবতার নিরিখে। মোটা দাগে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ঘোড়ার বেগে না দৌড়ালেও তা স্থিতিশীল রয়েছে৷ দেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসার দুটো পূর্ব শর্তের মধ্যে বর্তমান সরকার একটি শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। আর তা হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থিতিশিলতা।

দ্বিতীয় শর্তটি হচ্ছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। আর এখানেই বিএনপি বাংলাদেশকে এই শর্ত পূরণে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার লোভ সামলাতে না পেরে এই বছরের ডিসেম্বর মাসেই নির্বাচনের জোর দাবি জানিয়ে বিএনপি বাংলাদেশকে রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলছে। অথচ বিএনপি সহ বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়েই জাতীয় ঐক্য কমিশন আগামী সংস্কারগুলোর পরিধি নির্ধারণ করে যাচ্ছে যার প্রক্রিয়া এই বছরের জুলাই মাসে শেষ হবে একটি জুলাই সনদের ঘোষণার মাধ্যমে, এবং যেই সনদে সকল অংশীজন সই করবে।

বিএনপি এক দিকে এই প্রক্রিয়াটার সাথে যুক্ত, অন্য দিকে নির্বাচন নির্বাচন বলে রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে ফেলছে। এটা তাদের হঠকারিতা। তারা খুব ভালো করেই জানে যে জুলাই সনদ প্রকাশিত হবার সময়ে আমরা সংস্কার পরিধির যেই রূপটি পাবো, সেটাই নির্ধারণ করে দেবে আগামী নির্বাচন কবে হতে পারে এবং সেই নির্বাচনের পথনির্দেশিকা কী হতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা এই ব্যাপারে কিছুটা নিশ্চয়তা দেয়ার জন্য বার বার পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে সংস্কার পরিধি যাই হোক না কেন, নির্বাচনের তারিখ কোনো অবস্থাতেই ২০২৬ সালের জুন মাস অতিক্রম করবে না।

অর্থাৎ এই বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আগামী বছরের জুনের শেষ পর্যন্ত যত খানি সময়, তার মধ্যেই কোনো এক দিন নির্বাচন হবে। এবং সেই তারিখটা আমরা কয়েকটি সপ্তাহ পরেই জুলাই সনদ প্রকাশের পরপরই জানতে পারব। চরিত্রহীন বিএনপির (এবং সিপিবির) কি এই সামান্যতম ধৈর্য দেখানোর ক্ষমতা নেই?

বাংলাদেশে নারী ও পুরুষের পরম সমতার নেপথ্যে

শেষ না হওয়া যাত্রা

রিয়াজ ওসমানী

১০ মে ২০২৫

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সময় আগে একটি নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠন করে, যা সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুসের কাছে তাদের প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটির কিছু সুপারিশ বের হয়ে আসার পর হেফাজতে ইসলাম নামক দেশটির ইসলামি মৌলবাদী গোষ্ঠী কমিশনটির বিলুপ্তির আহ্বান করে। এর কারণ হচ্ছে প্রতিবেদনটিতে নারীদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি নিয়ে কিছু দাবি দাওয়া ছিল, যা তাদের চোখে মনে হয়েছে ইসলাম বিরোধী। আসুন এবার এসবের রাজনীতিতে মনোনিবেশ করি।

বাংলাদেশে সাধারণ অপরাধ সংক্রান্ত দণ্ডবিধির বাইরে কিছু দেওয়ানি আইন রয়েছে যার মধ্যে ব্যক্তিগত আইন অন্তর্ভুক্ত, যার কিছু অংশ লিখিত, কিছু অংশ অলিখিত। এই ব্যক্তিগত আইনগুলোই বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করে। এখানেই মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান ইত্যাদি মানুষদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন প্রযোজ্য হয়ে পড়ে, যা তাদের নিজেদের মতো করে নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করে।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা থেকে এই ধর্মভিত্তিক বৈষম্যগুলো অপসারণ করার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে দেওয়ানি আইনগুলো, যার মধ্যে ব্যক্তিগত আইনগুলো বিদ্যমান, তা প্রতিস্থাপন করে একটি নতুন, সম্পূর্ণভাবে লিখিত এবং অভিন্ন দেওয়ানি কার্যবিধি (সিভিল কোড) প্রতিষ্ঠা করা।

