বৈষম্যহীন বাংলাদেশে ধর্মীয়তার বর্ণালী

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ

রিয়াজ ওসমানী

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

এই বছরের জুলাই-আগষ্ট মাসে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের সামাজিক সংলাপ ও রাজনৈতিক দৃশ্যপট কীভাবে বদলে গিয়েছে, এবং সেখানে মুক্তমনা, উদারপন্থী, গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমান এবং নিধার্মিকদের কী কর্তব্য তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার মধ্যযুগীয় আইন এবং তার হিংস্র প্রয়োগ দিয়ে যেভাবে জনগণের মুখ চেপে ধরেছিল, তার সাময়িক সমাপ্তি ঘটেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আগমনে। সকলের প্রত্যাশা যে এই সমাপ্তিটি চিরস্থায়ী হবে।

কিন্তু ফিরে পাওয়া এই বাকস্বাধীনতা আমাদের মাঝে নিয়ে আসবে নতুন চ্যালেঞ্জ। বিগত একটি সময়ে “রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতা ও গৌণ ধর্মীয়তা” বনাম “রাজনৈতিক ইসলাম”-এর দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল, এখন আর তা চলতে পারবে না।

এর কারণ হচ্ছে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশে “সকলের” অন্তর্ভুক্তি হতে হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের আহবানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনুস রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেয়ার সময়ে আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে বিভিন্ন দল, মত, জাত ও ধর্ম নিয়েই আমরা একটি পরিবার। আমাদের মাঝে বাগবিতণ্ডা হবে কিন্তু মারামারি ও কাটাকাটি হবে না।

আমি যদি দেশের নাগরিকদের একটি বড় অংশকে গোত্র ১ এবং গোত্র ২ নামের ছকে ফেলি এবং মুক্তমনা, উদারপন্থী, গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমান এবং নিধার্মিকদেরকে গোত্র ১এ বসিয়ে দেই, এবং গোত্র ২য়ে যারা মৌলবাদী মুসলমান, যারা রাজনৈতিক ইসলামে বিশ্বাস করে এমনকি তাদের মাঝে যারা দেশে শরীয়া আইনের সংবিধান এবং দন্ডবিধি কামনা করে, তাদেরকে বসিয়ে দেই, তাহলে বাংলাদেশের একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন তুলে ধরা যাবে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিভাজনও কয়েক দশক ধরে বিদ্যমান। অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত বিভাজন তো রয়েছেই। কিন্ত আজ আমি উল্লেখিত গোত্র ১ এবং গোত্র ২য়ের মধ্যেকার বিভাজনকে নিয়েই কথা বলতে চাই।

অতীত থেকেই গোত্র ১ এবং ২ ছিল পরষ্পরের চিরশত্রু। একে অপরের অস্তিত্বটুকুও সহ্য করতে পারতো না। গোত্র একের অনেকেই দুইয়ের ধর্মটিকে উপহাস করে, তাকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে, কোরান-হাদিসের অজস্র অসঙ্গত বিষয়গুলো তুলে ধরে, ধামাচাপা পড়ে যাওয়া নবীর অসংখ্য বিতর্কিত আত্মকাহিনী তুলে ধরে দুইয়ের মানুষদেরকে এক প্রকার কোণঠাসাই করে ফেলেছিল।

গোত্র দুই নানাভাবে প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে, যার একটি সৌম্য উদাহরণ ছিল গোত্র একের মানুষদেরকে “নাস্তিক” উপাধি দিয়ে সমাজে তাদেরকে অপ্রস্তুত বানিয়ে ফেলা, এবং যার একটি চরম উদাহরণ ছিল গোত্র একের বিশিষ্টজনদেরকে হত্যা করা। সেই হত্যা গোত্র একের মানুষদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এর বাইরেও ভিন্ন ধর্মালম্বী মানুষ, সাংষ্কৃতিক কর্মী এবং যৌন সংখ্যালঘুও সেসকল হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।

গোত্র ১ চেয়েছে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা এবং একটি গৌণ ধর্মপ্রবণ বাংলাদেশ, যেখানে গোত্র ২ চেয়েছে একটি ইসলামী রাষ্ট্র। এদিকে পলায়ন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মনিরপেক্ষতা নামক বিষয়টিকে একটি হাস্যকর, বিদ্রুপের বস্তু এবং বিষাক্ত চিন্তা বানিয়ে ফেলেছিলেন তার নোংরা রাজনীতি দিয়ে। এখন গোত্র একের মানুষরা ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা উচ্চারণ করার আগে তিন বার ভেবে নেয়।

অপর দিকে নতুন বাংলাদেশ, নতুন সরকার এবং নতুন সংবিধানের গন্ধ পেয়ে গোত্র দুইয়ের মানুষরা তাদের স্বপ্নের ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার লক্ষ্যে ধীরে ধীরে তাদের নিদ্রা ভেঙে উঠে বসতে শুরু করেছে। তাদের কাছে এই হলো সুবর্ণ সুযোগ যা হাতছাড়া হবার নয়।

