So many people in Bangladeesh seem to think that there is a global LGBTQ agenda/conspiracy funded by western countries to damage eastern cultures, Muslim cultures etc. Funds are supposedly being used to convert people and promote “LGBTism”. This is a preposterous allegation. It has been scientifically shown that you cannot change someone’s sexual orientation. One cannot change ones own. It is innate.
Same goes with someone’s gender identity if it deems itself to be different than that person’s biological sex due to a condition called gender dysphoria. So the idea of promoting or converting is utterly without any basis. There are only two things that are being promoted by the West and local activists: 1) create a safe place for the LGBTQ people in the country to discover and express themselves; 2) give necessary mental support for 1.
Nothing else is being promoted, not even subcultures as one can see in the West. In Bangladesh’s context, LGBTQ rights will not necessarily translate into hedonistic behaviour. It could, but that is not the goal (many urban heterosexual people engage in such anyway). The goal is to ensure that those who are LGBTQ in the country can live their lives honestly (to themselves) and without fear (from family, society and the state).
For that we need two things from the state:
a) removal of section 377 of Bangladesh’s penal code. It is widely misunderstood, pointless, never implemented yet hugely suffocating;
b) among all the criteria that are proposed to be in the new constitution to prevent discrimination against: sexual orientation and gender identity should be included.
This is NOT a big ask. Studies have established that 5-10 percent of the world’s population has always been what is classified today as LGBTQ. And it will always remain that way. There is no exception to this in Bangladesh. Mother nature has intended it that way. Same goes for the Creator if one believes in one.
Bangladesh 2.0 cannot sanction discrimination against this population out of religious views of the majority. Democracy and majoritarianism do not go hand in hand.
জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্বন্ধে আমাদের সকলের ধারণা খুবই কম। অথচ আমাদের মধ্যে যারা রূপান্তরকামী আছে, তারা দিনরাত এই অবস্থাতেই ভুগে। রূপান্তরকামীদের পাশাপাশি অদ্বৈত এবং আন্তলিঙ্গরাও এই অবস্থা থেকে কষ্ট পেয়ে থাকতে পারে, যদিও তা নিয়ে বেশি গবেষণা হয়নি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়ক অ্যাপ চ্যাটজপিটি ব্যবহার করে জেন্ডার ডিসফোরিয়া সম্বন্ধে সর্বশেষ লভ্য তথ্যের একটি সারমর্ম তৈরি করা হলো। সামান্য ভাষাজনিত পরিমার্জনের পর এখানে সেই সারমর্মটি পেশ করা হলো।
জেন্ডার ডিসফোরিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে একজন ব্যক্তি তার জন্মগত লিঙ্গ এবং তার লিঙ্গ পরিচয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অমিল অনুভব করেন, যা মানসিক অস্বস্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। এটি দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
লক্ষণসমূহ:
শিশুদের মধ্যে: অন্য লিঙ্গের কেউ হতে চাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, খেলাধুলায় বিপরীত লিঙ্গের ভূমিকা গ্রহণের প্রবণতা, তাদের জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি অসন্তোষ, এবং বিপরীত লিঙ্গের খেলনা বা কার্যকলাপের প্রতি আকর্ষণ।
প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে: নিজের জন্মগত যৌন বৈশিষ্ট্য পরিত্যাগ করার প্রবল ইচ্ছা, বিপরীত লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা, এবং বিপরীত লিঙ্গের অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া ধারণ করার অভ্যাস।
কারণসমূহ:
জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে নির্ণয় করা যায়নি। এটি বংশাণুগত (জিনগত), হরমোনজনিত, এবং পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। গর্ভকালীন সময়ে হরমোনের প্রভাব, জিনগত কারণ, এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব এতে ভূমিকা রাখতে পারে।
নির্ণয়:
একজন অভিজ্ঞ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়। এটি সাধারণত ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় সম্পর্কিত ইতিহাস, অভিজ্ঞতা, এবং অনুভূতিগুলোর বিশদ বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে। মূল লক্ষ্য হলো এই অস্বস্তির মাত্রা ও প্রভাব বোঝা।