এই নতুন দেওয়ানি কার্যবিধিতে বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষরা সমান সুবিধা ভোগ করবে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় কোনো ধর্মভিত্তিক বৈষম্য অবশিষ্ট থাকবে না। বাংলাদেশের সকল ধর্মের নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে এই দেওয়ানি কার্যবিধি সমানভাবে প্রযোজ্য হবে, হোক তারা মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ এবং অন্যান্য। পুরুষরা কোনো নতুন বৈষম্যের শিকার হতে পারবে না।

এখানেই সমস্ত প্রতিকূলতার উদয় হতে পারে। বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থা, যা নিধার্মিক বিলেতি সাধারণ আইন (কমন লও)-এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত, সেখানে ব্যক্তিগত আইনই একটি মাত্র ক্ষেত্র যেখানে ধর্মীয় অনুশাসনগুলোকে স্থাপন করা হয়েছে, হোক সেগুলো মুসলমানদের, হিন্দুদের, খ্রিস্টানদের ইত্যাদি। সম্ভাব্য প্রয়োজনীয়তার খাতিরেই বিলেতি শাসকরা তা করেছিল।

মুসলমান অথবা হিন্দুরা, যারা চিরকাল বিবাহ, তালাক উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে এসেছে, তারা কি বিচার ব্যবস্থা থেকে এই অনুশাসনগুলোর অপসারণে সায় দেবে? অনেক মুসলমান নারীরাই হয়তো দেবে, যাতে তাদেরকে তাদের ভাইদের তুলনায় অর্ধেক সম্পত্তি পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে না হয়।

অনেক হিন্দু নারীরাও হয়তো খুশি হবে, কারণ একটি অভিন্ন দেওয়ানি কার্যবিধির আওতায় তারা প্রথমবারের মতো তাদের স্বামীদেরকে তালাক দিতে পারবে। তো এই আইনি পরিবর্তনগুলোর সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে কারা? এর উত্তর স্পষ্টতই হচ্ছে পুরুষরা, যারা ধর্মীয়ভাবে নির্দিষ্ট করে দেয়া বারতি সুবিধা ভোগ করে এসেছে যা তারা এখন হারাতে বসতে পারে।

এই হচ্ছে হেফাজতের হুংকারের কারণ। এই গোষ্ঠী, সাথে আরও কম চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো মিলে নিশ্চিত করবে যে বাংলাদেশে কোনো দিন কোনো অভিন্ন দেওয়ানি কার্যবিধি প্রতিষ্ঠিত হবে না। এমনকি যেসকল পুরুষগণ নারীর সমতাকে সমর্থন করে, তারা শক্ত ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ব্যক্তিগত আইনগুলোর বিলুপ্তি সহ্য করতে পারবে না – নারীদের বেলায়েও তা সত্য। অথচ সেটা সাধন করতে না পারলে নারীরা বাংলাদেশে কোনো দিনও পুরুষদের সাথে সম্পূর্ণ সমতা অর্জন করতে পারবে না।

বিশেষ হালনাগাদঃ বিগত ৫ তারিখে এই লেখাটির ইংরেজি সংস্করণটি প্রকাশ করার পরপরই বাংলাদেশি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে আমার একটি সাক্ষাৎকার দেখার সৌভাগ্য হয় যেখানে কমিশনের দুইজন সদস্য যথেষ্ট বেগের সাথে সকলকে বুঝিয়েছেন যে ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনগুলোকে স্পর্শ করা হয়নি।

তারা একটি ঐচ্ছিক এবং নিধার্মিক দেওয়ানি কার্যবিধি (সিভিল কোড)-এর প্রস্তাবনা রেখেছেন, যেখানে ব্যক্তিগত আইনগুলো হবে নিধার্মিক এবং শুধু তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইনের আওতায় পারিবারিক ব্যাপারগুলো সম্পন্ন করতে চায়। এই কার্যবিধিটি হবে সকল ক্ষেত্রে পরম সমতার ভিত্তিতে। এটি একটি অভিনব চিন্তা যা যথেষ্ট পর্যালোচনার দাবি রাখে।

The Case For Absolute Equality Of Women & Men in Bangladesh

The never ending journey

Riaz Osmani

5 May 2025

Bangladesh’s Interim Government’s Chief Adviser Professor Yunus had recently appointed a Women’s Affairs Reform Commission, which has recently submitted its report to the Chief Adviser. After some of the report’s recommendations appeared in the media, the country’s fundamentalist Islamic group called Hefazat-e-Islam called for the disbandment of the Commission.

This is due to some demands of a personal nature to do with women that were considered un-Islamic. One such demand was the right to equal inheritance as men. Let’s dive into the politics of it all.