ছাত্র-জনতার কত শতাংশ গোত্র ১এর মধ্যে পড়ে আর কত শতাংশ গোত্র ২য়ে, তা আমার জানা নেই। তবে একটা জিনিষ স্পষ্ট – তারা সকলে মিলেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চায়। এর সাথে প্রধান উপদেষ্টা যোগ করেছেন “অন্তর্ভুক্তিমূলক”, “অসাম্প্রদায়িক” ইত্যাদি শব্দগুলো যা আমি ছাত্র-জনতার মুখ থেকে আরও বেশি করে শুনতে পেলে খুশি হতাম।

যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশ কখনোই শুধু গোত্র ১এর মানুষ দিয়ে ভরাট থাকবে না, আবার শুধু গোত্র ২ দিয়েও না। অতএব মারমুখী না হয়ে উভয়েরই সহাবস্থান কাম্য। সেখানেই আসবে নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে আমরা কীভাবে একে অপরের সহাবস্থান মেনে নেব? অতীতে গোত্র ২য়ের ভয়ে গোত্র ১কের অনেকেই দেশ ছেড়েছে এবং আর ফিরে আসেনি। বিদেশে বসে তারা ২য়ের এমন বিশদগার করেছে যে ২য়ের সবাই যেন কুষ্ঠরোগী।

ছাত্র-জনতা এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বপ্নের বাংলাদেশে এই অবস্থা চলতে পারবে না। এই নতুন পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে আমি প্রথমে গোত্র ১এর দায়িত্ব নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তারপর গোত্র ২য়ের দায়িত্ব নিয়ে। আমি নিজেকে প্রথম গোত্রে ফেলি এবং আমি রাজনৈতিক ইসলামের চরম বিরোধী। একজন নিধার্মিক হিসেবে ধর্মের বিরুদ্ধেও অতীতে কথা বলেছি। শৈশবসূত্রে ইসলাম ধর্মের সাথে আমি বেশি পরিচিত বলে আমি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধেই বেশি কথা বলেছি।

সাম্প্রতিক কালে আমি মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে ধর্ম পালনের বিরুদ্ধে কথা না বলে শুধু রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছি। আমার মতে বর্তমানে আমাদের গোত্রের সকলকে এই দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়া উচিৎ। আমাদেরকে স্পষ্ট এবং জোরালোভাবে শরীয়া আইন অথবা কোনো প্রকার রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে, যেমন মওদুদীবাদ।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে বেশি ভোট দেয় না, এই বলে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। কারণ আমাদের নিরবতা এই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। আগেই বলেছি যে গোত্র দুই তাদের নিদ্রা ভেঙে উঠে বসতে শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দুইয়ের মানুষদের প্রতি মারমুখী হলে চলবে না।

আমাদেরকে নতুন করে শিখতে হবে কীভাবে দুইয়ের মানুষদের সাথে সভ্য ও ভদ্র ভাষায় রাজনৈতিক ইসলামের সমস্ত ক্ষতিকর এবং বিপদজনক দিকগুলো নিয়ে কথা বলা যায়। শরীয়া আইন দ্বারা চালিত সমাজে বৈষম্য অন্তর্নিহিত। একই সাথে এরকম সমাজ ব্যক্তি স্বাধীনতারও পরিপন্থী। মুক্তচিন্তা, যা মানব সভ্যতাকে আদিকাল থেকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে, তার বিন্দুমাত্র স্থান এই পরিবেশে নেই।

পৃথিবীতে শরীয়া আইন দ্বারা চালিত অল্প কিছু দেশ বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে একেবারেই উন্নতি সাধন করতে পারেনি। একটি অন্ধবিশ্বাস এবং সেখান থেকে উদিত বিভিন্ন কঠোর রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক নিয়মকানুন সৃজনশীলতার কন্ঠ চেপে ধরে। আর এসব রীতিনীতির সবচেয়ে আপত্তিকর দিকগুলো হচ্ছে যে সেগুলো একটি দেশের অনিচ্ছুক অনেক মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হয় যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। গণতন্ত্র মানে শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠরা যাই চাবে তা নয়। হ্যাঁ, সেটা ভোটের বাক্সে সত্যি। কিন্তু প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা হচ্ছে রাষ্ট্র ও সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ইচ্ছার প্রতিফলন এমনভাবে ঘটানো যাতে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ ক্ষুন্ন না হয়। এই পরষ্পর বিরোধী প্রক্রিয়ার সুস্থ ব্যবস্থাপনাটাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে।

শরীয়া আইনের বিভিন্ন বিষয়াদি আলেম সমাজ ইচ্ছে মতো বানিয়ে নিতে পারে। মৌলিক কিছু ব্যাপার ছাড়া কোরান-হাদিস থেকে পাওয়া অধিক অনুশাসন নিয়ে সমগ্র মুসলমান জগতে কোনো একমত নেই। সবই অমুকের ব্যাখ্যা, তমুকের ব্যাখ্যায় জর্জরিত। গণতান্ত্রিক উপায়ে বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক ইসলামকে বেছে নিলে সবাই একটি প্যান্ডোরার বাক্স খুলে ফেলবে যা আমাদের সংষ্কৃতি ও কৃষ্টির পরিপন্থী। ভোটের মাধ্যমেই ১এর মানুষদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যে ২য়ের মানুষরা যেন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বটা না পায়। আমাদের ঐতিহ্যকে অবলম্বন করেই আমরা বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, শৈল্পিক, প্রযুক্তিক এবং সাহিত্যিক দিক থেকে এগিয়ে যাব। গান-বাজনা, খেলাধূলা?

