ভারতের লোকসভা নির্বাচন – ২০২৪, বাংলাদেশের একটি পর্যবেক্ষণ

লোকসভা

রিয়াজ ওসমানী

৪ জুন ২০২৪

সরকারের চামচা মার্কা গণমাধ্যম, প্রভাবিত বিচারবিভাগ ও নির্বাচন কমিশন, বিরোধী দলের প্রতি দমন-পীড়ন, বাকস্বাধীনতার হ্রাস, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বৃদ্ধি, দুর্নীতির রাজত্ব এবং অতি বিত্তশালীদের সাথে সরকারের যোগসাজস! শুনতে অবিকল বাংলাদেশ মনে হলেও আমি বলছি ভারতের কথা। হ্যাঁ, বিগত ১০ বছর ধরে নরেন্দ্র মোদী ও তার বিজেপি দলের শাসনামলে ভারতের রাজনৈতিক চেহারার আজ এই করুণ দশা।

কিন্তু ভারতের সাথে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হচ্ছে যে ভারতে এখনও মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়নি। সেই দেশে এখনও তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করা যায় এবং হয়। একমাত্র এই কারণেই সদ্য সমাপ্ত জাতীয় (লোকসভা) নির্বাচনে ভারতের ভোটারগণ মোদী ও বিজেপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না দিয়ে সতর্ক করে দিতে পেরেছে যে তারা বিগত সময়গুলোর জন্য সন্তুষ্ট নয়। তরুণদের বেকারত্ব, কৃষকদের দুর্দশা, নিম্নবিত্তদের কষ্ট ইত্যাদির দিকে নজর না দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও অতিবিত্তশালীদের সাথে প্রণয় স্থাপণ করে তারা আর বেশি দিন মানুষদের মন জয় করে রাখতে পারবে না।

ভারতের জনগণ যে এই বার্তাটি দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, সেটা গণতন্ত্রেরই জয়। একই সাথে লোকসভায় আসনের চূড়ান্ত তালিকা আবারও ভারতকে একটি শক্ত বিরোধী দল উপহার দেবে (কংগ্রেস ও তার শরিক দলগুলো মিলে)। এই শক্ত বিরোধী জোটের কারণে মোদী এখন আর অযাচিতভাবে দেশটির সংবিধান বদলে দিতে পারবে না। বিজেপি সময়ের সাথে সাথে যেভাবে গণমাধ্যম, বিচারবিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে কুক্ষিগত করে ফেলেছিল, সেটা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখন আর অযৌক্তিক নয়। বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতাও যে কিছুটা ফিরে পাওয়া যেতে পারে সেটাও আশা করা যায়।

নরেন্দ্র মোদী আর তার বিজেপি দল যেভাবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার বুকে ক্রমান্বয়ে ছুরি মেরে দেশটির রূপ বদলে দেয়ার চেষ্টা করে এসেছে, দেশটির জনগণ যে তাতে সায় দিয়েছে তা বলা যাবে না। এখানেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি শুভ বার্তা। ভারতের দুই পাশেই রয়েছে দুটি মুসলমান প্রধান দেশ, যেগুলোতে রয়েছে হিন্দু সংখ্যালঘু। ভারতের অভ্যন্তরের হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের মাধ্যমে কখনোই তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর ভেতরকার একই সম্পর্কগুলো প্রভাবিত হওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু তারপরেও কিছুটা প্রভাব কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ফেলে। ভারতের ভোটাররা সাম্প্রদায়িকতার ডাকে সারা না দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ককে কিছুটা হলেও সহায়তা করলো।

বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র মৃত। নির্বাচন বলতে জনগণ যা বুঝে ও আশা করে, এই দেশে তার ছায়াটুকুও আজ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষমতাটি হারিয়ে ফেলেছে। সেই কারণে বাংলাদেশের জনগণের আজ ক্ষমতা নেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে শায়েস্তা করতে। তবে ভারতের ২০২৪ সালের নির্বাচনটি বাংলাদেশিদেরকে আশার আলো দেখাতে পারে, যদি আমরা তা দেখার ইচ্ছা পোষণ করি। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভারতের যে কোনো সরকারের সাথেই কিঞ্চিৎ বৈরিতা বজায় রেখে এসেছে। বর্তমানে তাদেরই কিছু অতি উৎসাহী অনলাইন সমর্থকরা ভারতীয় পণ্য, এমনকি গোটা ভারতকেই বর্জন করার ডাক দিয়ে চলেছে।

