বাংলাদেশে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার বনাম চক্রান্ত তত্ত্ব

যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার

রিয়াজ ওসমানী

১ মার্চ ২০২৫

বাংলাদেশের অনেক মানুষ মনে করে যে পশ্চিমা দেশগুলো প্রাচ্যের সংস্কৃতি, মুসলমান সংস্কৃতি ইত্যাদির ক্ষতি সাধন করার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি এলজিবিটি এজেন্ডা/ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। তারা ধারণা রাখে যে তহবিল পাঠিয়ে পশ্চিমারা স্থানীয় মানুষদেরকে ভিন্ন যৌন অভিমুখিতার বা লিঙ্গ পরিচয়ের কেউ হতে উৎসাহিত করে এবং এলজিবিটি সংষ্কৃতি ছড়িয়ে দেয়। এটি একটি উটকো অভিযোগ। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে আপনি কারও যৌন অভিমুখিতা পরিবর্তন করতে পারবেন না। কেউ নিজেরটা পরিবর্তন করতে পারে না। এটি সহজাত একটি বিষয়।

জেন্ডার ডিসফোরিয়া নামক একটি বিষয়ের কারণে কেউ যদি তার লিঙ্গ পরিচয়কে নিজের জৈবিক লিঙ্গ থেকে আলাদা বলে মনে করে, তাহলে তার লিঙ্গ পরিচয়ের ক্ষেত্রেও একই কথাই প্রযোজ্য। তাই “প্রমোট” করার ধারণাটির সম্পূর্ণরূপে কোনও ভিত্তি নেই। পশ্চিমা এবং স্থানীয় কর্মীরা কেবল দুটি কাজে নিয়োজিত আছে: ১) দেশের যৌন সংখ্যালঘু মানুষদের নিজেদের আবিষ্কার এবং প্রকাশ করার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা; ২) প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করা।

অন্য কিছু প্রচার করা হচ্ছে না, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতে দেখা যায় এমন কোনো সমকামী উপ-সংস্কৃতিও নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যৌন সংখ্যালঘুদের অধিকার মানেই তাদের ভোগলিপ্সু জীবন ধারণ নয়। সেটা হতে পারে কিন্তু লক্ষ্য সেটা নয় (অনেক শহুরে বিষমকামীরা এই ধরণের কাজে লিপ্ত হয়)। লক্ষ্য হলো দেশের যৌন সংখ্যালঘু ব্যক্তিরা যেন নিজেদের কাছে নিজে সৎ থাকতে পারে – অর্থাৎ নিজেদের কাছে নিজেদের পরিচয় আড়াল করে না রাখে – এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভয়ের বাইরে থেকেই জীবন অতিবাহিত করতে পারে।

এর জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমাদের দুটি জিনিস প্রয়োজন:

ক) বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অপসারণ। এটি ব্যাপকভাবে ভুল বোঝা হয়, এটা অর্থহীন – এখন পর্যন্ত এটা বাস্তবায়িত না হলেও এটা শ্বাসরুদ্ধকর একটি বিধান;

খ) বৈষম্য রোধে নতুন বা সংশোধিত সংবিধানে প্রস্তাবিত সমস্ত নির্ণায়কের মধ্যে যৌন অভিমুখিতা এবং লিঙ্গ পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা।

এটি কোনো অস্বাভাবিক বা অযৌকিত দাবী নয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে বিশ্বের জনসংখ্যার ৫-১০ শতাংশ মানুষ সর্বদাই যৌন সংখ্যালঘুদের মধ্যে পড়ে এসেছে এবং এটি সর্বদা সেভাবেই থাকবে। বাংলাদেশেও এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। প্রকৃতি মা এটিকে সেভাবেই চেয়েছে। যদি কেউ সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে তবে তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ ২.০ সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বৈষম্য অনুমোদন করতে পারে না। গণতন্ত্র এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ একসাথে চলে না।

LGBTQ Rights in Bangladesh vs Conspiracy Theories

LGBTQ Rights Are Human Rights

Riaz Osmani

1 March 2025

So many people in Bangladeesh seem to think that there is a global LGBTQ agenda/conspiracy funded by western countries to damage eastern cultures, Muslim cultures etc. Funds are supposedly being used to convert people and promote “LGBTism”. This is a preposterous allegation. It has been scientifically shown that you cannot change someone’s sexual orientation. One cannot change ones own. It is innate.