গোত্র দুইয়ের মানুষদের সাথে এই বিষয়ে ভদ্র এবং যৌক্তিক আলোচনা দুরহ। তাদের অন্ধবিশ্বাস থেকে জন্ম নেয়া তাদের রাজনৈতিক মতবাদ তাদের মধ্যে এতটাই গাঁথা যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই আলোচনা আগাতে পারে না। এখানেই গোত্র ২য়ের মানুষদের দায়িত্বের কথা চলে আসে। আমরা যেমন তাদেরকে প্রতিপক্ষ ভাবা থেকে দূরে সরে আসবো, তাদেরকেও আমাদের প্রতি তা করতে হবে।

আমাদেরকে গালাগাল দিয়ে, অপমান করে, খুন করে তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-ছাত্রী এবং অধ্যাপক ইউনুসের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে না। তারা তাদের মতবাদ প্রকাশ করবে এমনভাবে, যে যারা তাদের সাথে একমত নয়, তাদেরকে কাফের বা মুরতাদ বলা যাবে না (তারা নাস্তিকদের কতল করার ডাক দেয় – অথচ গোত্র ১এর কেউ দুইয়ের কাওকে কোনো দিন কতল করার ডাক দেইনি)।

গোত্র ১এ অন্তর্ভুক্ত গৌণ ধর্মপ্রবণ মুসলমানদের চুপ করে থাকার দিন শেষ। যেখানেই শরীয়া আইন, খেলাফত বা অন্য কোনো প্রকার রাজনৈতিক ইসলামের ডাক আসবে সেখানেই আমাদের গোত্রের সবাইকে সেটার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শরীয়া আইন চাই কি না এরকম অনলাইন জরিপে আমাদেরকে সংঘবদ্ধ হয়ে জানিয়ে দিতে হবে “না”। সামাজিক মাধ্যমে তাদের আওয়াজ যেন বেশি প্রাধান্য না পায় সে দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।

এখানে সরকারেরও ভূমিকা আছে। গোত্র ২য়ের কেউ অনলাইনে গোত্র ১এর কাওকে প্রাণনাশের হুমকি দিলে কতৃপক্ষ যেন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাকে কোনো প্রকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। ধার্মিকদের বিশ্বাস কেন এত দুর্বল হবে যে তাদের অনুভুতিতে সহজেই আঘাত লাগে?

গোত্র ২য়ের মানুষদের আরেকটা প্রবণতা হচ্ছে গোত্র ১এর মানুষরা ব্যক্তিগত পর্যায় কতটা নিষ্ঠার সাথে ইসলাম ধর্ম পালন করছে তার মূল্যায়ন করা এবং সেই অনুযায়ী বিবৃতি দেয়া বা ১এর মানুষদেরকে ব্যক্তিগতভাবে মানসিক চাপ দেয়া। ব্যক্তি স্বাধীনতায় এত বড় হস্তক্ষেপ আমরা মেনে নেব না। ইসলাম ধর্মের সমগ্র অনুশাসন যাই হোক না কেন, একজন ব্যক্তি তার কতটুকু পালন করবে বা আদৌ করবে কি না সেটা একজন ব্যক্তির একান্ত বিষয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বয়ানে সকল ধর্ম, বর্ণ, জাত ইত্যাদির মধ্যে নিধার্মিকদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ধর্মের প্রসঙ্গ এলে বলতে হবে যে বাংলাদেশ হচ্ছে হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আহমাদিয়া, অন্যান্য ধর্মালম্বী এবং নিধার্মিকদের শান্তির কুটির। জাতের প্রসঙ্গ আসলে বলতে হবে যে বাংলাদেশ হচ্ছে বাঙালী, অবাঙালী এবং পাহাড়িদের শ্যামল আলয়। এই সোনার বাংলায় উল্লেখিত সকলেই একে অপরের সহাবস্থান নিশ্চিত করবে। কারণ আমরা সবাই বাংলাদেশি, আমরা একটি পরিবার।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি এখন থেকেই এরকম একটি বয়ান তৈরি করে দিতে পারে, এবং বাংলাদেশের সকলেই যদি সেই বয়ানটিকে জাতীয় স্বত্তা হিসেবে গ্রহণ করে নেয়, তাহলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম অনেক ধাপ এগিয়ে যাবে৷ এরকম একটি উদারপন্থী পরিবেশে মূলধারার চেয়ে ভিন্ন যৌন অভিমুখিতা অথবা লিঙ্গ পরিচয়ের অধিকারী – অর্থাৎ দেশের যৌন সংখ্যালঘুরাও তাদের জায়গা করে নিতে পারবে।

A House Of Cards No More

From anti-quota movement to ousting government

Riaz Osmani

August 23, 2024

I started this blog with an article titled “It’s Time For Awami League To Go”, written on December 6, 2018. I presented 15 issues there, based on which it was my assessment that a change of power was needed in the then-upcoming general elections.

