মিয়ানমার ও একটি পরাশক্তির নোংরামি

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমারে নোংরা ভূমিকা এখন একটা দেশেরই বিদ্যমান। আর তা হচ্ছে চীন। সুবিধা মতো তারা এত দিন সামরিক জুন্তাকে সমর্থন করে এসেছে (সাথে ঐ জুন্তা দ্বারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যাকে)। আর এখন তারা একই সাথে সামরিক জুন্তার বিরুদ্ধে লড়াই করা আরাকান আর্মি সহ সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে সমর্থন করছে, যেহেতু সামরিক জুন্তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরকম নোংরামি পৃথিবীর বাকি পরাশক্তিদেরকেও হার মানায়।

রোহিঙ্গাদের গণহত্যা চলাকালীন মিয়ানমারের সামরিক জুন্তার বিরুদ্ধে অনেক রকম ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ জাতি সঙ্ঘে অনেকগুলো প্রস্তাব এনেছিল, যার প্রতিটাই প্রতিষেধ করেছে (ভেটো দিয়েছে) রাশিয়া ও চীন। আর শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এদের বলয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে আমাদেরকে একটি ভূরাজনৈতিক বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সাধুবাদ দিতে হবে যে তারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যার পর সামরিক জুন্তার অনেক সদস্য ও তাদের পরিবারের উপর হরেক রকমের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এটাও উল্লেখ করতে হবে যে গণহত্যা থেকে নিজেদের বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সকল রোহিঙ্গাদের ভরণ পোষণের অধিকাংশ খরচ বর্তমানে বহন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Bangladesh After the Farce Of An Election (January 2024)

Riaz Osmani

14 January 2024

Sheikh Hasina’s tolerance for corruption, bank looting and money laundering that has broken all previous records, creation of an oligarchy, fielding Parliamentary candidates that are almost exlusively active business people, establishing crony capitalism in the country, co-opting every organ of the state including the judiciary, and letting overall economic disparity in Bangladesh reach levels never seen before – thus benefitting from a power base that has nothing to do with general voters – will only give fodder to socialists/communists on the one hand, and Islamists on the other. This is the place she has taken the country to over the last 15 years. Mega infrastructural projects and GDP figures are a side show only. We do have an opposition party whose recent politics is more moderate, inclusive and liberal, and can possibly bring in change (though their own past too is notably condemnable). But its entirety is now in jail on mostly trumped up charges. So they don’t even have that opportunity.

There is no difference between Bangladesh and Russia today. Like Russia, the current head of government in Bangladesh is an authoritarian monster who has been in power for a long time without the meaningful vote and support of the people. Democracy disappeared long ago. Now the source of her power is the police and all law enforcement agencies, the detective branches and the newly created oligarchs. Political opponents are now oppressed by a co-opted judiciary and the rest of the politicized state apparatus. There is no real freedom of speech in the country thanks to black laws – no environment for free, unbiased and investigative journalism. Beneficiary groups have been created across the country to worship Sheikh Hasina. These groups have rendered the social, political and economic fabric of the country ill. All basic human rights are now reserved for these beneficiary groups.

প্রহসনের নির্বাচন (জানুয়ারী ২০২৪)-এর পর বাংলাদেশের চিত্র

গণতন্ত্রের মৃত্যু

রিয়াজ ওসমানী

১৪ জানুয়ারী ২০২৪

দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের প্রতি শেখ হাসিনার সহনশীলতা, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, সাথে তার আশীর্বাদে একটি অলিগার্ক (অতি বিত্তশীল) শ্রেণি গঠন, সংসদীয় প্রার্থী বাছাই করা যারা প্রায় একচেটিয়াভাবে সক্রিয় ব্যবসায়ী, দেশে ক্রনি পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠা করা, বিচারবিভাগ সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ কুক্ষিগত করা, এবং বাংলাদেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকে এমন মাত্রায় পৌঁছাতে দেয়া যা আগে কখনো দেখা যায়নি – এসকল কূটচালের ফলস্রুতিতে সাধারণ ভোটারদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, এমন একটি ক্ষমতার ভিত্তি থেকে হাসিনা এই নির্বাচনের পর উপকৃত হবেন। এবং এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করবে একদিকে দেশের সমাজতান্ত্রিক/সাম্যবাদীরা, অন্যদিকে ইসলামপন্থীরা। গত ১৫ বছরে তিনি দেশকে এই জায়গাটিতে নিয়ে গেছেন। বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প এবং জিডিপি পরিসংখ্যান একটি পার্শ্ব প্রদর্শনী মাত্র। আমাদের একটি বিরোধী দল রয়েছে যাদের সাম্প্রতিক রাজনীতি আরও মধ্যপন্থী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদার, যারা সম্ভবত পরিবর্তন আনতে পারে (যদিও তাদেরও অতীত উল্লেখযোগ্যভাবে নিন্দনীয়)। কিন্তু সেই দলটির পুরোটাই এখন বেশির ভাগ গায়েবী মামলায় কারাগারে। কাজেই সেই সুযোগটাও তাদের হাতে নেই।

বাংলাদেশ আর রাশিয়ার মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নেই। রাশিয়ার মতোই বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান হচ্ছে একজন কতৃত্বপরায়ণ দানব, যিনি দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতায় আছেন জনগণের অর্থবহ ভোট ও সমর্থন ব্যতিত। গণতন্ত্র লোপাট গেছে বহু আগে। এখন তার ক্ষমতার উৎস হচ্ছে পুলিশ তথা সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ এবং নব নির্মিত অলিগার্ক শ্রেণি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এখন কুক্ষিগত করা বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে দলীয়করণ করা বাকি রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিপীড়িত। কালো আইনের আদলে দেশে নেই প্রকৃত বাকস্বাধীনতা – নেই মুক্ত, পক্ষপাতহীন ও অনুসন্ধানভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ। দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনা বন্দনাকারী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী যারা দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চেহারাকে করে ফেলেছে অসুস্থ। সকল মৌলিক মানবাধিকার এখন এই সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্যই প্রদত্ত।

বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে ক্রোনি পুঁজিবাদের আখড়া

রিয়াজ ওসমানী

২৮ অক্টোবর ২০২৩

বাংলাদেশের “উন্নয়ন”-এর একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে যে দেশের মুক্তবাজার অর্থনীতি আজ পরিণত হয়ে গিয়েছে ক্রোনি পুঁজিবাদে। সেটা কী? সেটা একটি ব্যবস্থা যেখানে রাজনীতি ও বাণিজ্য এক হয়ে গিয়েছে এবং সরকারের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বজায়ে রেখে কিছু মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান অপ্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে সরকার পাচ্ছে এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য আনুগত্য।