আশা করি সমর্থকদের এই শিশুসুলভ বাতুলতা শিগগিরি বন্ধ হবে এবং বিএনপি ভারতকে আশ্বস্ত করতে পারবে যে (জামাত ব্যতীত) বিএনপি আবারও ক্ষমতায় এলে বাংলার মাটিকে কখনোই ভারতের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এতে ভারত আর একচেটিয়াভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে না, যার ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশের পথটি আবারও একটু হলেও খুলে যাবে। ঐতিহাসিক ও সাংষ্কৃতিক বন্ধনের পটভূমিতে বিশ্ব দরবারে ভারত ও বাংলাদেশকে একত্রে মিলে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকা উচিৎ।

Two States Called Israel and Palestine

Peace

Riaz Osmani

30 May 2024

Regarding the Israeli and Palestinian conflict, we should all move away from absolutist positions. They will get us nowhere. What we all need to get behind is the dead process of the two state solution of Israel and Palestine, two separate and independent countries, living side by side in peace and security.

Right now, that seems like pie in the sky. But we nearly got there by the efforts of former American Presidents Bill Clinton and Barak Obama when they were in office. Unfortunately, both the Palestinian and Israeli delegations at those instances could not agree to the final status compromises. But this must be tried again.

And for that to happen, Israelis need to re-elect a leftwing government and Palestinians need to re-elect Fatah. Then willing and moderate delegates from both sides can sit around a table again, sponsored by the US, EU, Arab League etc. Extremists on both sides tried very hard in the past to make sure we never reached a two state solution. That cannot be allowed to happen again.

ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন নামের দুটি রাষ্ট্র

শান্তি

রিয়াজ ওসমানী

৩০ মে ২০২৪

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংঘাতের বিষয়ে আমাদের সকলকেই চরম একপেশে অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। কারণ এতে এই সংঘাতটির কোনো সুরাহা আশা করা যাবে না। আমাদের সকলকে দুই রাষ্ট্রের মৃত প্রক্রিয়াটির পেছনে আবারও ছুটতে হবে, যেই সমাধানের মাধ্যমে ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইন নামের দুটি পৃথক এবং স্বাধীন দেশ, শান্তি ও নিরাপত্তায় পাশাপাশি বসবাস করবে।

যদিও এই মুহূর্তে এটিকে একেবারেই অবাস্তব ও আজগুবি মনে হতে পারে, আমরা প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতিগন, বিল ক্লিনটন এবং বারাক ওবামা, যখন তারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের প্রচেষ্টায় সেখানে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময়গুলোতে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় প্রতিনিধিদলই চূড়ান্ত সমঝোতায় একমত হতে পারেনি। কিন্তু এটা আবার চেষ্টা করা আবশ্যক।

এবং এটি ঘটতে হলে, ইসরায়েলিদেরকে একটি বামপন্থী সরকারকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদেরকে ফাতাহকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে। তারপরে দুইপক্ষ থেকেই ইচ্ছুক এবং মধ্যপন্থী প্রতিনিধিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, আরব লীগ ইত্যাদিদের পৃষ্ঠপোষকতায় আবারও একটি টেবিলের চারপাশে বসতে পারে। উভয় পক্ষের চরমপন্থীরা অতীতে অনেক চেষ্টা করেছিল যাতে আমরা কখনই দুই রাষ্ট্র সমাধানে পৌঁছাতে না পারি। এমনটা আর হতে দেওয়া যাবে না।

ভন্ড মুমিন, ভন্ড বাঙালী

রিয়াজ ওসমানী

২০ এপ্রিল ২০২৪

বাংলা সংষ্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধের তথাকতিত রক্ষকগণ, যারা “বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমকামীদেরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে হেনেস্তা, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অপমান, এবং তাদের জীবন তছনছ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাই।