After almost six years of ups and downs since, following a student-led movement that started at the beginning of July this year around civil service job quotas and finally morphed into the demand for resignation of the government, and after more than 600 lives were lost in two weeks, Sheikh Hasina capitulated and fled Bangladesh on August 5, 2024.

The purpose of this article is not to recap the past 16 years, but to outline some thoughts, sentiments that have been expressed by me and many others within the diaspora on social media over the years. Many did not have the courage to express them from within Bangladesh.

I was shocked over the past few years by the pride and arrogance of Awami League leaders who were questioned about the government’s misdeeds on various talk shows on Bangladesh’s private TV channels, and their tendency to put all blame on the 2001-2006 BNP-Jamaat government. They had mastered all the tricks in the book to avoid answering questions. I became convinced of the political bankruptcy of the Awami League and of their imminent downfall.

At the same time, from what I heard from the former Prime Minister Sheikh Hasina to top-level ministers on various issues, I realised that the government could easily be termed as “tone deaf”. Over time, it also became apparent to me that Hasina lived in a glass house of her own making, the walls of which were her chosen confidants, who told her only what she wanted to hear and believe.

Gradually and with precision, Hasina and her confidants took away the freedom of speech of one section of the society, in order to establish their imaginary world as reality, while filling every part of the state with more confidants and sycophants to bring them under their control. The distinction between Sheikh Hasina and the state disappeared.

There was an attempt to identify criticism of Hasina as an anti-Bangladesh doctrine. Those who made such criticisms were labelled as “Razakars” (national traitors in the local context). In addition, many people had disappeared, were imprisoned for an indefinite period, subjected to physical and mental torture, and in some cases murdered.

These experiences were not only of people of the opposition parties. They happened to many who had a conscience and dared to protest against the activities of the beleaguered regime. Many journalists, writers and social workers were in constant fear of when and at what time of the night the men in white clothes (from the detective branch) would knock on the door and take them away.

Many of those who did not wish to live in such terror enrolled themselves in the list of Hasina’s cronies through flattery. No profession was left out of this endeavour. What unlimited corruption? What abuse of unlimited power? What violation of laws? These people competed with each other, obsessed with obtaining as much security as possible from the mafia-like administration, and looting and smuggling abroad as much wealth as possible.

The Awami League government thought that there was no harm in running the country that way, as long as the masses could be kept enamoured with some flashy infrastructure, and as long as the country’s economic performance numbers kept making headlines. But what an irony of fate! The Covid pandemic threw all those plans into disarray. It was then that the public began to discover the extent of economic mismanagement, wrong decisions and the inflated budgets of mega-projects hidden behind the glitz.

But those were symptoms. The real ailment was the fascist administration put together by Hasina over time. In order to continue this fascist government, Hasina used subservient courts to remove the provision of a caretaker administration to oversee elections from the constitution, against the wishes of the majority of the Bangladeshi people, thus pushing the country into political darkness.

As a result of this, Bangladesh had the ignominious experience of three farcical elections in a row. Currently, an entire generation does not know what it means to vote and have it properly counted. It does not know what an independent judiciary means. It has never seen a functioning Parliament. It does not know what a democratic country looks like.

It does not know what a neutral and strong media is. It does not know what is meant by accountability of the state. It does not know what rights are enshrined in the Constitution of Bangladesh. All that is known is the demonic duo of the police forces (including the Rapid Action Battalion or RAB) and intelligence or detective forces. All that are known are the useless, ineffective and bribe-seeking government bureaucrats who think they are kings.

The generation of 1971 and the generation after that did not know how to free the country from this hell, because many among them had become beneficiaries of the profitable aspects of that hell. For the first time in the country, I saw countless oligarchs who were above everything (and Hasina’s new confidants and bank-loan defaulters of unprecedented levels).

On the other hand, economic disparity increased to such a level that a section of the middle class began to face poverty. Unemployment rates started to rise. After the epidemic and the Russia-Ukraine war, inflation had decreased all over the world, but not in Bangladesh. Economic mismanagement induced currency (Taka) depreciation which, coupled with government-backed domestic market cartels (locally referred to as syndicates), rendered the lives of the common people unbearable.

In other words, it can be said that Sheikh Hasina and the Awami League, which had played politics with the ideals of Bangladesh’s birth (i.e. that of the war of liberation) for so long, had started to govern the country in a way that was gradually void of all those ideals since assuming power in 2009. They did not even hesitate to abandon secularism in their greed for power.

Today is a new day whose future is yet to be painted on a white canvas. Let us not find even a shadow of fascism in the picture that we will see in the future. Bangladesh has spent more than ten years in a suffocating cell. The freedom fighters of 1971 did not dream of such a country. This year’s students and martyrs did not give their blood to see a repetition of hell.