চিকিৎসা:
চিকিৎসা একেবারেই ব্যক্তিগত এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে—
মানসিক সহায়তা: পরামর্শ বা সাইকোথেরাপি, যা লিঙ্গ পরিচয় অন্বেষণ করতে এবং সংশ্লিষ্ট মানসিক সমস্যাগুলি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে।
হরমোন থেরাপি: লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিকাশের জন্য হরমোন ব্যবহার।
সার্জিকাল হস্তক্ষেপ: অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন, যাতে তা ব্যক্তির অন্তর্নিহিত লিঙ্গের সাথে মানানসই হয়।
সামাজিক রূপান্তর: নাম, সর্বনাম, এবং পোশাক-পরিচ্ছদসহ বহিরাগত প্রকাশের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা।
সকল ব্যক্তি এই চিকিৎসা গ্রহণ করেন না; এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তির প্রয়োজন এবং পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।
সহায়তা:
পরিবার, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক এবং সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষায়িত সমর্থন গোষ্ঠী ও সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়া বাড়তি সহায়তা ও বোঝাপড়া প্রদান করতে পারে।
যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ জেন্ডার ডিসফোরিইয়ায় ভুগেন, তাহলে পেশাদার সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ যাতে তারা আপনার অনুভূতি অন্বেষণ করতে এবং সম্ভাব্য সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়ক অ্যাপ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে যৌন অভিমুখিতা কীভাবে নির্ধারিত হয় তার সম্বন্ধে সর্বশেষ লভ্য তথ্যের একটি সারমর্ম তৈরি করা হলো। সামান্য ভাষাজনিত পরিমার্জনের পর এখানে সেই সারমর্মটি পেশ করা হলো।
১) বংশাণুভিত্তিক (জেনেটিক)
গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, মানুষের যৌন অভিমুখিতা বংশাণুগত (জেনেটিক) উপাদান দ্বারা প্রভাবিত। জমজদের উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, একজন জমজ যদি সমকামী হয়, তবে অন্য জমজেরও সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে, এখন পর্যন্ত কোনও একক “গে জিন” চিহ্নিত করা যায়নি। এর পরিবর্তে একাধিক জিনের সমন্বয়ে এই প্রবণতা নির্ধারিত হয় বলে গবেষণায় ফুটে উঠছে।
২) গর্ভকালীন হরমোনের প্রভাব (প্রেনাটাল হরমোনাল প্রভাব)
গর্ভাবস্থায় যখন হরমোনের নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে, তা শিশুর মস্তিষ্কের গঠন এবং যৌন অভিমুখিতার উপর প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভে অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন)-এর উচ্চ মাত্রা উপস্থিত থাকলে তা পুরুষদের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে পারে।
৩) মস্তিষ্কের বিকাশ (ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট)
গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমকামী এবং বিষমকামী ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের কিছু বিশেষ অংশের গঠন আলাদা। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস নামক অংশ, যা যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, সেটার মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে এবং এটি গর্ভাবস্থায় মস্তিষ্কের বিকাশের সাথে সম্পর্কিত।
এই সকল জৈবিক উপাদান যৌন অভিমুখিতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে, সেগুলো একে অপরের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করে, এবং পরিপূরকভাবে তারা একটি মানুষের যৌনতা নির্ধারণে কাজ করে।
Having observed the Israeli-Palestinian conflict closely for the last 30 years, it pains me to say this. Unless activists like Peter Beinart are successful in changing hearts and minds in order to establish a binational state for both peoples, with equal status, dignity, respect, rights and responsibilities, the fate of Palestinians is going to be similar to that of the Kurdhish people.
They will be without a country of their own and will live as displaced people throughtout the world. The dream of a two-state solution is long dead. I will be very happy to be wrong in the months and years ahead but I am not going to hold my breath. History may not apportion blame for this in one tune, but I am going to apportion blame for this equally to both sides. But Israel has won the battle for land.