In Bangladesh, outside of the Penal Code (which deals with general criminality), we have a set of Civil Laws which contain Personal Laws, some codified and some not. It is these Personal Laws that govern issues of marriage, divorce, inheritance etc. This is where religious edicts come in for Muslims, Hindus, Christians etc. which are all different and discriminate against women in their own ways.

The only way to remove these varying degrees of religion based discrimination from Bangladesh’s legal system is by replacing the Civil Laws (which contain the religion based Personal Laws), with a new fully coded and uniform Civil Code.

In this new Civil Code, men and women would enjoy equal facilities when it came to the benefits of marrigage, divorce, inheritance etc. There would be no religion based discrimination left in Bangladesh’s legal system. Men and women of all religions in Bangladesh would have this Civil Code equally applicable to them, be they Muslim, Hindu, Christian, Buddhist and others. Men would not be subject to any new discrimination.

This is where all the difficulty would arise. In Bangladesh’s legal system which is based on the secular British Common Law, the area of Personal Law is the only area where religious edicts have been put in place, be they Muslim, Hindu, Christian etc. (it was the British rulers who did this out of presumed necessity).

Would Muslims or Hindus who have always obeyed these religious instructions in the areas of marriage, divorce, inheritance etc. be willing to see them eliminated from the legal system? Many Muslim women may wish to, since they would no longer have to contend with just half the amount of inheritance as that of their brothers.

Many Hindu women would be happy too, since under a uniform Civil Code, they would for the first time be able to divorce their husbands! So who would be the obstacles to these legal changes? The answer is obviously men who have enjoyed religiously sanctioned privileges that they would now be set to lose.

This explains Hefazat’s screaming! Groups such as these (and many moderate ones too) would see to it that Bangladesh never gets a uniform Civil Code. Even men who support equality for women may simply not be able to contend with the elimination of the Personal Laws out of strong religious beliefs (same with women). Yet, unless that can be achieved, women in Bangladesh will never achieve full equality with men.

Special Update: Soon after publishing of this blog, I had the pleasure of watching an interview on a private Bangladeshi TV channel where a couple of the members of the Commission were interviewed. That is where they went at great lengths to explain that existing Personal Laws would not be touched.

What they have proposed is an optional non-religious Civil Code containing non-religious Personal Laws for those who wish to opt-in to it. It would be based on absolute equality in all personal spheres. This is a novel idea that is definitely worth a lot of consideration.

বাংলাদেশ ২.০ গড়ে তোলার পথ নির্দেশক

জুলাই সনদ

রিয়াজ ওসমানী

১৬ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কার বা মেরামত, সাথে নির্বাচন নিয়ে যারা বিএনপির প্যান প্যান এবং অসহযোগিতামূলক রাজনীতির কারণে আগামী কয়েকটা মাসের চিত্রটা বুঝতে হিমসিম খাচ্ছেন, বা সঠিক চিত্রটা বোঝার জন্য যেই মেহনতটার প্রয়োজন, তা করতে অপারগ, অক্ষম বা অলস, তাদের জন্য এই লেখাটা দিলাম।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস ছাত্র-জনতার দাবী বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতের সংস্কার বা মেরামতের সুপারিশমালা তৈরি করার জন্য অনেকগুলো কমিশন গঠন করে দিয়েছিলেন। কয়েকটা খাতের উদাহরণ হচ্ছে প্রশাসন, পুলিশ, সংবিধান, নির্বাচন ইত্যাদি। তাদের মধ্যে ছয়টা কমিশন তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বাকিরাও দিচ্ছে।

পরবর্তী কাজ হচ্ছে অধ্যাপক ইউনুস এবং অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দলের সাথে বসে সকলের লিখিত মতামতের ভিত্তিতে একটি ন্যূনতম সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন। বুঝাই যাচ্ছে যে বিএনপি খুবই কম সংস্কার চাবে আর বাকিরা (বিশেষ করে নব নির্মিত এনসিপি) কমিশনগুলোর সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন চাবে। এই দর কষাকষি চলবে আগামী জুলাই পর্যন্ত যার নেতৃত্ব দেবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

দর কষাকষির শেষে আগামী সম্ভাব্য সংস্কারের পরিধি নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হলে প্রশ্ন উঠবে সেই পরিধিটা কি অনেক বড় (অনেক সংস্কারের)? নাকি অনেক ছোট (অল্প সংস্কারের)? ছোট পরিধির হলে সরকার এই বছরের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন দিয়ে দেবে এবং তার আগে ছোট সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে ফেলবে। বড় পরিধির হলে সরকার আগামী বছরের জুন মাসে নির্বাচন দেবে এবং তার আগে বড় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে ফেলবে।