অবশেষে তাসের ঘরটি ভেঙে পড়লো

কোটা বিরোধী আন্দোলন থেকে সরকার পতন

রিয়াজ ওসমানী

১৭ আগষ্ট ২০২৪

আমার এই ব্লগের শুরুটাই হয়েছিল ১ ডিসেম্বর ২০১৮  তারিখে লেখা “আওয়ামী লীগের বিদায় চাই” এই শিরোনামের একটি প্রবন্ধ দিয়ে। সেখানে আমি ১৫টা বিষয় উপস্থাপন করেছিলাম যার ভিত্তিতে আমার মূল্যায়ন ছিল যে বাংলাদেশে তখন আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

তারপর প্রায় ছয় বছর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে কোটা সংস্কারকে ঘিরে শুরু হওয়া একটি ছাত্র আন্দোলন অবশেষে সরকার পদত্যাগের দাবিতে উপনীত হওয়ার পর এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে ৬০০র অধিক প্রাণহানির পর শেখ হাসিনা নিজের প্রাণ বাঁচাতে লেজ গুটিয়ে বিগত ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন।

এই লেখাটির উদ্দেশ্য বিগত ১৬ বছরের ফিরিস্তি দেয়া নয়, বরং কিছু মনের ভাব প্রকাশ করা। এই মনের ভাবগুলো আমি এবং আরও অনেকেই কয়েক বছর ধরে প্রবাস থেকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে প্রকাশ করে এসেছি। স্বদেশে বসে অনেকেই সেগুলো প্রকাশ করার সাহস পায়নি।

বিগত কয়েক বছরের বেশি সময় ধরেই বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন কথামালা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদেরকে সেই সরকারের কুকীর্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাদের দাম্ভিকতা, অহমিকা এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের সরকার (বিএনপি-জামাত)-এর উপর সমস্ত দোষ চাপিয়ের দেয়ার প্রবণতা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যেতাম। উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সকল কৌশল তারা আয়ত্তে এনেছিল। তখনই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং তাদের অচিরের মহা পতন সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম।

একই সাথে বিভিন্ন বিষয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীদের মুখে যা শুনতাম তা থেকে অনুধাবণ করেছি যে সরকারকে সহজেই “ধ্বনি বধির” বলে আখ্যায়িত করা যায়। সময়ের সাথে সাথে আমার কাছে এটাও প্রতিয়মান হয়েছে যে হাসিনা নিজের তৈরি একটি কাঁচের ঘরে বাস করতেন, যেই ঘরের দেয়ালগুলো ছিল তারই বাছাই করে নেয়া বিভিন্ন আস্থাভাজনরা, যারা তাকে শুধু সেটুকুই বলতেন, যা তিনি শুনতে চাইতেন ও বিশ্বাস করতে চাইতেন।

সময়ের সাথে সাথে এবং কৌশলে হাসিনা ও তার আস্থাভাজনরা একটু একটু করে তাদের কল্পনার জগতকে সত্যি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সমাজের এক স্তরের মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়, অন্য দিকে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ আরও আস্থাভাজন এবং চাটুকারদের দিয়ে ভরে দিয়ে সেগুলোকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসে। শেখ হাসিনা এবং রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্যটা বিলীন হয়ে যায়।

হাসিনার সমালোচনাকে বাংলাদেশ বিরোধী মতবাদ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়েছে। যারাই এই সমালোচনা করেছে, তারাই রাজাকার হিসেবে নামকরণকৃত হয়েছে৷ সাথে অজস্র মানুষকে গুম করা হয়েছে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্দী করে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে।

এই অভিজ্ঞতাগুলো যে খালি বিরোধী দলের মানুষদেরই হয়েছে তা নয়। যাদেরই বিবেক বলতে কিছু ছিল এবং সেটার ভিত্তিতে তারা কোনো কিছুর প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছে, তাদের অনেকেরই এই পরিণতি হয়েছে৷ বহু সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, লেখক ও সমাজকর্মীরা ত্রাসের মধ্যে থেকেছে কখন এবং কোন মধ্যরাতে সাদা পোশাক পরা ব্যক্তিরা দরজার কড়া নারবে ও ধরে নিয়ে যাবে।

যারা এই ত্রাসের মধ্যে বাস করতে চায়নি, তারা অনেকেই চাটুকারিতার মাধ্যমে হাসিনার আস্থাভাজনদের দলে নাম লিখিয়েছে। কোনো পেশার মানুষই এ প্রচেষ্টা থেকে বাদ যায়নি। কীসের সীমাহীন দুর্নীতি, কীসের সীমাহীন ক্ষমতার অপব্যবহার, কীসের আইন-কানুনের ব্যত্যয়? প্রতিযোগিতা দিয়ে মাফিয়া প্রশাসনের কাছ থেকে যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়া যায় এবং পাহার সমান সম্পদ লুটে নেয়া যায় (ও বিদেশে পাচার করা যায়), তারই মগ্নে ছিল এই প্রতিযোগিরা।