গত ৩০ বছর ধরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর, এটা বলতে আমার কষ্ট হচ্ছে। পিটার বাইনার্টের মতো কর্মীরা যদি উভয় মানুষদের জন্য সমান মর্যাদা, সম্মান, অধিকার এবং দায়িত্ব সহ দ্বিজাতি বিশিষ্ট “একটি” রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য হৃদয় ও মন পরিবর্তন করতে সক্ষম না হন, তাহলে ফিলিস্তিনিদের ভাগ্য কুর্দি জনগণের মতোই হবে।
তাদের নিজস্ব কোনও দেশ থাকবে না এবং তারা সারা বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষ হিসেবে বাস করবে। ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের স্বপ্ন অনেক আগেই মৃত। আগামী মাস এবং বছরগুলোতে আমি ভুল প্রমাণিত হলে আমিই খুশি হব। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি আমার শ্বাস আটকে রাখব না। ইতিহাস হয়তো এক সুরে এর জন্য কাওকে দোষারোপ করবে না, তবে আমি উভয় পক্ষকেই সমানভাবে দোষারোপ করব। কিন্তু ইসরায়েল তার ভূমির যুদ্ধে জিতে গেছে।
সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি আগামীতে জামাত শাসিত এবং/অথবা একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে তার দায়ভার পুরাটাই এসে পড়বে দেশে এবং প্রবাসে অবস্থিত সকল বাংলাদেশি মুক্তমনা, নাস্তিক, প্রগতিশীল ইত্যাদি মানুষদের উপর।
যেহেতু এই সরকারের সমর্থনে জামাতি এবং মুসলমান মৌলবাদীরাও আছে, এখন সকল মুক্তমনা, নাস্তিক ও প্রগতিশীলদের আওয়াজ আরো জোরালো করতে হবে। তবে তা ফেইসবুকে হাউ কাউ, প্যান প্যান আর ভ্যান ভ্যান করে নয়। এই সরকারকে সমর্থন করে, টুইটার (এক্স) ব্যবহার করে, ইমেল করে, চিঠি লিখে, ফোন করে, পারলে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে এই সরকারের প্রতিটি মানুষের কাছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরে যাতে তাদের কানে শুধু জামাতি এবং মুসলমান মৌলবাদীদের কথাই না পৌছায়।
আমরা যে বাংলাদেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই, সংবিধানকে সেকুলার দেখতে চাই এবং রাজনৈতিক ইসলামে যেই বৈষম্য অন্তর্নিহিত, তা বাংলাদেশে দেখতে চাই না, সেটা তাদেরকে বার বার শোনাতে হবে৷ ছাত্র-জনতার সাথে এই নিয়ে ভদ্র ভাষায় বিস্তর আলোচনা করতে হবে।
তা না করে মুক্তমনা, নাস্তিক ও প্রগতিশীলরা ফেইসবুকে খালি হাউ কাউ করে, বিলাপ করে আর আফসোস করে! এতে কোন কচুটা সাধন হচ্ছে? বাংলাদেশের আগামী দিনের পথকে প্রভাবিত করার বর্তমান পন্থা হচ্ছে এই সরকারকে সমর্থন করে তাকে প্রভাবিত করা, কমিশনগুলোকে প্রভাবিত করা। তা না করে সবাই গোয়াল ঘরে বসে হাম্বা হাম্বা করছে। আজই আপনাদের পন্থা পরিবর্তন করুন। পরে আর পারবেন না।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাজের ধীর গতি সহজেই ব্যাখ্যা করা যায়। প্রথমত উপদেষ্টারা কীভাবে ওঁদের কাজ করবেন সেটাই ওঁদের জানা ছিল না। রাষ্ট্রযন্ত্রগুলো কী কী তা ওঁদের শিখতে হয়েছে। তার উপর হয়েছে ভয়াবহ বন্যা, অজস্র দাবী দাওয়ার হিড়িক এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাঝে সংঘর্ষ। এখনও পুলিশ প্রশাসন পুরাপুরি গড়ে তোলা যায়নি। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে আমলাতন্ত্র। আমলারা এই সরকারকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সহযোগিতা করছে না, যার কারণ বহুবিধ।
আমলা গোষ্ঠীর সংস্কারের কাজ তো এখনও শুরুই করা হয়নি। কমিশনগুলোর প্রতিবেদন আসার পর সরকার, রাজনীতিবীদ, ছাত্র-জনতা এবং সুশীল সমাজ মিলে সিদ্ধান্ত নিবে কী কী সংস্কার করা হবে। হয়তো আমলা গোষ্ঠীর সংস্কারের বিষয়ে সকলের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা যাবে, হয়তো যাবে না৷ কিন্তু সেই সংস্কারটি যদি হতে পারে, তারপরেই তো এই সরকারের কাজের গতির প্রসঙ্গ আসে! তার আগে যে সেই গতি অসন্তুষ্টিমূলক হবে তা সকলকে মেনে হতে হবে এবং সাবালকের মতো ধৈর্য ধরে সরকারকে তার কাজ করতে দিতে হবে।