এর জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে দেশে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী কৃষক থেকে দোকানীদের কাছে পৌছে দেয়া মধ্যস্বত্বভোগীরা। এদের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম এবং এরা একে অপরের সাথে সহযোগিতা করে একটি বাজার চক্র তৈরি করে সেই খাদ্য দ্রব্যের মূল্য এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যে তারা লুটে নিচ্ছে সীমাহীন মুনাফা আর দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা, যারা এখনও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, তারা পারছে না তাদের দৈনন্দিন পুষ্টি মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্য ক্রয় করতে।

ফলে বাংলাদেশের জনৈক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্য অনুযায়ী দেশে ৪ কোটি জনগনের ” ইউরোপীয়” ধাঁচের জীবন যাপন সম্ভব হলেও বাকি ১৩ কোটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একটি নিরব দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে তারা অপুষ্টি বা আধা পুষ্টিতে ভুগছে। আওয়ামী লীগের কিছু চাটুকারদেরকে অনলাইনে বলতে দেখেছি যে খাদ্যের উচ্চ মূল্য হচ্ছে উন্নতির লক্ষণ। এই উচ্চ মূল্য সময়ের সাথে সাথে সকলের আয় বৃদ্ধি দেবে। সরকারের চাটুকারিতা করতে করতে নিজের পকেট ভরলে এরকম কথা সহজেই বলা যায়।

কিন্তু এই উন্নয়ন কোনো উন্নয়ন নয়। এটা মুক্তবাজার নামে অরাজগতা এবং সরকার যে এই ব্যাপারে ধ্বনি বধির এবং এর সুরাহা বের করতে অপারগ ও অক্ষম, তা আমাদের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। এই বাজার চক্র ভেঙে দিতে গেলে সরকার তার একটি বিরাট সমর্থনকারী শক্তিকে হারাবে বলে বালুর ভিতর নিজের মাথা ডুবিয়ে রেখেছে।

ক্রোনি পুঁজিবাদ হচ্ছে মুক্তবাজারের সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপ যা রাশিয়া ও চীনে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশও যে এই পথে আগাবে তা ৩০ লক্ষ শহীদরা বোধহয় দু:স্বপ্নেও দেখেনি। মুক্তবাজারের ব্যর্থতাগুলো লাঘব করার পন্থাগুলো মুক্তবাজারেই লুকিয়ে আছে। সেগুলো অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিই যথেষ্ট। আগামী সরকার যেই দলেরই হোক না কেন, সেই সরকারকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে আরো অধিক ছাএপত্র দিয়ে আরো অধিক মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার। এবং তা হতে হবে বর্তমানের তুলনায় দশ-বিশগুন বেশি। ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিষয়াদি বিবেচনায় নেয়া যাবে না।

তিনটা প্রতিষ্ঠান যেভাবে একে অপরের সাথে শলাপরামর্শ করে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বে স্থির করে রাখতে পারে, ৩০টা প্রতিষ্ঠান সেটা অত সহজে পারে না। তাদের মাঝে প্রতিযোগিতার আদলে কৃষকের লাউ দোকানীর কাছে অপেক্ষাকৃত কম দামে আসতে পারে। ক্রেতারাও তখন এখনকার তুলনায় আরও কম দামে সেই লাউ কিনতে পারবে। বাজার চক্র ভেঙে দেয়ার এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।

এখানে আরেকটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের লাউ দোকানীর হাতে আসতে আসতে যতবার হাত বদল হয়েছে, যে কটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাউটি রদবদল হয়েছে, এবং রদবদলের প্রতিটি ধাপ কী দামের বিনিময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে তার একশো শতাংশ স্বচ্ছ নথির ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং সেগুলো সর্বোচ্চ প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে রাখতে হবে। একজন ক্রেতা হিসেবে ইচ্ছে থাকলে আমি যেন জানতে পারি যে কৃষক সেই লাউয়ের জন্য কত দাম পেয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা কত দামে তা রদবদল করেছে এবং সর্বশেষে দোকানীর কাছে তা কত দামে এসেছে।

এভাবেই বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের ক্রোনি পুঁজিবাদ, যা শুধু খাদ্য দ্রব্যের ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাকে গলা টিপে মেরে ফেলতে হবে।

বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মূল্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য

রিয়াজ ওসমানী

২৭ অক্টোবর ২০২৩

আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে উৎপাদিত খাদ্যের ঊর্ধ্বতন মূল্যের কথা জিজ্ঞেষ করা হলে তারা ব্যাপারটা উড়িয়ে দেয় এই বলে যে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। তর্কের খাতিরে ধরলাম যে জনগণের অর্ধেকের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে (তাদের মধ্যে একাংশের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে)। তো বাকি অর্ধেক জনগণ কি না খেয়ে মরবে বা পুষ্টিহীণতায় ভুগবে?

কিছু মানুষের বাড়তি ক্রয় ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বাজার চক্রের সাথে জড়িত অল্প কিছু ব্যবসায়ীরা বাজারটাকে নিয়ন্ত্রণ করে যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী করে রেখেছে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা কি সরকারের আছে? নেই! এবং আমাদের বর্তমান বানিজ্যমন্ত্রীর স্বীকারক্তিতেই আমরা তা জানতে পারি। এবং তার কারণ এই ব্যবসায়ীরা বর্তমান সরকারেরই মদদপুষ্ট যা মাফিয়া প্রশাসনের একটি রূপ মাত্র।

এই সরকার দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সংবিধানের চারটির মূল স্তম্ভগুলোর প্রায় সব কটি থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই স্তম্ভগুলোর একটি হচ্ছে সমাজতন্ত্র। তবে খাটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি যা সাম্যবাদী অর্থনীতির সামিল, তা কখনোই চাই না কারণ সেটা হচ্ছে একটি ব্যর্থ রূপরেখা। মুক্তবাজারই চাই। কিন্তু মুক্তবাজারের যেই কঠিন দূর্বলতাগুলো রয়েছে তার প্রায় সব কটিই বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যমান। যার ফলে বাংলাদেশে মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য বিপদজনক হারে বেড়েই চলছে। এ দূর্বলতাগুলো নিরাময় করার অনেক প্রতিষ্ঠিত পন্থা রয়েছে যার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ এই সরকারকে নিতে দেখা যাচ্ছে না। সেই নিরাময়গুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনা।

শেখ হাসিনা বড় বড় গলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন। আমি নিশ্চিত যে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর বাংলাদেশে বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য অবলোকন করে ওপার থেকে বঙ্গবন্ধু চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