অন্যদের বিচার করার আগে প্রথমে আয়নায় নিজের দিকে তাকান। বাঙালী ও ইসলামী মূল্যবোধ আপনাদের ব্যক্তিগত জীবনে কত শতাংশ প্রস্ফুটিত হয়েছে সেই দিকে নজর দিন। দেখবেন যে অনেক দিক থেকেই আপনাদের এই সব কর্মকান্ড ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু না।

সমকামিতা একজনের জন্মগত এবং অপরিবর্তনীয় যৌন প্রবৃত্তি। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞান মহলে সকলেরই জানা। কাজেই এখানে সমকামীরা বিষমকামীদের মতো করে জীবনযাপন করবে, এই প্রত্যাশাটা রীতি মতো অন্যায় – ঠিক বিষমকামীরা সমকামীদের মতো করে জীবনযাপন করবে, সেই প্রত্যাশাটার মতো। বাংলাদেশ সহ সমগ্র পৃথিবীর ৫-১০ শতাংশ নর ও নারী সমকামী। এটা মানব সভ্যতার শুরু থেকেই বিদ্যমান, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।

এবার ধর্মের কথা টানবেন নিশ্চয়ই। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করলে এটাও মানবেন যে সৃষ্টিকর্তাই সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী, অদ্বৈত, আন্ত:লিঙ্গ প্রভৃতি মানুষদেরকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। এখানে পাপ পুণ্যের বিচার তাঁর উপরেই ছেড়ে দিতে হবে৷ সৃষ্টিকর্তা আপনাদেরকে অধিকার দেননি তাঁর দায়িত্বটা আপনাদের নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে নেয়ার।

আর অনলাইন জগতে বা তার বাইরে নির্দিষ্ট একটি গোত্রের মানুষদেরকে এভাবে হেনেস্তা করার অধিকার আপনাদেরকে কেউ দেয়নি। আপনারাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট কীট পতঙ্গ। ভন্ডের সর্ব শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। অধমেরও অধম। আপনাদের এই সব কর্মকাণ্ড থামিয়ে দিন। আপনাদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা কতৃপক্ষ দ্বারা কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তার সমস্ত পথ বের করা হবে।

মিয়ানমার ও একটি পরাশক্তির নোংরামি

রিয়াজ ওসমানী

১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মিয়ানমারে নোংরা ভূমিকা এখন একটা দেশেরই বিদ্যমান। আর তা হচ্ছে চীন। সুবিধা মতো তারা এত দিন সামরিক জুন্তাকে সমর্থন করে এসেছে (সাথে ঐ জুন্তা দ্বারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যাকে)। আর এখন তারা একই সাথে সামরিক জুন্তার বিরুদ্ধে লড়াই করা আরাকান আর্মি সহ সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে সমর্থন করছে, যেহেতু সামরিক জুন্তার হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এরকম নোংরামি পৃথিবীর বাকি পরাশক্তিদেরকেও হার মানায়।

রোহিঙ্গাদের গণহত্যা চলাকালীন মিয়ানমারের সামরিক জুন্তার বিরুদ্ধে অনেক রকম ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ জাতি সঙ্ঘে অনেকগুলো প্রস্তাব এনেছিল, যার প্রতিটাই প্রতিষেধ করেছে (ভেটো দিয়েছে) রাশিয়া ও চীন। আর শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এদের বলয়ে ঢুকিয়ে দিয়ে আমাদেরকে একটি ভূরাজনৈতিক বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে সাধুবাদ দিতে হবে যে তারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যার পর সামরিক জুন্তার অনেক সদস্য ও তাদের পরিবারের উপর হরেক রকমের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এটাও উল্লেখ করতে হবে যে গণহত্যা থেকে নিজেদের বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা সকল রোহিঙ্গাদের ভরণ পোষণের অধিকাংশ খরচ বর্তমানে বহন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

Bangladesh After the Farce Of An Election (January 2024)

Riaz Osmani

14 January 2024

Sheikh Hasina’s tolerance for corruption, bank looting and money laundering that has broken all previous records, creation of an oligarchy, fielding Parliamentary candidates that are almost exlusively active business people, establishing crony capitalism in the country, co-opting every organ of the state including the judiciary, and letting overall economic disparity in Bangladesh reach levels never seen before – thus benefitting from a power base that has nothing to do with general voters – will only give fodder to socialists/communists on the one hand, and Islamists on the other. This is the place she has taken the country to over the last 15 years. Mega infrastructural projects and GDP figures are a side show only. We do have an opposition party whose recent politics is more moderate, inclusive and liberal, and can possibly bring in change (though their own past too is notably condemnable). But its entirety is now in jail on mostly trumped up charges. So they don’t even have that opportunity.