এখানে বিশেষভাবে বলে রাখা উচিৎ যে সংস্কার কমিশনগুলো তাদের প্রতিবেদন তৈরি করার সময়ে নানা উপায়ে দেশের জনগণের কাছ থেকে প্রচুর সুপারিশ ও মতামত গ্রহণ করেছিল। কাজেই দিনের শেষে সংস্কারের পরিধি নিয়ে একটি ন্যূনতম ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে নির্দিধায় বলা যাবে যে সেখানে জনগণেরই আকাঙ্খা ফুটে উঠেছে। সেই আকাঙ্খাকে আনুষ্ঠানিক একটা রূপ দেয়ার জন্য জুলাই মাসে লিখিত আকারে ঘোষণা করা হবে একটি “জুলাই সনদ”, ইংরেজিতে যেটা “জুলাই চারটার”। এই সনদে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল সই করবে এবং সনদটি তখন হয়ে উঠবে বাংলাদেশ ২.০ গড়ে তোলার পথ নির্দেশক।

বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার বনাম চক্রান্ত তত্ত্ব

যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার

রিয়াজ ওসমানী

১ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের অনেক মানুষ মনে করে যে পশ্চিমা দেশগুলো প্রাচ্যের সংস্কৃতি, মুসলমান সংস্কৃতি ইত্যাদির ক্ষতি সাধন করার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি এলজিবিটি এজেন্ডা/ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। তারা ধারণা রাখে যে তহবিল পাঠিয়ে পশ্চিমারা স্থানীয় মানুষদেরকে ভিন্ন যৌন অভিমুখিতার বা লিঙ্গ পরিচয়ের কেউ হতে উৎসাহিত করে এবং এলজিবিটি সংষ্কৃতি ছড়িয়ে দেয়। এটি একটি উটকো অভিযোগ। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে আপনি কারও যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তন করতে পারবেন না। কেউ নিজেরটা পরিবর্তন করতে পারে না। এটি সহজাত একটি বিষয়।

জেন্ডার ডিসফোরিয়া নামক একটি বিষয়ের কারণে কেউ যদি তার লিঙ্গ পরিচয়কে নিজের জৈবিক লিঙ্গ থেকে আলাদা বলে মনে করে, তাহলে তার লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রেও একই কথাই প্রযোজ্য। তাই “প্রমোট” করার ধারণাটির সম্পূর্ণরূপে কোনও ভিত্তি নেই। পশ্চিমা এবং স্থানীয় কর্মীরা কেবল দুটি কাজে নিয়োজিত আছে: ১) দেশের যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের নিজেদের আবিষ্কার এবং প্রকাশ করার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা; ২) প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করা।

অন্য কিছু প্রচার করা হচ্ছে না, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতে দেখা যায় এমন কোনো সমকামী উপ-সংস্কৃতিও নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার মানেই তাদের ভোগলিপ্সু জীবন ধারণ নয়। সেটা হতে পারে কিন্তু লক্ষ্য সেটা নয় (অনেক শহুরে বিষমকামীরা এই ধরণের কাজে লিপ্ত হয়)। লক্ষ্য হলো দেশের যৌন সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা যেন নিজেদের কাছে নিজে সৎ থাকতে পারে – অর্থাৎ নিজেদের কাছে নিজেদের পরিচয় আড়াল করে না রাখে – এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভয়ের বাইরে থেকেই জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

এর জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমাদের দুটি জিনিস প্রয়োজন:

ক) বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অপসারণ। এটি ব্যাপকভাবে ভুল বোঝা হয়, এটা অর্থহীন – এখন পর্যন্ত এটা বাস্তবায়িত না হলেও এটা শ্বাসরুদ্ধকর একটি বিধান;

খ) বৈষম্য রোধে নতুন বা সংশোধিত সংবিধানে প্রস্তাবিত সমস্ত নির্ণায়কের মধ্যে যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা।

এটি কোনো অস্বাভাবিক বা অযৌকিত দাবী নয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫-১০ শতাংশ মানুষ সর্বদাই যৌন সংখ্যালঘুদের মধ্যে পড়ে এসেছে এবং এটি সর্বদা সেভাবেই থাকবে। বাংলাদেশেও এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। প্রকৃতি মা এটিকে সেভাবেই চেয়েছে। যদি কেউ সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে তবে তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ ২.০ সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য অনুমোদন করতে পারে না। গণতন্ত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ একসাথে চলে না।

LGBTQ Rights in Bangladesh vs Conspiracy Theories

LGBTQ Rights Are Human Rights

Riaz Osmani

1 March 2025

So many people in Bangladeesh seem to think that there is a global LGBTQ agenda/conspiracy funded by western countries to damage eastern cultures, Muslim cultures etc. Funds are supposedly being used to convert people and promote “LGBTism”. This is a preposterous allegation. It has been scientifically shown that you cannot change someone’s sexual orientation. One cannot change ones own. It is innate.