Same goes with someone’s gender identity if it deems itself to be different than that person’s biological sex due to a condition called gender dysphoria. So the idea of promoting or converting is utterly without any basis. There are only two things that are being promoted by the West and local activists: 1) create a safe place for the LGBTQ people in the country to discover and express themselves; 2) give necessary mental support for 1.

Nothing else is being promoted, not even subcultures as one can see in the West. In Bangladesh’s context, LGBTQ rights will not necessarily translate into hedonistic behaviour. It could, but that is not the goal (many urban heterosexual people engage in such anyway). The goal is to ensure that those who are LGBTQ in the country can live their lives honestly (to themselves) and without fear (from family, society and the state).

For that we need two things from the state:

a) removal of section 377 of Bangladesh’s penal code. It is widely misunderstood, pointless, never implemented yet hugely suffocating;

b) among all the criteria that are proposed to be in the new constitution to prevent discrimination against: sexual orientation and gender identity should be included.

This is NOT a big ask. Studies have established that 5-10 percent of the world’s population has always been what is classified today as LGBTQ. And it will always remain that way. There is no exception to this in Bangladesh. Mother nature has intended it that way. Same goes for the Creator if one believes in one.

Bangladesh 2.0 cannot sanction discrimination against this population out of religious views of the majority. Democracy and majoritarianism do not go hand in hand.

জেন্ডার ডিসফোরিয়া

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্বন্ধে আমাদের সকলের ধারণা খুবই কম। অথচ আমাদের মধ্যে যারা রূপান্তরকামী আছে, তারা দিনরাত এই অবস্থাতেই ভুগে। রূপান্তরকামীদের পাশাপাশি অদ্বৈত এবং আন্তলিঙ্গরাও এই অবস্থা থেকে কষ্ট পেয়ে থাকতে পারে, যদিও তা নিয়ে বেশি গবেষণা হয়নি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়ক অ্যাপ চ্যাটজপিটি ব্যবহার করে জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্বন্ধে সর্বশেষ লভ্য তথ্যের একটি সারমর্ম তৈরি করা হলো। সামান্য ভাষাজনিত পরিমার্জনের পর এখানে সেই সারমর্মটি পেশ করা হলো।


জেন্ডার ডিসফোরিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি তার জন্মগত লিঙ্গ এবং তার লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অমিল অনুভব করেন, যা মানসিক অস্বস্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লক্ষণসমূহ:

শিশুদের মধ্যে: অন্য লিঙ্গের কেউ হতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, খেলাধুলায় বিপরীত লিঙ্গের ভূমিকা গ্রহণের প্রবণতা, তাদের জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি অসন্তোষ, এবং বিপরীত লিঙ্গের খেলনা বা কার্যকলাপের প্রতি আকর্ষণ।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে: নিজের জন্মগত যৌন বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করার প্রবল ইচ্ছা, বিপরীত লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, এবং বিপরীত লিঙ্গের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া ধারণ করার অভ্যাস।

কারণসমূহ:

জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে নির্ণয় করা যায়নি। এটি বংশাণুগত (জিনগত), হরমোনজনিত, এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গর্ভকালীন সময়ে হরমোনের প্রভাব, জিনগত কারণ, এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব এতে ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্ণয়:

একজন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। এটি সাধারণত ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় সম্পর্কিত ইতিহাস, অভিজ্ঞতা, এবং অনুভূতিগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে। মূল লক্ষ্য হলো এই অস্বস্তির মাত্রা ও প্রভাব বোঝা।

চিকিৎসা:

চিকিৎসা একেবারেই ব্যক্তিগত এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—