There is no difference between Bangladesh and Russia today. Like Russia, the current head of government in Bangladesh is an authoritarian monster who has been in power for a long time without the meaningful vote and support of the people. Democracy disappeared long ago. Now the source of her power is the police and all law enforcement agencies, the detective branches and the newly created oligarchs. Political opponents are now oppressed by a co-opted judiciary and the rest of the politicized state apparatus. There is no real freedom of speech in the country thanks to black laws – no environment for free, unbiased and investigative journalism. Beneficiary groups have been created across the country to worship Sheikh Hasina. These groups have rendered the social, political and economic fabric of the country ill. All basic human rights are now reserved for these beneficiary groups.

প্রহসনের নির্বাচন (জানুয়ারী ২০২৪)-এর পর বাংলাদেশের চিত্র

গণতন্ত্রের মৃত্যু

রিয়াজ ওসমানী

১৪ জানুয়ারী ২০২৪

দুর্নীতি, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের প্রতি শেখ হাসিনার সহনশীলতা, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, সাথে তার আশীর্বাদে একটি অলিগার্ক (অতি বিত্তশীল) শ্রেণি গঠন, সংসদীয় প্রার্থী বাছাই করা যারা প্রায় একচেটিয়াভাবে সক্রিয় ব্যবসায়ী, দেশে ক্রনি পুঁজিবাদ প্রতিষ্ঠা করা, বিচারবিভাগ সহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ কুক্ষিগত করা, এবং বাংলাদেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৈষম্যকে এমন মাত্রায় পৌঁছাতে দেয়া যা আগে কখনো দেখা যায়নি – এসকল কূটচালের ফলস্রুতিতে সাধারণ ভোটারদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, এমন একটি ক্ষমতার ভিত্তি থেকে হাসিনা এই নির্বাচনের পর উপকৃত হবেন। এবং এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করবে একদিকে দেশের সমাজতান্ত্রিক/সাম্যবাদীরা, অন্যদিকে ইসলামপন্থীরা। গত ১৫ বছরে তিনি দেশকে এই জায়গাটিতে নিয়ে গেছেন। বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্প এবং জিডিপি পরিসংখ্যান একটি পার্শ্ব প্রদর্শনী মাত্র। আমাদের একটি বিরোধী দল রয়েছে যাদের সাম্প্রতিক রাজনীতি আরও মধ্যপন্থী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উদার, যারা সম্ভবত পরিবর্তন আনতে পারে (যদিও তাদেরও অতীত উল্লেখযোগ্যভাবে নিন্দনীয়)। কিন্তু সেই দলটির পুরোটাই এখন বেশির ভাগ গায়েবী মামলায় কারাগারে। কাজেই সেই সুযোগটাও তাদের হাতে নেই।

বাংলাদেশ আর রাশিয়ার মধ্যে এখন আর কোনো পার্থক্য নেই। রাশিয়ার মতোই বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রধান হচ্ছে একজন কতৃত্বপরায়ণ দানব, যিনি দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষমতায় আছেন জনগণের অর্থবহ ভোট ও সমর্থন ব্যতিত। গণতন্ত্র লোপাট গেছে বহু আগে। এখন তার ক্ষমতার উৎস হচ্ছে পুলিশ তথা সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ এবং নব নির্মিত অলিগার্ক শ্রেণি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এখন কুক্ষিগত করা বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে দলীয়করণ করা বাকি রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা নিপীড়িত। কালো আইনের আদলে দেশে নেই প্রকৃত বাকস্বাধীনতা – নেই মুক্ত, পক্ষপাতহীন ও অনুসন্ধানভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবেশ। দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে শেখ হাসিনা বন্দনাকারী সুবিধাভোগী গোষ্ঠী যারা দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চেহারাকে করে ফেলেছে অসুস্থ। সকল মৌলিক মানবাধিকার এখন এই সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর জন্যই প্রদত্ত।

বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে ক্রোনি পুঁজিবাদের আখড়া

রিয়াজ ওসমানী

২৮ অক্টোবর ২০২৩

বাংলাদেশের “উন্নয়ন”-এর একটি বৈশিষ্ট হচ্ছে যে দেশের মুক্তবাজার অর্থনীতি আজ পরিণত হয়ে গিয়েছে ক্রোনি পুঁজিবাদে। সেটা কী? সেটা একটি ব্যবস্থা যেখানে রাজনীতি ও বাণিজ্য এক হয়ে গিয়েছে এবং সরকারের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বজায়ে রেখে কিছু মুষ্টিমেয় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান অপ্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে তাদের কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিনিময়ে সরকার পাচ্ছে এই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য আনুগত্য।

এর জলজ্যান্ত উদাহরণ হচ্ছে দেশে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী কৃষক থেকে দোকানীদের কাছে পৌছে দেয়া মধ্যস্বত্বভোগীরা। এদের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কম এবং এরা একে অপরের সাথে সহযোগিতা করে একটি বাজার চক্র তৈরি করে সেই খাদ্য দ্রব্যের মূল্য এমন পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যে তারা লুটে নিচ্ছে সীমাহীন মুনাফা আর দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা, যারা এখনও দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, তারা পারছে না তাদের দৈনন্দিন পুষ্টি মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্য ক্রয় করতে।

ফলে বাংলাদেশের জনৈক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক এক বক্তব্য অনুযায়ী দেশে ৪ কোটি জনগনের ” ইউরোপীয়” ধাঁচের জীবন যাপন সম্ভব হলেও বাকি ১৩ কোটির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ একটি নিরব দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে তারা অপুষ্টি বা আধা পুষ্টিতে ভুগছে। আওয়ামী লীগের কিছু চাটুকারদেরকে অনলাইনে বলতে দেখেছি যে খাদ্যের উচ্চ মূল্য হচ্ছে উন্নতির লক্ষণ। এই উচ্চ মূল্য সময়ের সাথে সাথে সকলের আয় বৃদ্ধি দেবে। সরকারের চাটুকারিতা করতে করতে নিজের পকেট ভরলে এরকম কথা সহজেই বলা যায়।

কিন্তু এই উন্নয়ন কোনো উন্নয়ন নয়। এটা মুক্তবাজার নামে অরাজগতা এবং সরকার যে এই ব্যাপারে ধ্বনি বধির এবং এর সুরাহা বের করতে অপারগ ও অক্ষম, তা আমাদের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। এই বাজার চক্র ভেঙে দিতে গেলে সরকার তার একটি বিরাট সমর্থনকারী শক্তিকে হারাবে বলে বালুর ভিতর নিজের মাথা ডুবিয়ে রেখেছে।

ক্রোনি পুঁজিবাদ হচ্ছে মুক্তবাজারের সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপ যা রাশিয়া ও চীনে প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশও যে এই পথে আগাবে তা ৩০ লক্ষ শহীদরা বোধহয় দু:স্বপ্নেও দেখেনি। মুক্তবাজারের ব্যর্থতাগুলো লাঘব করার পন্থাগুলো মুক্তবাজারেই লুকিয়ে আছে। সেগুলো অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিই যথেষ্ট। আগামী সরকার যেই দলেরই হোক না কেন, সেই সরকারকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে আরো অধিক ছাএপত্র দিয়ে আরো অধিক মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার পরিবেশ তৈরি করে দেয়ার। এবং তা হতে হবে বর্তমানের তুলনায় দশ-বিশগুন বেশি। ছাড়পত্র দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিষয়াদি বিবেচনায় নেয়া যাবে না।