অসলো শাক্তি চুক্তি এবং দুই রাষ্ট্রের পরিণতি

রিয়াজ ওসমানী

২৬ অক্টোবর ২০২৩

বিগত ৩০ বছর ধরে দেখলাম ফিলিস্তিনি চরমপন্থী গোত্র হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ কীভবে অসলো চুক্তিকে বর্জন করে ইসরায়েলিদের উপর অবিরাম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ধীরে ধীরে ইসরায়েলিদেরকে ডানপন্থীতে রূপান্তরিত করে। ইসরায়েলিদের মাঝেও পশ্চিম তীরে কট্টরপন্থী বসতিস্থাপনকারীরা অসলো চুক্তির বিরুদ্ধেই কাজ করেছে। আজ অবস্থা শোচনীয়। দুই রাষ্ট্রের দর্শন থেকে পুরা অঞ্চলটাই এখন লক্ষ মাইল দূরে।

প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতিগন বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে বারাক ওবামা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মধ্যপন্থীদের একত্রিত করে তাদেরকে একটি চূড়ান্ত বন্দোবস্তে আনার চেষ্টা বহুবার করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এই মধ্যপন্থীরা দুই রাষ্ট্রের সীমানা, নিরাপত্তা বিষয়ক জটিলতা ইত্যাদির ব্যাপারে কখনো এক মত হতে পারেনি। তাদের উপর বাইরে থেকে কোনো বন্দোবস্ত চাঁপিয়ে দেয়া যাবে না। বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন আবারও চূড়ান্ত বন্দোবস্তের উদ্যোগ নিলে তার কাছে কী এমন যাদুমন্ত্র আছে যেটা ক্লিন্টন এবং ওবামার কাছে ছিল না?

আমি মোটেও আশাবাদী নই যে আমরা অল্প কোনো সময়ের মধ্যে দুটি রাষ্ট্রের সমাধানে পৌছতে পারবো। হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ সেটা হতে দেবে না (তারা পুরা ইসরায়েলের ধ্বংস চায়) এবং ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখন আর দুই রাষ্ট্রে বিশ্বাস করে না আর সেটা চায়েও না। অসলো চুক্তির সময়ে ইসরায়েলি বামপন্থী নেতা ইৎজাক রাবীন ও পিএলওর ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে দুই রাষ্ট্র কায়মের চেষ্টাকে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ নিরীহ ইসরায়েলিদের উপর অবিরাম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে নস্যাৎ করে ফেলে। ফলে ইসরায়েলিরা এখন আর সেই পথে আগাতে চায় না।

২০০৫ সালে ইসরায়েলি নেতা এড়িয়েল শারনের নেতৃত্বে ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে জোরপূর্বক সকল ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদেরকে সরিয়ে নেয় এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়। এখানে উদ্দেশ্য ছিল গাজা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন শুরু হউক। কিন্তু এর বিনিময়ে গাজায় ঘাটি মেরে বসা হামাস ইসরায়েলে অবিরাম রকেট ছুড়তে শুরু করে। তারপর ইসরায়েলের প্রতিশোধে গাজায় ৩০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয় এবং গাজাকে অবরূদ্ধ করে ইসরায়েল ও মিশর সেই উপত্যকাটিকে আজকের উন্মুক্ত কয়েদখানায় পরিণত করে।

গাজা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার পর ইসরায়েলিদের যেই অভিজ্ঞতা হলো (হামাসের রকেট), তারপর তারা এখন আর পশ্চিম তীর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার কথা কল্পনাও করতে পারে না। বরং মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক আপত্তি উপেক্ষা করে সেখানে ইহুদি ডানপন্থীদের বসতিস্থাপন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেখানে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বেড়েই চলেছে। বর্তমান ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের উপর এরকম কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করেই অগ্রসর হতে চায় যা কখনোই তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এবং এতে ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কোনো দিন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না, ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই জট থেকে বের হয়ে আসার পথ এখন আর কারোর জানা নেই।

31 Points Roadmap Of the Bangladesh Nationalist Party (BNP)

Riaz Osmani

21 October 2023

Below are the 31 points roadmap the main opposition party, the Bangladesh Nationalist Party (BNP), has proposed to the nation in conjuction with other opposition groups, to repair and govern the country should it be able to come to power after a free and fair election in January 2024. The points have been copied and pasted here from the website of the BNP.

Given Bangladesh’s political history, there is always room for doubt as to how many of these points the BNP will actually implement once in power. However one must look ahead, especially since the agenda here is appropriate and very much what the country needs going forward. It appears that the BNP is trying to portray itself eager to conduct a new type of progressive politics in the future. I hope that they will not disappoint the public as they have done in the past.

31 points announced by BNP

1. A ‘Constitutional Reforms Commission’ will be established to meticulously review, repeal and amend all contentious and undemocratic amendments and changes to the constitution. The restoration of democratic rights to the people will be pursued by reinstating the provision for a ‘referendum’ in the constitution.

2. An inclusive and harmonious ‘Rainbow Nation’ as opposed to the spirit of ongoing vengeance of the regime shall be established, based on Bangladeshi nationalism, achieved by weaving together a tapestry of diverse perspectives and approaches. To attain this objective, the establishment of a fresh and progressive ‘Social Contract’ is imperative, fostered through ongoing dialogues, the sharing of viewpoints, and mutual comprehension. In this pursuit, the formation of a ‘National Reconciliation Commission’ shall be formed.

3. To reinstate democracy, safeguard the right to vote, and provide a lasting, constitutional, and institutional framework to the democratic process, and thereby ensure people’s mandate to choose their own leaders and form the government, a ‘Poll-time Non-Partisan Caretaker Government System’ will be implemented.

4. A proper equilibrium shall be established in the executive authority of both the Prime Minister of the government and the Cabinet of Ministers. The powers, responsibilities, and obligations of the Executive, the Judiciary, and the Legislature will be recalibrated with the objective of creating a system of Checks and Balances in the exercise of state power.

5. No one shall serve as the Prime Minister for more than two consecutive terms.

6. In addition to existing legislative system, an ‘Upper House of the Legislature’ will be established comprising of eminent citizens, educationists, professionals, political scientists, sociologists and persons with administrative experience to run the state with expertise.

7. The issue of amendment of Article 70 of the constitution will be considered, subject to examination, in order to ensure scope to the Members of the Parliament to express independent opinion in the Parliament, except in case of no-confidence motion, Finance Bill, Constitution Amendment Bill and issues involving national security.

8. The existing ‘Chief Election Commissioner and other Election Commissioners’ Appointment Act-2022′ will undergo amendments to establish a fresh and capable Election Commission, composed of independent, proficient, unbiased, agreeable, and resolute individuals, as per the input from political parties and distinguished figures. The practice of voting across all centers will be ensured through paper ballots rather than EVMs. Revisions will be made to the RPO, the Delimitation Order, and the law governing the registration of political parties. The utilization of party symbols in local government elections will be annulled.

9. All constitutional, statutory, and public institutions will be restructured through essential legal reforms, aiming to reinstate transparency, accountability, and credibility that transcend narrow political divisions. The appointment to pivotal positions within these institutions will be subjected to review by a Parliamentary Committee through a formal hearing process.