দেশের রাজনীতিবীদ এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোর বিভিন্ন কথামালা অনুষ্ঠানের পটপটি ও আঁতেলরা এটা মাথায় রেখে গঠনমূলক সমালোচনা করলে ভালো হয়। কারণ তাদের বাপেরও সাধ্য নাই মাননীয় উপদেষ্টারা যা করছেন সেটা সাধন করার বিন্দুমাত্র ক্ষমতা রাখার। কেউ কেউ বলছে যে তাঁরা ঠিক মতো কাজ করতে না পারলে তাঁদের ইস্তফা দেয়া উচিৎ। এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁরা যদি দলবল মিলে সেটাই করেন, তাহলে একবারও কি ভেবে দেখেছেন দেশটির অবস্থা কী হতে পারে? হাউকাউ একটু কম করুন।
বাংলাদেশে নিজেকে একজন সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেয়ার অর্থ এই নয় যে সেই মানুষটা আর বাংলাদেশি রইলো না৷ সেই মানুষটার প্রথম পরিচয় সে অবশ্যই বাংলাদেশি৷ তারপর সে সংখ্যালঘু। যারা বলে যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই, তারা একটি রাষ্ট্রে যে কোনো প্রকার সংখ্যালঘুদের ন্যায্য দাবীগুলোর প্রতি ধ্বনি বধির থাকতে চায় এবং দাবীগুলোকে “বিশেষ সুবিধা” বা “বিশেষ চাহিদা” আখ্যা দিয়ে সকল ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বাংলাদেশের ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত, সাংষ্কৃতিক এবং যৌন সংখ্যালঘুরা এটা ভালো করেই জানে। কাজেই বিএনপিকে বিশেষ করে বলছি “বাংলাদেশে সবাই বাংলাদেশি, কেউ সংখ্যালঘু নয়”, এসব বক্তব্য পেশ করে সংখ্যালঘুদের ন্যায্য দাবীগুলোর প্রতি অসহানুভূতিশীল হবেন না। এর কারণ হচ্ছে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠরা খুব সহজেই তাদের পছন্দের চাহিদাগুলো রাষ্ট্রের কাছ থেকে আদায় করে নিতে পারে। সংখ্যালঘুদের জন্য সেটা অপেক্ষাকৃত কঠিন।
বিএনপির কিছু নেতাদের মুখে “হিন্দুরা কেন নিজেদেরকে বাংলাদেশি মনে করে না, নিজেদেরকে আগে বাংলাদেশি মনে করা উচিৎ” – জাতীয় কথাবার্তা চশমখোর জাতীয় কথাবার্তা! বাংলাদেশের হিন্দুরা অবশ্যই নিজেদেরকে আগে বাংলাদেশি মনে করে৷ তাদেরকেই বরং কিছু মুসলমানরা ভারতে চলে যেতে বলে। ইতিহাস জুড়ে অনেককে সেটা করতে বাধ্যও করা হয়েছে। উলটো দিকে কিছু মুসলমানদের মুখ থেকেই শুনেছি “আমি আগে মুসলমান, তারপর আমি বাংলাদেশি”। বাংলাদেশে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনীতি করার বদভ্যাস কাদের রয়েছে সেটা এতে সহজেই বোঝা যায়।
একটি দেশে কোনো বিশেষ শ্রেণীবিন্যাসে আনুপাতিক হারে সংখ্যায় কম হওয়া মানেই সংখ্যালঘু। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু থাকে না কী করে? ধর্মের কারণে, ভাষার কারণে, জাতের কারণে, যৌন প্রবৃত্তির কারণে বা লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে বাংলাদেশেও রয়েছে সংখ্যালঘু। এবং রাষ্ট্রের কাছে এদের দাবি দাওয়া রাখার উদ্দেশ্য একটিই – প্রতিটি রাষ্ট্রে অন্তর্নিহিত সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন বৈষম্য লাঘব করে নিজেদের জন্য সমতা অর্জন করা।
বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ণের সময়ে শেখ মুজিব নাকি পাহাড়িদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে তারা যেন বাঙালী হয়ে যায়! পাহাড়িরা নিজেদের ভাষা ও সংষ্কৃতিকে বজায় রেখে বাংলা ভাষাও শিখতে পারে। কিন্তু তারা বাঙালী হয়ে যাবে কী করে? বাংলা শিখলেই বাঙালী?