  • মানসিক সহায়তা: পরামর্শ বা সাইকোথেরাপি, যা লিঙ্গ পরিচয় অন্বেষণ করতে এবং সংশ্লিষ্ট মানসিক সমস্যাগুলি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
  • হরমোন থেরাপি: লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিকাশের জন্য হরমোন ব্যবহার।
  • সার্জিকাল হস্তক্ষেপ: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, যাতে তা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত লিঙ্গের সাথে মানানসই হয়।
  • সামাজিক রূপান্তর: নাম, সর্বনাম, এবং পোশাক-পরিচ্ছদসহ বহিরাগত প্রকাশের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।

সকল ব্যক্তি এই চিকিৎসা গ্রহণ করেন না; এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তির প্রয়োজন এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।

সহায়তা:

পরিবার, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক এবং সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষায়িত সমর্থন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া বাড়তি সহায়তা ও বোঝাপড়া প্রদান করতে পারে।

যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ জেন্ডার ডিসফোরিইয়ায় ভুগেন, তাহলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যাতে তারা আপনার অনুভূতি অন্বেষণ করতে এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।

যৌন অভিমুখিতা নির্ণয় হওয়া সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য

sexual orientation

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়ক অ্যাপ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে যৌন অভিমুখিতা কীভাবে নির্ধারিত হয় তার সম্বন্ধে সর্বশেষ লভ্য তথ্যের একটি সারমর্ম তৈরি করা হলো। সামান্য ভাষাজনিত পরিমার্জনের পর এখানে সেই সারমর্মটি পেশ করা হলো।


১) বংশাণুভিত্তিক (জেনেটিক)

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মানুষের যৌন অভিমুখিতা বংশাণুগত (জেনেটিক) উপাদান দ্বারা প্রভাবিত। জমজদের উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, একজন জমজ যদি সমকামী হয়, তবে অন্য জমজেরও সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও একক “গে জিন” চিহ্নিত করা যায়নি। এর পরিবর্তে একাধিক জিনের সমন্বয়ে এই প্রবণতা নির্ধারিত হয় বলে গবেষণায় ফুটে উঠছে।

২) গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব (প্রেনাটাল হরমোনাল প্রভাব)

গর্ভাবস্থায় যখন হরমোনের নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে, তা শিশুর মস্তিষ্কের গঠন এবং যৌন অভিমুখিতার উপর প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন)-এর উচ্চ মাত্রা উপস্থিত থাকলে তা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পারে।

৩) মস্তিষ্কের বিকাশ (ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট)

গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমকামী এবং বিষমকামী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ অংশের গঠন আলাদা। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশ, যা যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেটার মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে এবং এটি গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে সম্পর্কিত।

এই সকল জৈবিক উপাদান যৌন অভিমুখিতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, সেগুলো একে অপরের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করে, এবং পরিপূরকভাবে তারা একটি মানুষের যৌনতা নির্ধারণে কাজ করে।

Adieu Palestine

Riaz Osmani

11 February 2025

Having observed the Israeli-Palestinian conflict closely for the last 30 years, it pains me to say this. Unless activists like Peter Beinart are successful in changing hearts and minds in order to establish a binational state for both peoples, with equal status, dignity, respect, rights and responsibilities, the fate of Palestinians is going to be similar to that of the Kurdhish people.

They will be without a country of their own and will live as displaced people throughtout the world. The dream of a two-state solution is long dead. I will be very happy to be wrong in the months and years ahead but I am not going to hold my breath. History may not apportion blame for this in one tune, but I am going to apportion blame for this equally to both sides. But Israel has won the battle for land.