10. The effective independence of the judiciary will be safeguarded in accordance with the provisions of the Bangladesh Constitution and the rulings of the Masdar Hossain Case. A ‘Judicial Commission’ will be established to revamp the existing judicial system. Supervision and discipline over subordinate courts will rest with the Supreme Court. An independent secretariat for the judiciary will be set up to operate under the auspices of the Supreme Court. The former ‘Supreme Judicial Council,’ enshrined in the constitution, will be reinstated to address matters such as the impeachment of Supreme Court Judges. For this purpose, essential amendments to the constitution will be undertaken. The selection of judges in the higher judiciary will be strictly based on their level of expertise, wisdom, integrity, devotion to the nation, reputation, and discernment, transcending partisan or political considerations. To appoint judges to the Supreme Court, a legislation specifying distinct qualifications and criteria will be enacted in accordance with Article 95(2)(c) of the Constitution.

11. An ‘Administrative Reforms Commission’ comprising of qualified and experienced persons shall be set up to reform and reconstitute the ‘administration’ with the objective of building up a service-oriented public and police administration imbued with patriotism. Merit, integrity, creativity, competence, experience and training will be the sole yardstick for appointment, transfer and promotion in civil and military administration.

12. A ‘Media Commission’ will be set up comprising former Supreme Court Judge, media professionals and learned, experienced and acceptable media personalities for ensuring complete freedom of mass media and comprehensive reforms in the media sector. Environment for honest and independent journalism will be restored. For this purpose, requisite amendment shall be brought in ICT Act- 2006 and Anti-terrorism Act-2009 and all black-laws usurping fundamental human rights including Special Power Act-1974 and Digital Security Act- 2018 shall be repealed. Trial of all cases of murder and torture of the journalists including sensational Sagar-Runi murder case will be ensured.

13. There will be no compromise on corruption. A white paper will be published investigating money laundering and corruption that took place over the last one decade and a half, and persons identified as responsible shall be brought to book. Adequate administrative and legal measures will be taken to bring back home the money laundered outside the country. Transparency and accountability shall be ensured in the Anti-Corruption Commission through systematic reforms, in addition to reforming the Anti-Corruption Commission and Anti-Corruption law. ‘Ombudsman’ will be put in place as provided under the constitution.

14. Rule of law will be established at all levels. Human values and human dignity shall be restored. The heinous culture of enforced disappearances, murder, extrajudicial killings and inhuman physical and mental torture will come to an end. Human rights will be implemented as provided under ‘Universal Human Rights Charter’. Appointment to the Human Rights Commission shall be made based on strict and specific criteria. Trial of all the persons directly or indirectly responsible for all extrajudicial killings, indiscriminate killings in the name of crossfire, enforced disappearances, murder, abduction, rape, inhuman physical torture and all cruel and inhuman crimes committed over more than a decade, shall be ensured.

15. An ‘Economic Reforms Commission’ will be formed comprising renowned economists, researchers, experienced bankers, corporate leaders and people with administrative experience to ensure economic justice. Disparity between the poor and the rich will be eliminated through equitable distribution of the benefits of growth to implement equity, human dignity and social justice, the main tenets of our war of liberation. The Constitution Reforms Commission, the Administrative Reforms Commission, the Judicial Commission, the Media Commission, and the Economic Reforms Commission will submit their respective reports within a definite timeframe so that relevant recommendations could be fast implemented.

16. Every individual will enjoy full right to exercise respective religious activities based on the fundamental principle of “Religion belongs to respective individual; state belongs to all.” Social, political, cultural, economic, religious and civil rights as well as security of life, property and dignity of the people including ethnic minority in the hills and plains irrespective of political affiliations, race, colour, caste and creed, as provided under the constitution, shall be ensured. Action will be taken against those responsible for damage to homesteads, business houses and places of worship of the religious and ethnic minorities and forcible occupation of their properties.

17. Fair wages of the working class will be ensured in keeping with inflation. Child- labor shall be stopped, and an appropriate environment and arrangement for exposition of their lives shall be ensured. A safe work environment and the right to democratic trade union shall be ensured. An initiative shall be taken to restart all closed industries including jute mills, textiles, and sugar mills. Arrangement shall be made for ensuring safety of life, dignity and work security of the expatriate workforce and hassle-free treatment at the airport including delivery of service in all sectors and expatriate voting-rights. Special programs will be implemented for equitable growth and eradication of disparity in the disadvantaged regions like tea gardens, slums, sands, haors and coastal belts.

18. All black laws including the Indemnity Act in the power, energy and mineral sectors will be repealed. The endless corruption currently being pursued in purchase of electricity from the anti-people quick rental power stations shall be stopped in order to prevent hemorrhaging in the national economy. Adequate steps will be taken for renewable and mixed energy-based power generation. Appropriate measures shall be taken for exploration and tapping of the neglected gas and mineral resources to cut import dependency. For expansion of industrial sector investment friendly policies shall be taken to attract domestic and international investment. Expatriate Bangladeshis shall be encouraged to invest, giving incentives and other opportunities. Planned and well-coordinated industrial infrastructure shall be developed country wide.

19. In terms of foreign relations, national interest, national sovereignty and national security shall be given topmost priority in all respects. Bilateral and multi-lateral problems shall be resolved on the basis of equity, justice, acknowledgement of international norms, rules and regulations. No terrorist activity shall be tolerated on the soil of Bangladesh. Stern measures shall be taken against terrorism, extremism and militancy. The use of terrorism as political tool to suppress the dissents and opposition political parties by misusing the anti-terrorist law will be stopped. This will facilitate identify the real terrorists and ensure punishment under the process of law.

20. To protect the sovereignty of the country, the Defense Forces will be well organized in a time-befitting manner imbibed with the spirit of patriotism. Defense forces will be kept above all controversies with its distinct dignity intact.

21. In a bid to comprehensive decentralization of power, the local government institutions will be made more independent, strong and empowered. These institutions will be brought under strict accountability so that they can play an effective role in different development and service-oriented works including health and education. Independent local government will be ensured free from the interference of the local administration and any public representative whatsoever. Appointment of government administrator in any local government institution will be stopped, except for vacancy created due to death of the incumbent or by an order of the court. An elected local government representative shall not be suspended/dismissed/removed by executive order unless sentenced by the court.

22. Arrangement shall be taken to confer state recognition of the respective individual contribution made in the war of independence in 1971.A list of the martyrs of the liberation war will be prepared under state initiative on the basis of intensive survey and they will be accorded due state status and recognition. Welfare policy for the martyred freedom fighter families will be formulated and implemented on the basis of the list. An accurate list of the freedom fighters will be prepared after intensive verification.