বর্তমান সময়ের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে সংখ্যালঘু শব্দটা ব্যবহার করার বিরুদ্ধে শক্তভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু কেন? আমরা বিভক্ত হয়ে যাবো বলে? নাকি সবার উপর সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ চাপিয়ে দিতে পারলেই অধিকাংশ জনগণের আরাম?
আমাদের মাঝেকার বৈচিত্র্যগুলোকে আমাদের মাঝে বিভাজন সৃষ্টি করতে না দিলেই তো হলো। বৈচিত্র্যের মাঝেই তৈরি হবে আমাদের জাতীয় ঐক্য যা একটি ক্রমবর্ধমান প্রক্রিয়া। এবং তার জন্য প্রয়োজন আমাদের বৈচিত্র্যগুলোর স্বীকৃতি, সেগুলোর সম্বন্ধে সামগ্রিক সচেতনতা, এবং পরষ্পর সহিষ্ণুতা।
সারা জীবন যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা দুনিয়ার গিবত গেয়ে দিনের শেষে ভিসার জন্য সেই আমেরিকার দূতাবাসের সামনে কাতারে দাঁড়ানোর মতো ধৃষ্টতা এবং দ্বিচারিতা বাংলাদেশের বামপন্থীরা এবং মুসলমান মৌলবাদীরাই দেখাতে পারে। তারা একই মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। অথচ বাংলাদেশকে আমরা অধিকাংশ মানুষই অনেকটা পশ্চিমা দেশগুলোর ধাঁচে দেখতে চাই।
আমাদের দেশে আমরা চাই গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, সকল মৌলিক মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত সুশীল সমাজ, বহুত্ববাদ, সকল প্রকার ধর্মালম্বীর এবং নিধার্মিকদের সমান অবস্থান, দেশের মাটিতে জন্ম নেয়া সকল লিঙ্গের, জাতের, বর্ণের ও ভাষার মানুষদের সমান অবস্থান, মূলধারার চেয়ে ভিন্ন যৌন প্রবৃত্তি অথবা লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারী – অর্থাৎ যৌন সংখ্যালঘুদের সমান নাগরিক অধিকার, সর্বাঙ্গীন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ, একের ভিন্নতার প্রতি অপরের সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধ, ইত্যাদি।
এটাই যদি সত্যি হয়, তাহলে বাংলাদেশকে রাশিয়া আর চীনের মতো দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ট না হয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ঘনিষ্ট হওয়াই শ্রেয়। রাশিয়া ও চীন উপরের বৈশিষ্টগুলো একেবারেই বহন করে না। সাম্রাজ্যবাদের জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে বামপন্থী ও মুসলমান মৌলবাদীদের একটি মুদ্রাদোষ। অথচ রাশিয়া আর চীনের সাম্রাজ্যবাদ নিয়ে তারা একেবারেই অজ্ঞ।
ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিল, তিনি বাইডেনের ঘেটুপুত্র – এই ধরনের কথা যারা বলে, তাদের অনেককেই আগামীতে কোনো এক সময়ে আমেরিকার ভেতরেই খুঁজে পাওয়া যাবে। সংকীর্ণ মস্তিষ্ক দিয়ে যারা সব কিছু বিশ্লেষণ করে, তারা এরকমই হয়ে থাকে।
এই বছরের জুলাই-আগষ্ট মাসে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সামাজিক সংলাপ ও রাজনৈতিক দৃশ্যপট কীভাবে বদলে গিয়েছে, এবং সেখানে মুক্তমনা, উদারপন্থী, গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমান এবং নিধার্মিকদের কী কর্তব্য তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মধ্যযুগীয় আইন এবং তার হিংস্র প্রয়োগ দিয়ে যেভাবে জনগণের মুখ চেপে ধরেছিল, তার সাময়িক সমাপ্তি ঘটেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগমনে। সকলের প্রত্যাশা যে এই সমাপ্তিটি চিরস্থায়ী হবে।
কিন্তু ফিরে পাওয়া এই বাকস্বাধীনতা আমাদের মাঝে নিয়ে আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ। বিগত একটি সময়ে “রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও গৌণ ধর্মীয়তা” বনাম “রাজনৈতিক ইসলাম”-এর দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, এখন আর তা চলতে পারবে না।