আল বিদা প্যালেস্টাইন

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

গত ৩০ বছর ধরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর, এটা বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে। পিটার বাইনার্টের মতো কর্মীরা যদি উভয় মানুষদের জন্য সমান মর্যাদা, সম্মান, অধিকার এবং দায়িত্ব সহ দ্বিজাতি বিশিষ্ট “একটি” রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হৃদয় ও মন পরিবর্তন করতে সক্ষম না হন, তাহলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য কুর্দি জনগণের মতোই হবে।

তাদের নিজস্ব কোনও দেশ থাকবে না এবং তারা সারা বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষ হিসেবে বাস করবে। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের স্বপ্ন অনেক আগেই মৃত। আগামী মাস এবং বছরগুলোতে আমি ভুল প্রমাণিত হলে আমিই খুশি হব। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি আমার শ্বাস আটকে রাখব না। ইতিহাস হয়তো এক সুরে এর জন্য কাওকে দোষারোপ করবে না, তবে আমি উভয় পক্ষকেই সমানভাবে দোষারোপ করব। কিন্তু ইসরায়েল তার ভূমির যুদ্ধে জিতে গেছে।

গোয়াল ঘর থেকে এবার বের হয়ে আসুন

রিয়াজ ওসমানী

১৭ ডিসেম্বর ২০২৪

সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি আগামীতে জামাত শাসিত এবং/অথবা একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে তার দায়ভার পুরাটাই এসে পড়বে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থিত সকল বাংলাদেশি মুক্তমনা, নাস্তিক, প্রগতিশীল ইত্যাদি মানুষদের উপর।

যেহেতু এই সরকারের সমর্থনে জামাতি এবং মুসলমান মৌলবাদীরাও আছে, এখন সকল মুক্তমনা, নাস্তিক ও প্রগতিশীলদের আওয়াজ আরো জোরালো করতে হবে। তবে তা ফেইসবুকে হাউ কাউ, প্যান প্যান আর ভ্যান ভ্যান করে নয়। এই সরকারকে সমর্থন করে, টুইটার (এক্স) ব্যবহার করে, ইমেল করে, চিঠি লিখে, ফোন করে, পারলে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে এই সরকারের প্রতিটি মানুষের কাছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরে যাতে তাদের কানে শুধু জামাতি এবং মুসলমান মৌলবাদীদের কথাই না পৌছায়।

আমরা যে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, সংবিধানকে সেকুলার দেখতে চাই এবং রাজনৈতিক ইসলামে যেই বৈষম্য অন্তর্নিহিত, তা বাংলাদেশে দেখতে চাই না, সেটা তাদেরকে বার বার শোনাতে হবে৷ ছাত্র-জনতার সাথে এই নিয়ে ভদ্র ভাষায় বিস্তর আলোচনা করতে হবে।

তা না করে মুক্তমনা, নাস্তিক ও প্রগতিশীলরা ফেইসবুকে খালি হাউ কাউ করে, বিলাপ করে আর আফসোস করে! এতে কোন কচুটা সাধন হচ্ছে? বাংলাদেশের আগামী দিনের পথকে প্রভাবিত করার বর্তমান পন্থা হচ্ছে এই সরকারকে সমর্থন করে তাকে প্রভাবিত করা, কমিশনগুলোকে প্রভাবিত করা। তা না করে সবাই গোয়াল ঘরে বসে হাম্বা হাম্বা করছে। আজই আপনাদের পন্থা পরিবর্তন করুন। পরে আর পারবেন না।

হাউ কাউ একটু কম করুন

বাংলাদেশ ২.০

রিয়াজ ওসমানী

২০ নভেম্বর ২০২৪

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজের ধীর গতি সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত উপদেষ্টারা কীভাবে ওঁদের কাজ করবেন সেটাই ওঁদের জানা ছিল না। রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো কী কী তা ওঁদের শিখতে হয়েছে। তার উপর হয়েছে ভয়াবহ বন্যা, অজস্র দাবী দাওয়ার হিড়িক এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে সংঘর্ষ। এখনও পুলিশ প্রশাসন পুরাপুরি গড়ে তোলা যায়নি। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে আমলাতন্ত্র। আমলারা এই সরকারকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সহযোগিতা করছে না, যার কারণ বহুবিধ।