23. Modern and time-befitting youth development policies will be formulated in keeping with the vision, thoughts and aspirations of the youth. Unemployed educated youth will be given ‘Unemployment Allowance’ till he/she gets employed, or for one year, whichever occurs earlier. Visible steps will be taken to achieve demographic dividends by enhancing the skill of the youth. Multiple pragmatic programs will be taken to deal with unemployment problem. Necessary investment shall be made to develop human resources with utmost importance on health, education and nutrition.Increase in age-limit for entry into the government service will be considered in keeping with the international standard.

24. With a view to ensure effective participation of women in the national building process, specific programs will be taken for women empowerment. Up-to-date development program shall be adopted and implemented for exposition of the standard of life of women and children. Women will be given preference, in principle, with regard to nomination for national parliament election. Initiative will be taken to increase women representation in the local government.

25. Need-based education at lower and mid-level and knowledge-based education at the tertiary-level will be given priority by removing current anarchy in the education sector. Special emphasis will be laid on research. Uniform standard of education and instruction in vernacular shall be given priority. Arrangement shall be made to hold regular election to students’ union in the education institutions to help build up future leadership. 5% of GDP shall be allocated in the national budget in the education sector to develop a capable, skilled and humane population. Allocation in public interest sectors like health and education shall be gradually increased in keeping with the country’s economic growth. All relevant sectors including education, technology and training shall be reorganized and reshuffled with a view to creating skilled human resources. Research and Development (R&D) shall be given top priority in education, industrial, scientific, technological and production sectors. Appropriate arrangements shall be made for the development of sports and exposition of national culture. Immoral sky culture and cultural aggression shall be prevented.

26. Considering health is wealth and based on the principle of ‘Health for all’ and ‘No death without medical treatment’, universal health coverage shall be introduced in line with ‘NHS’ in the United Kingdom. Health Card will be introduced for each and every citizen. 5% of GDP shall be allocated in the national budget in Health Sector. Social safety net for the disadvantaged ultra poor shall be further expanded till total alleviation of poverty.

27. Fair price of agricultural produce will be ensured. Government purchase-centre for agricultural products shall be set up at all the unions in phases. Crop insurance, livestock insurance, fisheries insurance and poultry insurance will be introduced by extending subsidy-support, if so required. Non-agricultural use of agricultural land will be discouraged. A strategic action plan for research and development in agriculture, fisheries and live-stock sector shall be chalked out on a priority basis and effective steps for its implementation. For this, incentives shall be provided to the export-oriented agro-processing industrial sector.

28. For overall development of communication network, a well-integrated multi- modal communication system shall be established by reforming the roads, rail and water ways throughout the country. Arrangement shall be taken for increasing regional and international trade and commerce through modernization, development and enhancement of skill of the country’s seaports and riverports.

29. To combat the hazards and loss due to climate change, sustainable and effective strategies shall be adopted. Institutional capacity to face natural disasters like floods, tidal bores, cyclone, and earthquake shall be enhanced by procuring latest modern equipment’s. Effective measures shall be taken to prevent pollution of the rivers and water reservoirs. Program for excavation and re-excavation of rivers and canals shall be implemented to prevent flood and drought. Arrangement shall be taken for prudent tapping, exploitation, preservation, and economic use of the sea resources (blue economy) on the basis of scientific survey.

30. Necessary steps will be taken to develop the information and communication (ICT) sector to the world-class level. Application of ICT in all sectors shall be given priority. Space Research and Atomic Energy Commission shall be enriched through enhancement of institutional capacity and practical facilities.

31. Planned housing and urbanization policies shall be taken and implemented through a national Masterplan, without wasting agricultural land in city and rural areas and through reduction of growing population pressure in the urban areas. Housing of all the poor people in the country will be ensured in stages.

বিএনপির ৩১ দফা রূপরেখা

রিয়াজ ওসমানী

১৮ অক্টোবর ২০২৩

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের মেরামত ও শাসনের জন্য অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সাথে একত্রিত হয়ে জাতির কাছে ৩১ দফা রূপরেখা পেশ করেছে। বিএনপির ওয়েবপাতা থেকে সেগুলো অনুলিপি করে নীচে দেয়া হলো। বিঃদ্রঃ সাধু ভাষাকে এখানে চলতি ভাষায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। সাথে প্রয়োজনীয় কিছু পরিমার্জন করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ইংরেজি পরিহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এই দফাগুলোর কয়টা তারা বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ সবসময়ই থেকে যায়। যাইহোক, আমাদেরকে অবশ্যই সামনের দিকে তাকাতে হবে, বিশেষ করে যেহেতু এখানকার এজেন্ডাগুলো উপযুক্ত এবং দেশটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য খুব বেশি প্রয়োজনীয়। বিএনপি ভবিষ্যতে নতুন ধরনের এক প্রগতিশীল রাজনীতি পরিচালনার জন্য নিজেকে আগ্রহী হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছে। আশা করি তারা অতীতের মতো জনগণকে নিরাশ করবে না।

বিএনপির ঘোষিত ৩১টির দফা

১. “সংবিধান সংস্কার কমিশন” গঠন করে সকল বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক সাংবিধানিক সংশোধনী ও পরিবর্তনসমূহ পর্যালোচনা করে এই সব রহিত/সংশোধন করা হবে এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সাংবিধানিক সংস্কার করা হবে। সংবিধানে গণভোটের ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে।

২. প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে সকল মত ও পথের সমন্বয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিমূলক “রংধনু জাতি” প্রতিষ্ঠা করা হবে। এর জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎমুখী এক নতুন ধারার সামাজিক চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। এর জন্য একটি “জাতীয় পুনর্মিলন কমিশন” গঠন করা হবে।

৩. বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্থায়ী, সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি “নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার” ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

৪. সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রীসভার নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনয়ন করা হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাহী বিভাগ,আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুসমন্বয় করা হবে।

৫. পরপর দুই মেয়াদের অতিরিক্ত কেউ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

৬. বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সংসদে “উচ্চ কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা” প্রবর্তন করা হবে।

৭. আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত এমন সব বিষয় ব্যতীত অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে, বিবেচনা করা হবে।

৮. রাজনৈতিক দলসমূহের মতামত এবং বিশিষ্টজনের অভিমতের ভিত্তিতে স্বাধীন, দক্ষ, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও দৃঢ়চিত্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠন করার লক্ষ্যে বর্তমান “প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২” সংশোধন করা হবে। ইভিএম নয়, সকল কেন্দ্রে কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান নিশ্চিত করা হবে। আরপিও, ডেলিমিনেশন অর্ডার এবং রাজনৈতিক নিবন্ধন আইন সংস্কার করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিল করা হবে।

৯. সংকীর্ণ রাজনৈতিক দলীয়করণের ঊর্ধ্বে উঠে সকল রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও সংবিধিবন্ধ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এই সকল প্রতিষ্ঠান আইনি সংস্কারের মাধ্যমে পুনঃগঠন করা হবে। শুনানির মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে এই সকল প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