এর কারণ হচ্ছে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশে “সকলের” অন্তর্ভুক্তি হতে হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আহবানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার সময়ে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে বিভিন্ন দল, মত, জাত ও ধর্ম নিয়েই আমরা একটি পরিবার। আমাদের মাঝে বাগবিতণ্ডা হবে কিন্তু মারামারি ও কাটাকাটি হবে না।
আমি যদি দেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশকে গোত্র ১ এবং গোত্র ২ নামের ছকে ফেলি এবং মুক্তমনা, উদারপন্থী, গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমান এবং নিধার্মিকদেরকে গোত্র ১এ বসিয়ে দেই, এবং গোত্র ২য়ে যারা মৌলবাদী মুসলমান, যারা রাজনৈতিক ইসলামে বিশ্বাস করে এমনকি তাদের মাঝে যারা দেশে শরীয়া আইনের সংবিধান এবং দন্ডবিধি কামনা করে, তাদেরকে বসিয়ে দেই, তাহলে বাংলাদেশের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন তুলে ধরা যাবে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভাজনও কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান। অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত বিভাজন তো রয়েছেই। কিন্ত আজ আমি উল্লেখিত গোত্র ১ এবং গোত্র ২য়ের মধ্যেকার বিভাজনকে নিয়েই কথা বলতে চাই।
অতীত থেকেই গোত্র ১ এবং ২ ছিল পরষ্পরের চিরশত্রু। একে অপরের অস্তিত্বটুকুও সহ্য করতে পারতো না। গোত্র একের অনেকেই দুইয়ের ধর্মটিকে উপহাস করে, তাকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে, কোরান-হাদিসের অজস্র অসঙ্গত বিষয়গুলো তুলে ধরে, ধামাচাপা পড়ে যাওয়া নবীর অসংখ্য বিতর্কিত আত্মকাহিনী তুলে ধরে দুইয়ের মানুষদেরকে এক প্রকার কোণঠাসাই করে ফেলেছিল।
গোত্র দুই নানাভাবে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে, যার একটি সৌম্য উদাহরণ ছিল গোত্র একের মানুষদেরকে “নাস্তিক” উপাধি দিয়ে সমাজে তাদেরকে অপ্রস্তুত বানিয়ে ফেলা, এবং যার একটি চরম উদাহরণ ছিল গোত্র একের বিশিষ্টজনদেরকে হত্যা করা। সেই হত্যা গোত্র একের মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর বাইরেও ভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষ, সাংষ্কৃতিক কর্মী এবং যৌন সংখ্যালঘুও সেসকল হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।
গোত্র ১ চেয়েছে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা এবং একটি গৌণ ধর্মপ্রবণ বাংলাদেশ, যেখানে গোত্র ২ চেয়েছে একটি ইসলামী রাষ্ট্র। এদিকে পলায়ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষতা নামক বিষয়টিকে একটি হাস্যকর, বিদ্রুপের বস্তু এবং বিষাক্ত চিন্তা বানিয়ে ফেলেছিলেন তার নোংরা রাজনীতি দিয়ে। এখন গোত্র একের মানুষরা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা উচ্চারণ করার আগে তিন বার ভেবে নেয়।
অপর দিকে নতুন বাংলাদেশ, নতুন সরকার এবং নতুন সংবিধানের গন্ধ পেয়ে গোত্র দুইয়ের মানুষরা তাদের স্বপ্নের ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার লক্ষ্যে ধীরে ধীরে তাদের নিদ্রা ভেঙে উঠে বসতে শুরু করেছে। তাদের কাছে এই হলো সুবর্ণ সুযোগ যা হাতছাড়া হবার নয়।
ছাত্র-জনতার কত শতাংশ গোত্র ১এর মধ্যে পড়ে আর কত শতাংশ গোত্র ২য়ে, তা আমার জানা নেই। তবে একটা জিনিষ স্পষ্ট – তারা সকলে মিলেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এর সাথে প্রধান উপদেষ্টা যোগ করেছেন “অন্তর্ভুক্তিমূলক”, “অসাম্প্রদায়িক” ইত্যাদি শব্দগুলো যা আমি ছাত্র-জনতার মুখ থেকে আরও বেশি করে শুনতে পেলে খুশি হতাম।
যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশ কখনোই শুধু গোত্র ১এর মানুষ দিয়ে ভরাট থাকবে না, আবার শুধু গোত্র ২ দিয়েও না। অতএব মারমুখী না হয়ে উভয়েরই সহাবস্থান কাম্য। সেখানেই আসবে নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে আমরা কীভাবে একে অপরের সহাবস্থান মেনে নেব? অতীতে গোত্র ২য়ের ভয়ে গোত্র ১কের অনেকেই দেশ ছেড়েছে এবং আর ফিরে আসেনি। বিদেশে বসে তারা ২য়ের এমন বিশদগার করেছে যে ২য়ের সবাই যেন কুষ্ঠরোগী।