Same goes with someone’s gender identity if it deems itself to be different than that person’s biological sex due to a condition called gender dysphoria. So the idea of promoting or converting is utterly without any basis. There are only two things that are being promoted by the West and local activists: 1) create a safe place for the LGBTQ people in the country to discover and express themselves; 2) give necessary mental support for 1.

Nothing else is being promoted, not even subcultures as one can see in the West. In Bangladesh’s context, LGBTQ rights will not necessarily translate into hedonistic behaviour. It could, but that is not the goal (many urban heterosexual people engage in such anyway). The goal is to ensure that those who are LGBTQ in the country can live their lives honestly (to themselves) and without fear (from family, society and the state).

For that we need two things from the state:

a) removal of section 377 of Bangladesh’s penal code. It is widely misunderstood, pointless, never implemented yet hugely suffocating;

b) among all the criteria that are proposed to be in the new constitution to prevent discrimination against: sexual orientation and gender identity should be included.

This is NOT a big ask. Studies have established that 5-10 percent of the world’s population has always been what is classified today as LGBTQ. And it will always remain that way. There is no exception to this in Bangladesh. Mother nature has intended it that way. Same goes for the Creator if one believes in one.

Bangladesh 2.0 cannot sanction discrimination against this population out of religious views of the majority. Democracy and majoritarianism do not go hand in hand.

জেন্ডার ডিসফোরিয়া

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্বন্ধে আমাদের সকলের ধারণা খুবই কম। অথচ আমাদের মধ্যে যারা রূপান্তরকামী আছে, তারা দিনরাত এই অবস্থাতেই ভুগে। রূপান্তরকামীদের পাশাপাশি অদ্বৈত এবং আন্তলিঙ্গরাও এই অবস্থা থেকে কষ্ট পেয়ে থাকতে পারে, যদিও তা নিয়ে বেশি গবেষণা হয়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়ক অ্যাপ চ্যাটজপিটি ব্যবহার করে জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্বন্ধে সর্বশেষ লভ্য তথ্যের একটি সারমর্ম তৈরি করা হলো। সামান্য ভাষাজনিত পরিমার্জনের পর এখানে সেই সারমর্মটি পেশ করা হলো।


জেন্ডার ডিসফোরিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি তার জন্মগত লিঙ্গ এবং তার লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অমিল অনুভব করেন, যা মানসিক অস্বস্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লক্ষণসমূহ:

শিশুদের মধ্যে: অন্য লিঙ্গের কেউ হতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, খেলাধুলায় বিপরীত লিঙ্গের ভূমিকা গ্রহণের প্রবণতা, তাদের জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি অসন্তোষ, এবং বিপরীত লিঙ্গের খেলনা বা কার্যকলাপের প্রতি আকর্ষণ।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে: নিজের জন্মগত যৌন বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করার প্রবল ইচ্ছা, বিপরীত লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, এবং বিপরীত লিঙ্গের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া ধারণ করার অভ্যাস।

কারণসমূহ:

জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে নির্ণয় করা যায়নি। এটি বংশাণুগত (জিনগত), হরমোনজনিত, এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গর্ভকালীন সময়ে হরমোনের প্রভাব, জিনগত কারণ, এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্ণয়:

একজন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। এটি সাধারণত ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় সম্পর্কিত ইতিহাস, অভিজ্ঞতা, এবং অনুভূতিগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে। মূল লক্ষ্য হলো এই অস্বস্তির মাত্রা ও প্রভাব বোঝা।

চিকিৎসা:

চিকিৎসা একেবারেই ব্যক্তিগত এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—