আওয়ামী লীগ সরকার ভেবেছিল যে যতক্ষণ পর্যন্ত কিছু চোখ ধাঁধানো অবকাঠামো দিয়ে আম জনতাকে ভুলিয়ে রাখা যাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃত্তির সংখ্যাগুলো সংবাদ শিরোনাম হয়ে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবে দেশ চালালে কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস! কোভিড মহামারি এসে সেই পরিকল্পনার সব কিছুই লন্ডভন্ড করে দিল। তখন থেকে শুরু করেই জনগন জানতে শুরু করলো চাকচিক্যের আড়ালে কী পরিমান অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, নানা বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত এবং বৃহত্ত প্রকল্পগুলোর স্ফীত বাজেট লুকিয়েছিল।

তবে এগুলো ছিল উপসর্গ। আসল ব্যাধি ছিল সময়ের সাথে সাথে হাসিনার গঠিত একটি ফ্যাসিবাদী প্রশাসন। ক্ষমতার লোভে এই ফ্যাসিবাদী সরকার অব্যাহত রাখার জন্য হাসিনা তার অধীনস্থ আদালত ব্যবহার করে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান উঠিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি কঠিন রাজনৈতিক অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

এর ফলস্রুতিতে বাংলাদেশ পায় পরপর তিনটা নির্বাচন নামের প্রহসন। পুরা একটা প্রজন্ম সঠিকভাবে ভোট দেয়া ও সেটার গণনা কাকে বলে তা জানে না। স্বাধীন বিচার বিভাগ কাকে বলে জানে না। একটি কার্যকর সংসদ কাকে বলে জানে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশ কাকে বলে তা জানে না। নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী গণমাধ্যম কাকে বলে জানে না। তাদের কাছে রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা কাকে বলে তা জানে না। বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক তাদের কী অধিকার আছে তাও জানে না। তারা শুধু জানে দানবীয় পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনী ইত্যাদি। তারা জানে নিজেদেরকে রাজা ভাবে এমন সকল অসহায়ক, অকর্মন্য এবং ঘুষখোর সরকারি আমলাদেরকে।

৭১ সালের প্রজন্ম এবং তারও পরবর্তী প্রজন্ম কীভাবে দেশকে এই জাহান্নামের হাত থেকে মুক্ত করতে পারবে তা জানতে পারেনি। কারণ তাদের মাঝেই অনেকে হয়ে উঠেছিল সেই জাহান্নামের লাভজনক বিষয়াদির সুবিধাভোগী। দেশে প্রথমবারের মতো দেখলাম অজস্র অতি বিত্তশালী বা অলিগার্কদেরকে, যারা ছিল সব কিছুর ঊর্ধ্বে (সাথে হাসিনার নব আস্থাভাজন হওয়া থেকে শুরু করে নজিরবিহীন ব্যাংক ঋণ খেলাপি)।

অন্য দিকে অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে বাড়তে এমন পর্যায় চলে এল যে মধ্যবিত্তদের একটি অংশ দারিদ্রের মুখ দেখতে লাগলো। বেকারত্বের হার বাড়তে লাগলো। মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাংলাদেশে তা কমলো না। অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে টাকার মুদ্রাস্ফীতি, সাথে সরকারের মদদপুষ্ট বাজার চক্র সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে দিল।

এক কথায় বলা চলে যে যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে শেখ হাসিনা তথা সমগ্র আওয়ামী লীগ এত দিন রাজনীতি করলো, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে তারা সেই চেতনাগুলোর প্রতিটি বিষয় বহির্ভূত অবস্থান নিয়ে দেশ শাসন করলো। এমন কী ক্ষমতার লোভে তারা ধর্মনিরপেক্ষতাকেও বিসর্জন দিতে দ্বিধা বোধ করেনি।

আজ এসেছে এক নতুন দিন যার ভবিষ্যত এখনও সাদা ক্যানভাসে অঙ্কণ করা হয়নি। আগামীতে আমরা যেই চিত্রটিই দেখতে পাবো, তার মধ্যে ফ্যাসিবাদের ছায়াটুকুও যেন আর খুঁজে না পাই। বিগত দশ বছরের অধিক সময় বাংলাদেশ পার করেছে একটি শ্বাসরুদ্ধকর আয়নাঘরে। একাত্তর সালের মুক্তিযোদ্ধারা সেই দেশের স্বপ্ন দেখেনি৷ এবারের ছাত্র-জনতা শহীদরাও জাহান্নামের পুনরাবৃত্তি দেখবার জন্য রক্ত দেয়নি।

The UN Court and Israeli Occupation of the West Bank

International Court of Justice

Riaz Osmani

19 July 2024

The International Court of Justice (ICJ; French: Cour internationale de justiceCIJ), or colloquially the World Court, is the only international court that adjucates general disputes between nations, and gives advisory opinions on international legal issues. It is one of the six organs of the United Nations (UN), and is located in The Hague, Netherlands (source: Wikipedia).

This World Court said today that Israel’s occupation of Palestinian territories and settlements there are illegal and should be withdrawn as soon as possible, in its strongest findings to date on the Israel-Palestinian conflict (source: Reuters).