ছাত্র-জনতা এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বপ্নের বাংলাদেশে এই অবস্থা চলতে পারবে না। এই নতুন পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে আমি প্রথমে গোত্র ১এর দায়িত্ব নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তারপর গোত্র ২য়ের দায়িত্ব নিয়ে। আমি নিজেকে প্রথম গোত্রে ফেলি এবং আমি রাজনৈতিক ইসলামের চরম বিরোধী। একজন নিধার্মিক হিসেবে ধর্মের বিরুদ্ধেও অতীতে কথা বলেছি। শৈশবসূত্রে ইসলাম ধর্মের সাথে আমি বেশি পরিচিত বলে আমি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধেই বেশি কথা বলেছি।
সাম্প্রতিক কালে আমি মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্ম পালনের বিরুদ্ধে কথা না বলে শুধু রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছি। আমার মতে বর্তমানে আমাদের গোত্রের সকলকে এই দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আমাদেরকে স্পষ্ট এবং জোরালোভাবে শরীয়া আইন অথবা কোনো প্রকার রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, যেমন মওদুদীবাদ।
বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশি ভোট দেয় না, এই বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। কারণ আমাদের নিরবতা এই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। আগেই বলেছি যে গোত্র দুই তাদের নিদ্রা ভেঙে উঠে বসতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দুইয়ের মানুষদের প্রতি মারমুখী হলে চলবে না।
আমাদেরকে নতুন করে শিখতে হবে কীভাবে দুইয়ের মানুষদের সাথে সভ্য ও ভদ্র ভাষায় রাজনৈতিক ইসলামের সমস্ত ক্ষতিকর এবং বিপদজনক দিকগুলো নিয়ে কথা বলা যায়। শরীয়া আইন দ্বারা চালিত সমাজে বৈষম্য অন্তর্নিহিত। একই সাথে এরকম সমাজ ব্যক্তি স্বাধীনতারও পরিপন্থী। মুক্তচিন্তা, যা মানব সভ্যতাকে আদিকাল থেকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে, তার বিন্দুমাত্র স্থান এই পরিবেশে নেই।
পৃথিবীতে শরীয়া আইন দ্বারা চালিত অল্প কিছু দেশ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে একেবারেই উন্নতি সাধন করতে পারেনি। একটি অন্ধবিশ্বাস এবং সেখান থেকে উদিত বিভিন্ন কঠোর রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক নিয়মকানুন সৃজনশীলতার কন্ঠ চেপে ধরে। আর এসব রীতিনীতির সবচেয়ে আপত্তিকর দিকগুলো হচ্ছে যে সেগুলো একটি দেশের অনিচ্ছুক অনেক মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। গণতন্ত্র মানে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠরা যাই চাবে তা নয়। হ্যাঁ, সেটা ভোটের বাক্সে সত্যি। কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইচ্ছার প্রতিফলন এমনভাবে ঘটানো যাতে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়। এই পরষ্পর বিরোধী প্রক্রিয়ার সুস্থ ব্যবস্থাপনাটাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে।
শরীয়া আইনের বিভিন্ন বিষয়াদি আলেম সমাজ ইচ্ছে মতো বানিয়ে নিতে পারে। মৌলিক কিছু ব্যাপার ছাড়া কোরান-হাদিস থেকে পাওয়া অধিক অনুশাসন নিয়ে সমগ্র মুসলমান জগতে কোনো একমত নেই। সবই অমুকের ব্যাখ্যা, তমুকের ব্যাখ্যায় জর্জরিত। গণতান্ত্রিক উপায়ে বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক ইসলামকে বেছে নিলে সবাই একটি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে ফেলবে যা আমাদের সংষ্কৃতি ও কৃষ্টির পরিপন্থী। ভোটের মাধ্যমেই ১এর মানুষদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে ২য়ের মানুষরা যেন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বটা না পায়। আমাদের ঐতিহ্যকে অবলম্বন করেই আমরা বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তিক এবং সাহিত্যিক দিক থেকে এগিয়ে যাব। গান-বাজনা, খেলাধূলা?