১০. বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। বর্তমান বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি “জুডিশিয়াল কমিশন” গঠন করা হবে। অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সর্বোচ্চ আদালতের নিকট ন্যাস্ত করা হবে। বিচার বিভাগের জন্য সর্বোচ্চ আদালতের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসন প্রশ্নে সংবিধানে বর্ণিত ইতোপূর্বেকার “সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল” ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হবে। এর জন্য সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন করা হবে। দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কেবল মাত্র জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করে বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের লক্ষ্যে সংবিধানের ৯৫(গ) অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মানদণ্ড সম্বলিত “বিচারপতি নিয়োগ আইন” প্রণয়ন করা হবে।

১১. দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিবেশ, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি “প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন” গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনঃগঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনা করা হবে।

১২. গণমাধ্যমের পুর্ণ স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান ও সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ আদালতের সাবেক বিচারপতি, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য গণমাধ্যমের ব্যক্তিদের সমন্বয়ের লক্ষ্যে একটি “মিডিয়া কমিশন” গঠন করা হবে। সৎ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই লক্ষ্যে আইসিটি এক্ট ২০০৬ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ সহ মৌলিক মানবাধিকার হরণকারী সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যা সহ সকল সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

১৩. দুর্নীতির ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করা হবে না। বিগত দেড় দশকব্যাপী সংগঠিত অর্থ পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা এবং শ্বেতপত্রে চিহ্নিত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের বাইরে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন ও দুর্নীতি দমন আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে দুদকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী “ন্যায়পাল” নিয়োগ করা হবে।

১৪. সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং অমানবিক নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো হবে। বিশ্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মানবাধিকার বাস্তবায়ন করা হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হবে। গত দেড় দশক যাবত সংগঠিত সকল বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের নামে নির্বিচারে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং নিষ্ঠুর ও অমানবিক অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তির প্রচলিত আইন অনুযায়ী সুবিচার নিশ্চিত করা হবে।

১৫. অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, কর্পোরেট নেতা এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি “অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন” গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র যথা: সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নিরিখে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য দূরীকরণ করা হবে। উপরোক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন, প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন, জুডিশিয়াল কমিশন, মিডিয়া কমিশন এবং অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনগুলি সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্ব-স্ব প্রতিবেদন দাখিল করবে যেন সংশ্লিষ্ট সুপারিসসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।

১৬. “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার” এই মূলনীতির ভিত্তিতে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। দলমত ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের জাতি-গোষ্ঠীর সংবিধান প্রদত্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ধর্ম-কর্মের অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং জীবন, সম্পদ ও মর্যাদাপূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করা হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ঘর-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় ভাঙচুর এবং তাদের সম্পত্তি দখলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৭. মুদ্রাস্ফীতির আলোকে মূল্য সূচকের ভিত্তিতে শ্রমিকদের ন্যায্য মঞ্জুরি নিশ্চিত করা হবে। শিশুশ্রম বন্ধ করে তাদের জীবন বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। নিরাপদ কর্ম পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাটকল, বস্ত্রকল, চিনিকল সহ সকল বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন, মর্যাদা ও কর্মের নিরাপত্তা এবং দেশে বিমানবন্দর সহ সকল ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত সেবা প্রাপ্তি ও ভোটাধিকার নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হবে। চা-বাগান, বস্তি, চরাঞ্চল, হাওর-বাওর ও মঙ্গা পীড়িত ও উপকূলীয় অঞ্চলের বৈষম্য দূরীকরণ ও সুষম উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

১৮. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ খাতে দায়মুক্তি আইন সহ সকল কালাকানুন বাতিল করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ রোধ করার লক্ষ্যে জনস্বার্থ বিরোধী কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো হতে বিদ্যুৎ ক্রয়ে চলমান সীমাহীন দুর্নীতি বন্ধ করা হবে। আমদানি নির্ভরতা পরিহার করে নবায়নযোগ্য ও মিশ্র শক্তি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং উপেক্ষিত গ্যাস ও খনিজ সম্পদ আবিষ্কার ও আহরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিল্পখাতের বিকাশে বিনিয়োগ বান্ধব নীতি গ্রহণ করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে উৎসাহ, সুযোগ ও প্রণোদনা দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে দেশব্যাপী সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

১৯. বৈদেশিক সম্পর্কের সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতি ও স্বীকৃত আন্তর্জাতিক বিধিবিধান অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সমস্যাদির সমাধান করা হবে। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তৎপরতা বরদাশত করা হবে না এবং কোনো সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা আশ্রয়-প্রশ্রয় পাবে না। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অপব্যবহারের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে রাজনৈতিক চাল বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়ে ভিন্নমতের বিরোধী শক্তি এবং রাজনৈতিক বিরোধীদল দমনের অপতৎপরতা বন্ধ করা হলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হবে।

২০. দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সুসংগঠিত, যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত করে গড়ে তোলা হবে। স্বকীয় মর্যাদা বহাল রেখে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা হবে।

২১. ক্ষমতার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলিকে অধিকতর স্বাধীন, শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান করা হবে। এই সকল প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে যাতে তারা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সহ বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্য কোনো জনপ্রতিনিধির খবরদারিমুক্ত স্বাধীন স্থানীয় সরকার নিশ্চিত করা হবে। মৃত্যুজনিত কারণ কিংবা আদালতের আদেশে পদশূন্য না হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে না। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্বাহী আদেশবলে বরখাস্ত/অপসারণ করা হবে না।

২২. ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যার যার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। এই তালিকার ভিত্তিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে একটি সঠিক তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

২৩. যুবসমাজের দর্শন, চিন্তা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক ও যুগোপযোগী যুব উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এক বছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী বাস্তবসম্মত কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। যুব সমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে “ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড” আদায়ের লক্ষ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুষ্টির উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করা হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি বিবেচনা করা হবে।

২৪. জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে। নারী ও শিশুদের জীবনমান বিকাশের নিমিত্তে যুগোপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদে মনোনয়নের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

২৫. বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্য পর্যায়ে চাহিদা ভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। গবেষণার উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হবে। একই মানের শিক্ষা ও মাতৃভাষায় শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ছাত্র সংসদে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। যোগ্য, দক্ষ ও মানবিক জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রমান্বয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে। দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট সকল খাতকে ঢেলে সাজানো হবে। শিক্ষা, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং উৎপাদন খাতে গবেষণা ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ক্রীড়া উন্নয়ন ও জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অনৈতিক আকাশ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রোধ করা হবে।

২৬. স্বাস্থ্যকে সম্পদ হিসাবে বিবেচনা করে “সবার জন্য স্বাস্থ্য” ও “বিনা চিকিৎসায় কোনো মৃত্যু নয়” এই নীতির ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (এন এইচ এস)-এর আদলে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রবর্তন করে সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% অর্থ বরাদ্দ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন না হওয়া পর্যন্ত সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

২৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল ইউনিয়নে কৃষিপণ্যের জন্য সরকারি ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও শস্য বীমা, পশু বীমা, মৎস্য বীমা এবং পোল্ট্রি বীমা চালু করা হবে। কৃষি জমির অকৃষি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হবে। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এতদসংশ্লিষ্ট রফতানিমুখী কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পখাতকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

২৮. দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে সড়ক, রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সারা দেশে সমর্থিত বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দেশের সমুদ্র বন্দর ও নৌবন্দরসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে।

২৯. জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সংকট ও ক্ষতি মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে। বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও ভুমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাধুনিক যন্ত্র সংগ্রহ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। নদী ও জলাশয় দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বন্যা ও খরা প্রতিরোধে খাল-নদী খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সামুদ্রিক সম্পদের বিজ্ঞানসম্মত জরিপ ও মজুদের ভিত্তিতে তা আহরণ এবং অর্থনৈতিক ব্যবহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০. তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সর্বক্ষেত্রে এর প্রয়োগকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। মহাকাশ গবেষণা এবং আনবিক শক্তি কমিশনের কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রায়োগিক সুযোগ সমৃদ্ধ করা হবে।

৩১. এক জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে শহরে ও গ্রামে কৃষি জমি নষ্ট না করে এবং নগরে জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ হ্রাস করে পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়নের নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল দরিদ্র জনগোষ্ঠির আবাসন নিশ্চিত করা হবে।

এবার পরিবর্তনের পালা

রিয়াজ ওসমানী

১২ জুলাই ২০২৩

পৃথিবীটাতে আজ একটি নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি হয়েছে। এক মেরুতে রয়েছে পশ্চিমা দুনিয়ার গণতন্ত্রগুলো। অন্য মেরুতে রয়েছে কিছু স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্র যাদের মধ্যে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া, ইরান ইত্যাদি দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় মেরুটির কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছে এবং পৃথিবীর অন্যান্য কিছু স্বৈরাচারীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমর্থন করছে।

আমরা ভিসা আবেদন করার সময়ে কোন দূতাবাসগুলোতে গিয়ে হাজির হই? কেন হই? কারণ ভেতরে ভেতরে আমরা অধিকাংশ বাংলাদেশিরাই আমাদের দেশকে পশ্চিমা দেশগুলোর মতোই দেখতে চাই, যেখানে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি রয়েছে গণতন্ত্র, নিয়মিত সুষ্ঠ নির্বাচন, নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার জন্য কার্যকর বিরোধী রাজনৈতিক দল, বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গসমূহ, রাষ্ট্রের সহায়তায় জনগণ ও সম্পত্তির নিরাপত্তা; বিত্ত ভিত্তিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে আইনের সমান প্রয়োগ; সকল প্রকার সংখ্যালঘুদের সমান নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্র কর্তৃক তাদের সুরক্ষা; সকল প্রকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে শক্ত আইন ও তার প্রয়োগ; দুর্নীতিমুক্ত সমাজ; সংসদ থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা; সকল মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা ইত্যাদি।

পশ্চিমা দেশগুলো অবশ্যই উপরের সব কিছু এখনও সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। উপরের চিত্রটি একটি গন্তব্যস্থল যার পানে যাত্রাটি কোনো সময় শেষ হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে সম্প্রতি যাত্রাটি হয়েছে বিপরীত দিকে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১৫ বছর ধরে কাঙ্খিত চিত্রটির অনেক কিছুই পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করা হয়েছে, যার অন্যতম হাতিয়ারগুলো ছিল ক) বিচার বিভাগ এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের দলীয়করণ; খ) সর্বজনীন স্বজনপ্রীতি; গ) “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন” নামের একটি নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ; ঘ) রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ ব্যবহার করে আইন ও মানবাধিকার বহির্ভূত কার্যকলাপ; ঙ) আমলা, ব্যবসায়ী ও সরকারের বিবিধ সমর্থকদেরকে সীমাহীন দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি; চ) জনসাধারণের ভোট বিহীন পরপর দুটি প্রহসনের নির্বাচন করে নিজের ক্ষমতা নবায়ন এবং ছ) ধর্মীয় গোত্রকে পৃষ্ঠপোষকতা করে রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার কবর। এর সব কিছুই করা হয়েছে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে।

কিন্তু আওয়ামী লীগ সেই অতীতের ফিরিস্তি বারবার শুনিয়ে এবং অন্যদের ঘাড়ে সেগুলোর দোষ চাপিয়ে দিয়ে বর্তমান সময়কার মাছগুলো শাক দিয়ে ঢাকতে পারবে না। হাজার মহাসড়ক, সেতু, রেলপথ, বন্দর, ইপিজেড, কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ডিজিটাল সেবাকেন্দ্র ও পল্লী আবাসন দিয়েও রাষ্ট্রের ক্ষতিগুলো আড়াল করে রাখা সম্ভব নয়। বরং, উল্লেখিত ধ্বংসলীলার কারণে এসব উন্নয়ন কখনো টেকসইও হয় না। তাই এবার পরিবর্তনের পালা। না হলে রাষ্ট্রের ক্ষতিগুলো ভবিষ্যতে এমন পর্যায় পৌঁছে যেতে পারে যে বাংলাদেশ নামের একটি কার্যকর রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে যেতে পারে।

এই পরিবর্তনটি আসলে বিকল্প হিসেবে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তারা যে বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের সকল চাওয়াগুলো পূরণ করতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাদেরও ইতিহাস নিন্দনীয়। রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থা ও দুর্নীতিতে তাদের অবদান ছিল আকাশচুম্বী। বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে আত্মঘাতী রাজনীতি, সাথে রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার বুকে ছুড়ির আঘাত তাদের আমলগুলোতেই শুরু হয়। তার উপর বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে তাদের অবদান ছিল অপরিসীম। বিরোধী দলকে দমন করার প্রবণতা, যা বর্তমান সরকারের আমলে ছিল অনৈতিক এবং আইন ও মানবাধিকার বহির্ভূত, তা তাদের আমলে রূপ নিয়েছিল তখনকার বিরোধী নেত্রীকে (বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে) হত্যা করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে।