An important fact here is that this ruling by the ICJ is non-binding. Can Israel really use that fact to simply dismiss this ruling? Founders of the UN like the USA, UK etc. must be put on notice that they were the architects of the international order after WWII by using the UN as a vehicle, and the ICJ came along later as the UN’s top court. The founders must give the ICJ teeth. The best way to do that would be to use their leverage on Israel (whatever’s left of it) to force the latter to abide by this ruling, a process which Israel will fight tooth and nail.

Now, one must be fair and maintain that we would have not arrived at this juncture had some Arab states, notably Egypt, Syria and Jordan not attacked Israel in June 1967 to decimate whatever geographical and political shape the latter was in at that time. By declaring that war and losing it to Israel (third such instance since Israel’s creation) the Arabs (but not the Palestinians) made Israel take control of the West Bank, Gaza and other territories that were previously under the control of those Arabs (the other territories having been returned through peace treaties with some of those Arabs later on).

The sacrificial lamb after the 1967 war was the collective of all Palestinians. They had no problem with the past UN resolution of the creation of two states (one for Jews, the other for themselves) in the land that was the British Mandate of Greater Palestine (carved out from the defeated Ottoman Empire). It was the neighbouring Arab states who would not accept such an outcome, who repeatedly attacked the newly created Israeli state in order to destroy it, and who contributed to the situation where a Palestinian state was never created at all. We would have had one created back then had it not been for the stance of the Arab League regarding Israel. West Bank and Gaza would not have come under Israeli control had it not been for Egypt, Syria and Jordan.

Events since then have been hijacked by extremists on the Palestinian side (suicide bombers, Hamas, Islamic Jihad etc.) and by extremists on the Israeli side (Jewish settlers, the assassin of the great Israeli leader and peace maker Yitzhak Rabin, the Netanyahu government of today etc.). Two opportunities under the auspices of two former US Presidents for Israeli and Palestinian delegations to come to a final status agreement (i.e. the mythical two-state solution) have been missed thanks to those extremists on both sides who have sadly been feeding off each other. The Oslo Peace Process is long dead; the lives of Palestinians have gone from bad to worse; the sense of security for Israelis have gone from none to none.

Thanks to Palestinians who have elected Hamas as their representatives, which do not accept Israel’s right to exist and is hell-bent on wiping it off the map, and Israelis who have elected the Netanyahu government that does not believe in a future independent Palestinian state attached to Israel, we are furthest away from a two-state solution than we have ever been. But those details are not for this article.

শিক্ষাঙ্গনে শিশু প্রহার ও মানসিক নির্যাতন প্রসঙ্গে

রিয়াজ ওসমানী

২৮ জুন ২০২৪

একটি কওমি মাদ্রাসায় “পড়া না পারায়” একজন শিক্ষিকার হাতে প্রহারের শিকার হয়ে একজন ছাত্রের চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার করুণ একটি কাহিনী নিয়ে ডয়েচে ভেলের একটি সাম্প্রতিক নিবন্ধের আলোকে আমার কিছু পর্যবেক্ষণ:

১) কবুতরের ক্ষেত্রে মুখস্ত বিদ্যা হয়তো প্রযোজ্য। মানুষের ক্ষেত্রে না।

২) মুখস্ত করা কিছু মনে না থাকলে সেটা কখনোই কোনো ছাত্র বা ছাত্রীর অক্ষমতা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ মুখস্ত রাখতে পারার মধ্যে জ্ঞান, চিন্তা শক্তি ও মেধার ছায়াটুকুও নেই।

৩) ২ নম্বরের সূত্র ধরে বলা যবে যে কোরআনের আয়াত ও হাদিসের উক্তি আরবি ভাষায় স্মৃতিশক্তি থেকে গরগর করে উচ্চারণ করতে পারার মধ্যে কওমি মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের একেবারেই কোনো জ্ঞান, চিন্তা শক্তি ও মেধার পরিচয় স্থাপিত হয় না।

৪) ১, ২ ও ৩এর সূত্র ধরে বলছি যে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই ডাস্ট বিনের উপযোগী।

৫) এই শিক্ষা ব্যবস্থা ও অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থায় “পড়া না পারা” বলতে কিছু থাকতে পারবে না। কারণ এখানে “পড়া পারা” বলতে বুঝানো হয় ছাত্র-ছাত্রীরা কবুতরের মতো করে স্মৃতিশক্তি থেকে কী কী বলতে পারে তারই সময়ের অপচয়।

৬) এই সময় অপচয়ে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীরা ভালো করতে পারছে না, তাদেরকে দেশের আইন ভঙ্গ করে (এবং নৈতিকতার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে) কোনো প্রকার শারীরিক এবং/অথবা মানসিক নির্যাতন করা হলে, নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে চরম সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭) বাংলাদেশের সকল শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যেহেতু কওমি মাদ্রাসাগুলোতেই এ সকল নির্যাতন বেশি ঘটিত হয়, সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদেরকে আরও বেশি করে নজর দিতে হবে।

৮) খারাপ ছাত্র বলতে কিছু নেই। কেবল শিক্ষরাই খারাপ হতে পারে।

নদীর ওপারেই যত সুখ, তাই না?