  • মানসিক সহায়তা: পরামর্শ বা সাইকোথেরাপি, যা লিঙ্গ পরিচয় অন্বেষণ করতে এবং সংশ্লিষ্ট মানসিক সমস্যাগুলি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
  • হরমোন থেরাপি: লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিকাশের জন্য হরমোন ব্যবহার।
  • সার্জিকাল হস্তক্ষেপ: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, যাতে তা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত লিঙ্গের সাথে মানানসই হয়।
  • সামাজিক রূপান্তর: নাম, সর্বনাম, এবং পোশাক-পরিচ্ছদসহ বহিরাগত প্রকাশের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।

সকল ব্যক্তি এই চিকিৎসা গ্রহণ করেন না; এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তির প্রয়োজন এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।

সহায়তা:

পরিবার, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক এবং সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষায়িত সমর্থন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া বাড়তি সহায়তা ও বোঝাপড়া প্রদান করতে পারে।

যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ জেন্ডার ডিসফোরিইয়ায় ভুগেন, তাহলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যাতে তারা আপনার অনুভূতি অন্বেষণ করতে এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।

যৌন অভিমুখিতা নির্ণয় হওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য

sexual orientation

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়ক অ্যাপ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে যৌন অভিমুখিতা কীভাবে নির্ধারিত হয় তার সম্বন্ধে সর্বশেষ লভ্য তথ্যের একটি সারমর্ম তৈরি করা হলো। সামান্য ভাষাজনিত পরিমার্জনের পর এখানে সেই সারমর্মটি পেশ করা হলো।


১) বংশাণুভিত্তিক (জেনেটিক)

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মানুষের যৌন অভিমুখিতা বংশাণুগত (জেনেটিক) উপাদান দ্বারা প্রভাবিত। জমজদের উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, একজন জমজ যদি সমকামী হয়, তবে অন্য জমজেরও সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও একক “গে জিন” চিহ্নিত করা যায়নি। এর পরিবর্তে একাধিক জিনের সমন্বয়ে এই প্রবণতা নির্ধারিত হয় বলে গবেষণায় ফুটে উঠছে।

২) গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব (প্রেনাটাল হরমোনাল প্রভাব)

গর্ভাবস্থায় যখন হরমোনের নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে, তা শিশুর মস্তিষ্কের গঠন এবং যৌন অভিমুখিতার উপর প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন)-এর উচ্চ মাত্রা উপস্থিত থাকলে তা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পারে।

৩) মস্তিষ্কের বিকাশ (ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট)

গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমকামী এবং বিষমকামী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ অংশের গঠন আলাদা। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশ, যা যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেটার মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে এবং এটি গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে সম্পর্কিত।

এই সকল জৈবিক উপাদান যৌন অভিমুখিতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, সেগুলো একে অপরের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করে, এবং পরিপূরকভাবে তারা একটি মানুষের যৌনতা নির্ধারণে কাজ করে।

Adieu Palestine

Riaz Osmani

11 February 2025

Having observed the Israeli-Palestinian conflict closely for the last 30 years, it pains me to say this. Unless activists like Peter Beinart are successful in changing hearts and minds in order to establish a binational state for both peoples, with equal status, dignity, respect, rights and responsibilities, the fate of Palestinians is going to be similar to that of the Kurdhish people.

They will be without a country of their own and will live as displaced people throughtout the world. The dream of a two-state solution is long dead. I will be very happy to be wrong in the months and years ahead but I am not going to hold my breath. History may not apportion blame for this in one tune, but I am going to apportion blame for this equally to both sides. But Israel has won the battle for land.

আল বিদা প্যালেস্টাইন

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

গত ৩০ বছর ধরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর, এটা বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে। পিটার বাইনার্টের মতো কর্মীরা যদি উভয় মানুষদের জন্য সমান মর্যাদা, সম্মান, অধিকার এবং দায়িত্ব সহ দ্বিজাতি বিশিষ্ট “একটি” রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হৃদয় ও মন পরিবর্তন করতে সক্ষম না হন, তাহলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য কুর্দি জনগণের মতোই হবে।

তাদের নিজস্ব কোনও দেশ থাকবে না এবং তারা সারা বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষ হিসেবে বাস করবে। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের স্বপ্ন অনেক আগেই মৃত। আগামী মাস এবং বছরগুলোতে আমি ভুল প্রমাণিত হলে আমিই খুশি হব। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি আমার শ্বাস আটকে রাখব না। ইতিহাস হয়তো এক সুরে এর জন্য কাওকে দোষারোপ করবে না, তবে আমি উভয় পক্ষকেই সমানভাবে দোষারোপ করব। কিন্তু ইসরায়েল তার ভূমির যুদ্ধে জিতে গেছে।