আমলা গোষ্ঠীর সংস্কারের কাজ তো এখনও শুরুই করা হয়নি। কমিশনগুলোর প্রতিবেদন আসার পর সরকার, রাজনীতিবীদ, ছাত্র-জনতা এবং সুশীল সমাজ মিলে সিদ্ধান্ত নিবে কী কী সংস্কার করা হবে। হয়তো আমলা গোষ্ঠীর সংস্কারের বিষয়ে সকলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে, হয়তো যাবে না৷ কিন্তু সেই সংস্কারটি যদি হতে পারে, তারপরেই তো এই সরকারের কাজের গতির প্রসঙ্গ আসে! তার আগে যে সেই গতি অসন্তুষ্টিমূলক হবে তা সকলকে মেনে হতে হবে এবং সাবালকের মতো ধৈর্য ধরে সরকারকে তার কাজ করতে দিতে হবে।

দেশের রাজনীতিবীদ এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন কথামালা অনুষ্ঠানের পটপটি ও আঁতেলরা এটা মাথায় রেখে গঠনমূলক সমালোচনা করলে ভালো হয়। কারণ তাদের বাপেরও সাধ্য নাই মাননীয় উপদেষ্টারা যা করছেন সেটা সাধন করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখার। কেউ কেউ বলছে যে তাঁরা ঠিক মতো কাজ করতে না পারলে তাঁদের ইস্তফা দেয়া উচিৎ। এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁরা যদি দলবল মিলে সেটাই করেন, তাহলে একবারও কি ভেবে দেখেছেন দেশটির অবস্থা কী হতে পারে? হাউকাউ একটু কম করুন।

বিএনপির প্রতি সংখ্যালঘুদের নিয়ে একটি বার্তা

রিয়াজ ওসমানী

২৬ অক্টোবর ২০২৪

বাংলাদেশে নিজেকে একজন সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেয়ার অর্থ এই নয় যে সেই মানুষটা আর বাংলাদেশি রইলো না৷ সেই মানুষটার প্রথম পরিচয় সে অবশ্যই বাংলাদেশি৷ তারপর সে সংখ্যালঘু। যারা বলে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, তারা একটি রাষ্ট্রে যে কোনো প্রকার সংখ্যালঘুদের ন্যায্য দাবীগুলোর প্রতি ধ্বনি বধির থাকতে চায় এবং দাবীগুলোকে “বিশেষ সুবিধা” বা “বিশেষ চাহিদা” আখ্যা দিয়ে সকল ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বাংলাদেশের ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত, সাংষ্কৃতিক এবং যৌন সংখ্যালঘুরা এটা ভালো করেই জানে। কাজেই বিএনপিকে বিশেষ করে বলছি “বাংলাদেশে সবাই বাংলাদেশি, কেউ সংখ্যালঘু নয়”, এসব বক্তব্য পেশ করে সংখ্যালঘুদের ন্যায্য দাবীগুলোর প্রতি অসহানুভূতিশীল হবেন না। এর কারণ হচ্ছে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা খুব সহজেই তাদের পছন্দের চাহিদাগুলো রাষ্ট্রের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারে। সংখ্যালঘুদের জন্য সেটা অপেক্ষাকৃত কঠিন।

বিএনপির কিছু নেতাদের মুখে “হিন্দুরা কেন নিজেদেরকে বাংলাদেশি মনে করে না, নিজেদেরকে আগে বাংলাদেশি মনে করা উচিৎ” – জাতীয় কথাবার্তা চশমখোর জাতীয় কথাবার্তা! বাংলাদেশের হিন্দুরা অবশ্যই নিজেদেরকে আগে বাংলাদেশি মনে করে৷ তাদেরকেই বরং কিছু মুসলমানরা ভারতে চলে যেতে বলে। ইতিহাস জুড়ে অনেককে সেটা করতে বাধ্যও করা হয়েছে। উলটো দিকে কিছু মুসলমানদের মুখ থেকেই শুনেছি “আমি আগে মুসলমান, তারপর আমি বাংলাদেশি”। বাংলাদেশে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনীতি করার বদভ্যাস কাদের রয়েছে সেটা এতে সহজেই বোঝা যায়।