গোত্র দুইয়ের মানুষদের সাথে এই বিষয়ে ভদ্র এবং যৌক্তিক আলোচনা দুরহ। তাদের অন্ধবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয়া তাদের রাজনৈতিক মতবাদ তাদের মধ্যে এতটাই গাঁথা যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আলোচনা আগাতে পারে না। এখানেই গোত্র ২য়ের মানুষদের দায়িত্বের কথা চলে আসে। আমরা যেমন তাদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবা থেকে দূরে সরে আসবো, তাদেরকেও আমাদের প্রতি তা করতে হবে।
আমাদেরকে গালাগাল দিয়ে, অপমান করে, খুন করে তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-ছাত্রী এবং অধ্যাপক ইউনুসের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে না। তারা তাদের মতবাদ প্রকাশ করবে এমনভাবে, যে যারা তাদের সাথে একমত নয়, তাদেরকে কাফের বা মুরতাদ বলা যাবে না (তারা নাস্তিকদের কতল করার ডাক দেয় – অথচ গোত্র ১এর কেউ দুইয়ের কাওকে কোনো দিন কতল করার ডাক দেইনি)।
গোত্র ১এ অন্তর্ভুক্ত গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমানদের চুপ করে থাকার দিন শেষ। যেখানেই শরীয়া আইন, খেলাফত বা অন্য কোনো প্রকার রাজনৈতিক ইসলামের ডাক আসবে সেখানেই আমাদের গোত্রের সবাইকে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শরীয়া আইন চাই কি না এরকম অনলাইন জরিপে আমাদেরকে সংঘবদ্ধ হয়ে জানিয়ে দিতে হবে “না”। সামাজিক মাধ্যমে তাদের আওয়াজ যেন বেশি প্রাধান্য না পায় সে দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।
এখানে সরকারেরও ভূমিকা আছে। গোত্র ২য়ের কেউ অনলাইনে গোত্র ১এর কাওকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে কতৃপক্ষ যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাকে কোনো প্রকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ধার্মিকদের বিশ্বাস কেন এত দুর্বল হবে যে তাদের অনুভুতিতে সহজেই আঘাত লাগে?
গোত্র ২য়ের মানুষদের আরেকটা প্রবণতা হচ্ছে গোত্র ১এর মানুষরা ব্যক্তিগত পর্যায় কতটা নিষ্ঠার সাথে ইসলাম ধর্ম পালন করছে তার মূল্যায়ন করা এবং সেই অনুযায়ী বিবৃতি দেয়া বা ১এর মানুষদেরকে ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপ দেয়া। ব্যক্তি স্বাধীনতায় এত বড় হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না। ইসলাম ধর্মের সমগ্র অনুশাসন যাই হোক না কেন, একজন ব্যক্তি তার কতটুকু পালন করবে বা আদৌ করবে কি না সেটা একজন ব্যক্তির একান্ত বিষয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বয়ানে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাত ইত্যাদির মধ্যে নিধার্মিকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ধর্মের প্রসঙ্গ এলে বলতে হবে যে বাংলাদেশ হচ্ছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আহমাদিয়া, অন্যান্য ধর্মালম্বী এবং নিধার্মিকদের শান্তির কুটির। জাতের প্রসঙ্গ আসলে বলতে হবে যে বাংলাদেশ হচ্ছে বাঙালী, অবাঙালী এবং পাহাড়িদের শ্যামল আলয়। এই সোনার বাংলায় উল্লেখিত সকলেই একে অপরের সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। কারণ আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা একটি পরিবার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এখন থেকেই এরকম একটি বয়ান তৈরি করে দিতে পারে, এবং বাংলাদেশের সকলেই যদি সেই বয়ানটিকে জাতীয় স্বত্তা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়, তাহলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে৷ এরকম একটি উদারপন্থী পরিবেশে মূলধারার চেয়ে ভিন্ন যৌন অভিমুখিতা অথবা লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারী – অর্থাৎ দেশের যৌন সংখ্যালঘুরাও তাদের জায়গা করে নিতে পারবে।