এত কিছুর পরও একটি নতুন সূচনা হলে বর্তমান সরকারের অধীন রাষ্ট্র ব্যবস্থার চরম ক্ষতিগুলোর গতিতে লাগাম টানার সম্ভাবনার সৃষ্টি হতে পারে, যদিও রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা পুনরায় স্থাপন করার ইচ্ছা বা সাহস বাংলাদেশের কিছু বামপন্থী রাজনীতিবীদ ছাড়া আর কারোর নেই। অথচ রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ছাড়া একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক দেশের হদিস পৃথিবীর কোথাও নেই এবং তা সম্ভবও নয়। তথাপি, যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তারা রাষ্ট্র মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তা সম্পন্ন করার পন্থাগুলোও জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছে। এই প্রতিশ্রুতি তারা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তাদেরকেও পরবর্তী নির্বাচনে হার মানিয়ে দেয়া যাবে (যদি সুষ্ঠ নির্বাচনের প্রক্রিয়া বলবৎ থাকে)। এই হলো গণতন্ত্রের বিকাশের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র।

এই প্রকৃত উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলাকালীন আমাদেরকে নির্দ্বিধায় সমমনা রাষ্ট্রগুলোর কাছাকাছি চলে যেতে হবে। সেটার রূপ হবে কূটনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং ভূরাজনৈতিক। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো, সাথে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলো যেই মেরুতে অবস্থান করছে, আমাদেরকে সেই দিকেই অগ্রসর হতে হবে। এবং তা করতে হবে পশ্চিমা দুনিয়ার অতীতের কিছু বিতর্কিত ইতিহাসকে উপেক্ষা করেই। সময়ের সাথে সাথে দুনিয়াটা বদলায়। ভবিষ্যতে আমাদের প্রকৃত রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন আরো টেকসই হবে যদি আমরা তাদের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন করি যারা যুগযুগ ধরে তাদের নিজেদের রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং করছে।

বাংলাদেশের বামপন্থীরা অবশ্যই এতে নব্য ঔপনিবেশিকতা, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদী আগ্রাসন, শ্রমিকদের শোষণ ইত্যাদির ধোঁয়া তুলবে। অথচ রাশিয়া যে বরাবরই একটি ঔপনিবেশিক শক্তি এবং চীন যে এখন তার সাথে যুক্ত হয়েছে, তার উপলব্ধি এই বামপন্থীদের কোনো দিনও হবে না। বর্তমান যুগে শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকার নিয়ে ন্যায্য কথাগুলো বলা ছাড়া তাদের আর কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। বিশ্বায়নের যুগ একটি বাস্তবতা, যেখানে মুক্তবাজারের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা সময়ের সাথে সাথে দেশের সমাজ ও অর্থনীতির ঘাটতিগুলো নিরাময় করতে পারে। সরকারের এখতিয়ারে থাকবে মুক্তবাজারের ব্যর্থতাগুলো লাঘব করা, যার হাতিয়ার রয়েছে বিস্তর। আর এর সব কিছুই সম্ভব হয় একটি প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। অন্য কোনো ব্যবস্থায় নয়।

বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠ নির্বাচন ও আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বিকাশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বর্তমান উদ্যোগগুলোকে আমি এই কারণেই স্বাগত জানাই।

স্বার্থের দ্বন্দ্ব

রিয়াজ ওসমানী

৬ জুন ২০২৩

ইংরেজিতে “Conflict of Interest” (কনফ্লিক্ট অফ ইনটারেস্ট) বা “স্বার্থের দ্বন্দ্ব” বলতে একটা জিনিষ আছে যা অনেক প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশে রাজনীতিবিদদের বেলায় প্রয়োগ করা হয়। এর অর্থ দাঁড়ায় যে দেশটির যে কোনো নাগরিক রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করতে চাইলে রাজনীতির বাইরে কোনো কিছুকে অনৈতিক বা বেআইনিভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ থাকলে সেই “কোনো কিছুর” সাথে সংশ্লিষ্ট রাজনীতিবিদকে তার সম্পর্কগুলো আগে ছিন্ন করতে হবে।

এই স্বার্থের দ্বন্দ্বের একটা উলঙ্গ উদাহরণ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর নির্দশন প্রবল। অনেক সাংসদ ও মন্ত্রী রয়েছে যারা যে শুধু বণিক শ্রেণি থেকে এসেছে তা নয়, তারা এখনও তাদের ব্যবসাগুলোর সাথে জড়িত। এর পরিণাম হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। আমি বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী, তাই ব্যবসা-বাণিজ্যকে কখনোই নেতিবাচক হিসেবে দেখব না। বরং আমি সব সময়েই বলে থাকি যে দেশ গড়ে এবং কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করে আমাদের ব্যবসায়ীরা এবং উদ্যোক্তারাই।

কিন্তু রাজনীতিতে ধর্ম যেমন বিষ, ঠিক তেমনি সেখানে ব্যবসাও হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের কাল। বহির্বিশ্বে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে আসলেও বাংলাদেশে তা কেন এখনও কমে আসেনি তার উত্তর পাবেন সেখানেই। বড় বড় কিছু ব্যবসায়ীরা একত্রে মিলে কৃত্রিমভাবে অনেক জিনিষের দাম বাড়িয়ে রেখেছে। এই মানুষদেরকে সমাজের অনেকেই সমষ্টিগতভাবে সিন্ডিকেট বা চক্র হিসেবে উল্লেখ করে থাকে। এদের অনেকেরই সাথে বিভিন্ন রাজনীতিবিদ এমন কি সরকারের সাথে রয়েছে ঘনিষ্ট যোগসাজশ। সরকারের মধ্যেই এই চক্রের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া গেলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

এই কারণে এই চক্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তো দূরের কথা, সরকারের পক্ষ থেকে এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করারও কোনো উদ্যোগ আশা করা নিরর্থক। আর সংসদে এত এত ব্যবসায়ী থাকার কারণেই যে দেশের একটা মুষ্টিমেয় গোত্র ব্যাংকগুলো থেকে অঢেল ঋণ নিয়ে, ঋণ খেলাপি হয়ে দেশ থেকে সেই টাকা বিদেশে পাচার করে বেগম পাড়া তৈরি করতে পেরেছে তা বলাই বাহুল্য। তাই ভোটের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া না পর্যন্ত এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে না।

জনগণের উচিৎ হবে সুষ্ঠ ভোটের সুযোগ তৈরি হলে যে সকল ব্যবসায়ীরা সাংসদ হওয়ার জন্য নির্বাচনে দাঁড়াবে, সে সকল মানুষরা যেই দলেরই হোক না কেন, তাদেরকে নির্বাচত না করা। রাজনীতি করবে রাজনীতিবীদরা। ব্যবসায়ীরা নয়। এবং আগামীতে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে আসতে চাইলে তাদের ব্যবসাগুলোর সাথে তাদের সকল সম্পর্কগুলো আগে ছিন্ন করতে হবে এবং একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার থাকতে হবে তা নিশ্চিত করার। বলে রাখতে চাই যে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চাইলে স্বার্থের দ্বন্দ্বের বিষয়টি ব্যবসার বাইরে অন্য যে কোনো পেশার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে হবে।