তিনটা প্রতিষ্ঠান যেভাবে একে অপরের সাথে শলাপরামর্শ করে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বে স্থির করে রাখতে পারে, ৩০টা প্রতিষ্ঠান সেটা অত সহজে পারে না। তাদের মাঝে প্রতিযোগিতার আদলে কৃষকের লাউ দোকানীর কাছে অপেক্ষাকৃত কম দামে আসতে পারে। ক্রেতারাও তখন এখনকার তুলনায় আরও কম দামে সেই লাউ কিনতে পারবে। বাজার চক্র ভেঙে দেয়ার এটাই হচ্ছে সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।

এখানে আরেকটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের লাউ দোকানীর হাতে আসতে আসতে যতবার হাত বদল হয়েছে, যে কটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লাউটি রদবদল হয়েছে, এবং রদবদলের প্রতিটি ধাপ কী দামের বিনিময়ে সম্পন্ন করা হয়েছে তার একশো শতাংশ স্বচ্ছ নথির ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং সেগুলো সর্বোচ্চ প্রশাসনিক তদারকির মধ্যে রাখতে হবে। একজন ক্রেতা হিসেবে ইচ্ছে থাকলে আমি যেন জানতে পারি যে কৃষক সেই লাউয়ের জন্য কত দাম পেয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা কত দামে তা রদবদল করেছে এবং সর্বশেষে দোকানীর কাছে তা কত দামে এসেছে।

এভাবেই বাংলাদেশে ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশের ক্রোনি পুঁজিবাদ, যা শুধু খাদ্য দ্রব্যের ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তাকে গলা টিপে মেরে ফেলতে হবে।

বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষের মূল্য এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য

রিয়াজ ওসমানী

২৭ অক্টোবর ২০২৩

আওয়ামী লীগ নেতাদের দেশে উৎপাদিত খাদ্যের ঊর্ধ্বতন মূল্যের কথা জিজ্ঞেষ করা হলে তারা ব্যাপারটা উড়িয়ে দেয় এই বলে যে জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। তর্কের খাতিরে ধরলাম যে জনগণের অর্ধেকের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে (তাদের মধ্যে একাংশের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে)। তো বাকি অর্ধেক জনগণ কি না খেয়ে মরবে বা পুষ্টিহীণতায় ভুগবে?

কিছু মানুষের বাড়তি ক্রয় ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে বাজার চক্রের সাথে জড়িত অল্প কিছু ব্যবসায়ীরা বাজারটাকে নিয়ন্ত্রণ করে যে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী করে রেখেছে সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা কি সরকারের আছে? নেই! এবং আমাদের বর্তমান বানিজ্যমন্ত্রীর স্বীকারক্তিতেই আমরা তা জানতে পারি। এবং তার কারণ এই ব্যবসায়ীরা বর্তমান সরকারেরই মদদপুষ্ট যা মাফিয়া প্রশাসনের একটি রূপ মাত্র।

এই সরকার দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সংবিধানের চারটির মূল স্তম্ভগুলোর প্রায় সব কটি থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই স্তম্ভগুলোর একটি হচ্ছে সমাজতন্ত্র। তবে খাটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি যা সাম্যবাদী অর্থনীতির সামিল, তা কখনোই চাই না কারণ সেটা হচ্ছে একটি ব্যর্থ রূপরেখা। মুক্তবাজারই চাই। কিন্তু মুক্তবাজারের যেই কঠিন দূর্বলতাগুলো রয়েছে তার প্রায় সব কটিই বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যমান। যার ফলে বাংলাদেশে মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য বিপদজনক হারে বেড়েই চলছে। এ দূর্বলতাগুলো নিরাময় করার অনেক প্রতিষ্ঠিত পন্থা রয়েছে যার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ এই সরকারকে নিতে দেখা যাচ্ছে না। সেই নিরাময়গুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের মাঝে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমিয়ে আনা।

শেখ হাসিনা বড় বড় গলায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলেন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার কথা বলেন। আমি নিশ্চিত যে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর বাংলাদেশে বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য অবলোকন করে ওপার থেকে বঙ্গবন্ধু চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