একটি দেশে কোনো বিশেষ শ্রেণীবিন্যাসে আনুপাতিক হারে সংখ্যায় কম হওয়া মানেই সংখ্যালঘু। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু থাকে না কী করে? ধর্মের কারণে, ভাষার কারণে, জাতের কারণে, যৌন প্রবৃত্তির কারণে বা লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশেও রয়েছে সংখ্যালঘু। এবং রাষ্ট্রের কাছে এদের দাবি দাওয়া রাখার উদ্দেশ্য একটিই – প্রতিটি রাষ্ট্রে অন্তর্নিহিত সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন বৈষম্য লাঘব করে নিজেদের জন্য সমতা অর্জন করা।

বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ণের সময়ে শেখ মুজিব নাকি পাহাড়িদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে তারা যেন বাঙালী হয়ে যায়! পাহাড়িরা নিজেদের ভাষা ও সংষ্কৃতিকে বজায় রেখে বাংলা ভাষাও শিখতে পারে। কিন্তু তারা বাঙালী হয়ে যাবে কী করে? বাংলা শিখলেই বাঙালী?

বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে সংখ্যালঘু শব্দটা ব্যবহার করার বিরুদ্ধে শক্তভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? আমরা বিভক্ত হয়ে যাবো বলে? নাকি সবার উপর সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ চাপিয়ে দিতে পারলেই অধিকাংশ জনগণের আরাম?

আমাদের মাঝেকার বৈচিত্র‍্যগুলোকে আমাদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করতে না দিলেই তো হলো। বৈচিত্র‍্যের মাঝেই তৈরি হবে আমাদের জাতীয় ঐক্য যা একটি ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া। এবং তার জন্য প্রয়োজন আমাদের বৈচিত্র‍্যগুলোর স্বীকৃতি, সেগুলোর সম্বন্ধে সামগ্রিক সচেতনতা, এবং পরষ্পর সহিষ্ণুতা।

কিছু মানুষের ধৃষ্টতা এবং দ্বিচারিতা

রিয়াজ ওসমানী

৩ অক্টোবর ২০২৪

সারা জীবন যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা দুনিয়ার গিবত গেয়ে দিনের শেষে ভিসার জন্য সেই আমেরিকার দূতাবাসের সামনে কাতারে দাঁড়ানোর মতো ধৃষ্টতা এবং দ্বিচারিতা বাংলাদেশের বামপন্থীরা এবং মুসলমান মৌলবাদীরাই দেখাতে পারে। তারা একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। অথচ বাংলাদেশকে আমরা অধিকাংশ মানুষই অনেকটা পশ্চিমা দেশগুলোর ধাঁচে দেখতে চাই।

আমাদের দেশে আমরা চাই গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সকল মৌলিক মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত সুশীল সমাজ, বহুত্ববাদ, সকল প্রকার ধর্মালম্বীর এবং নিধার্মিকদের সমান অবস্থান, দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া সকল লিঙ্গের, জাতের, বর্ণের ও ভাষার মানুষদের সমান অবস্থান, মূলধারার চেয়ে ভিন্ন যৌন প্রবৃত্তি অথবা লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারী – অর্থাৎ যৌন সংখ্যালঘুদের সমান নাগরিক অধিকার, সর্বাঙ্গীন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ, একের ভিন্নতার প্রতি অপরের সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধ, ইত্যাদি।

এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশকে রাশিয়া আর চীনের মতো দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ট না হয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ট হওয়াই শ্রেয়। রাশিয়া ও চীন উপরের বৈশিষ্টগুলো একেবারেই বহন করে না। সাম্রাজ্যবাদের জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে বামপন্থী ও মুসলমান মৌলবাদীদের একটি মুদ্রাদোষ। অথচ রাশিয়া আর চীনের সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তারা একেবারেই অজ্ঞ।

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিল, তিনি বাইডেনের ঘেটুপুত্র – এই ধরনের কথা যারা বলে, তাদের অনেককেই আগামীতে কোনো এক সময়ে আমেরিকার ভেতরেই খুঁজে পাওয়া যাবে। সংকীর্ণ মস্তিষ্ক দিয়ে যারা সব কিছু বিশ্লেষণ করে, তারা এরকমই হয়ে থাকে।