অসলো শাক্তি চুক্তি এবং দুই রাষ্ট্রের পরিণতি

রিয়াজ ওসমানী

২৬ অক্টোবর ২০২৩

বিগত ৩০ বছর ধরে দেখলাম ফিলিস্তিনি চরমপন্থী গোত্র হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ কীভবে অসলো চুক্তিকে বর্জন করে ইসরায়েলিদের উপর অবিরাম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে ধীরে ধীরে ইসরায়েলিদেরকে ডানপন্থীতে রূপান্তরিত করে। ইসরায়েলিদের মাঝেও পশ্চিম তীরে কট্টরপন্থী বসতিস্থাপনকারীরা অসলো চুক্তির বিরুদ্ধেই কাজ করেছে। আজ অবস্থা শোচনীয়। দুই রাষ্ট্রের দর্শন থেকে পুরা অঞ্চলটাই এখন লক্ষ মাইল দূরে।

প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতিগন বিল ক্লিন্টন থেকে শুরু করে বারাক ওবামা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মধ্যপন্থীদের একত্রিত করে তাদেরকে একটি চূড়ান্ত বন্দোবস্তে আনার চেষ্টা বহুবার করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ এই মধ্যপন্থীরা দুই রাষ্ট্রের সীমানা, নিরাপত্তা বিষয়ক জটিলতা ইত্যাদির ব্যাপারে কখনো এক মত হতে পারেনি। তাদের উপর বাইরে থেকে কোনো বন্দোবস্ত চাঁপিয়ে দেয়া যাবে না। বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন আবারও চূড়ান্ত বন্দোবস্তের উদ্যোগ নিলে তার কাছে কী এমন যাদুমন্ত্র আছে যেটা ক্লিন্টন এবং ওবামার কাছে ছিল না?

আমি মোটেও আশাবাদী নই যে আমরা অল্প কোনো সময়ের মধ্যে দুটি রাষ্ট্রের সমাধানে পৌছতে পারবো। হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ সেটা হতে দেবে না (তারা পুরা ইসরায়েলের ধ্বংস চায়) এবং ইসরায়েলের বর্তমান সরকার এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখন আর দুই রাষ্ট্রে বিশ্বাস করে না আর সেটা চায়েও না। অসলো চুক্তির সময়ে ইসরায়েলি বামপন্থী নেতা ইৎজাক রাবীন ও পিএলওর ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বে দুই রাষ্ট্র কায়মের চেষ্টাকে হামাস ও ইসলামিক জিহাদ নিরীহ ইসরায়েলিদের উপর অবিরাম আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে নস্যাৎ করে ফেলে। ফলে ইসরায়েলিরা এখন আর সেই পথে আগাতে চায় না।

২০০৫ সালে ইসরায়েলি নেতা এড়িয়েল শারনের নেতৃত্বে ইসরায়েল গাজা উপত্যকা থেকে জোরপূর্বক সকল ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদেরকে সরিয়ে নেয় এবং সেখান থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার করে নেয়। এখানে উদ্দেশ্য ছিল গাজা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের স্বায়ত্তশাসন শুরু হউক। কিন্তু এর বিনিময়ে গাজায় ঘাটি মেরে বসা হামাস ইসরায়েলে অবিরাম রকেট ছুড়তে শুরু করে। তারপর ইসরায়েলের প্রতিশোধে গাজায় ৩০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয় এবং গাজাকে অবরূদ্ধ করে ইসরায়েল ও মিশর সেই উপত্যকাটিকে আজকের উন্মুক্ত কয়েদখানায় পরিণত করে।

গাজা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার পর ইসরায়েলিদের যেই অভিজ্ঞতা হলো (হামাসের রকেট), তারপর তারা এখন আর পশ্চিম তীর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়ার কথা কল্পনাও করতে পারে না। বরং মার্কিন তথা আন্তর্জাতিক আপত্তি উপেক্ষা করে সেখানে ইহুদি ডানপন্থীদের বসতিস্থাপন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সেখানে অবস্থিত ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা বেড়েই চলেছে। বর্তমান ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের উপর এরকম কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করেই অগ্রসর হতে চায় যা কখনোই তাদের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। এবং এতে ইসরায়েলের পাশে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র কোনো দিন প্রতিষ্ঠা করা যাবে না, ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। এই জট থেকে বের হয়ে আসার পথ এখন আর কারোর জানা নেই।