রিয়াজ ওসমানী

২৮ জুন ২০২৪

বাংলাদেশ থেকে ছাত্র ভিসা, পর্যটক ভিসা, বিভিন্ন কর্মী ভিসায় গত এক দুই বছরে যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষ এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে, যার ৯৫%ই নাকোচ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের সাথে আয়োজন করে যুক্তরাজ্য সরকার এখন এই মানুষদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে।

সকলের বোঝা উচিৎ যে যারা এই রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে, তাদেরকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিক অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। দেশে তাদের জান মালের উপর যে হুমকি আছে, তা বলা যাবে না। শুধু একটি উন্নত জীবনের উদ্দেশ্যেই এই প্রচেষ্টা।

এর ফলে বাংলাদেশে কোনো কারণে সত্যিকার অর্থে যাদের জান মালের উপর হুমকি আছে, তাদের রাজনৈতিক আশ্রয়ের পথ অনেক খানি সংকুচিত হয়ে যাবে। বাংলাদেশ থেকে ভবিষ্যতে অনেকেই আর যুক্তরাজ্যের ছাত্র ভিসা, পর্যটক ভিসা, কর্মী ভিসা ইত্যাদি পাবে না। তার উপর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের মর্যাদাটাও ক্ষুণ্ণ তো হয়ে গেছেই।

কোভিডের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ একটা সম্ভাবনাময় দেশ ছিল। তারপরেই বিশ্ব পরিস্থিতি, বর্তমান সরকারের চরম অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতির সীমাহীন প্রশ্রয় এবং একনায়কতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতাহীন রাজনীতি দেশটিকে কিছুটা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকেই হয়তো দেশে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ।

দেশকে বদল করা সকলেরই দায়িত্ব। এর সাথে সকলের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যে যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর অভিবাসন নীতির অপব্যবহার করে সত্যিকারের ছাত্র, পর্যটক, কর্মী ও আশ্র‍য় আবেদনকারীদের সম্ভাবনা নষ্ট করে দেবেন না। বিলেতি গণমাধ্যমে এই দেশের রাজনীতিবীদরা এখন অভিবাসন প্রসঙ্গ আসলেই অন্যান্য দেশ সহ বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্য যে বন্ধ হয়ে যাবে তা অনুমেয়।

ভারতের লোকসভা নির্বাচন – ২০২৪, বাংলাদেশের একটি পর্যবেক্ষণ

লোকসভা

রিয়াজ ওসমানী

৪ জুন ২০২৪

সরকারের চামচা মার্কা গণমাধ্যম, প্রভাবিত বিচারবিভাগ ও নির্বাচন কমিশন, বিরোধী দলের প্রতি দমন-পীড়ন, বাকস্বাধীনতার হ্রাস, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক বৈষম্যের বৃদ্ধি, দুর্নীতির রাজত্ব এবং অতি বিত্তশালীদের সাথে সরকারের যোগসাজস! শুনতে অবিকল বাংলাদেশ মনে হলেও আমি বলছি ভারতের কথা। হ্যাঁ, বিগত ১০ বছর ধরে নরেন্দ্র মোদী ও তার বিজেপি দলের শাসনামলে ভারতের রাজনৈতিক চেহারার আজ এই করুণ দশা।

কিন্তু ভারতের সাথে বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হচ্ছে যে ভারতে এখনও মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়নি। সেই দেশে এখনও তুলনামূলকভাবে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্পন্ন করা যায় এবং হয়। একমাত্র এই কারণেই সদ্য সমাপ্ত জাতীয় (লোকসভা) নির্বাচনে ভারতের ভোটারগণ মোদী ও বিজেপিকে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না দিয়ে সতর্ক করে দিতে পেরেছে যে তারা বিগত সময়গুলোর জন্য সন্তুষ্ট নয়। তরুণদের বেকারত্ব, কৃষকদের দুর্দশা, নিম্নবিত্তদের কষ্ট ইত্যাদির দিকে নজর না দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি ও অতিবিত্তশালীদের সাথে প্রণয় স্থাপণ করে তারা আর বেশি দিন মানুষদের মন জয় করে রাখতে পারবে না।

ভারতের জনগণ যে এই বার্তাটি দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, সেটা গণতন্ত্রেরই জয়। একই সাথে লোকসভায় আসনের চূড়ান্ত তালিকা আবারও ভারতকে একটি শক্ত বিরোধী দল উপহার দেবে (কংগ্রেস ও তার শরিক দলগুলো মিলে)। এই শক্ত বিরোধী জোটের কারণে মোদী এখন আর অযাচিতভাবে দেশটির সংবিধান বদলে দিতে পারবে না। বিজেপি সময়ের সাথে সাথে যেভাবে গণমাধ্যম, বিচারবিভাগ ও নির্বাচন কমিশনকে কুক্ষিগত করে ফেলেছিল, সেটা থেকে কিছুটা পরিত্রাণ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখন আর অযৌক্তিক নয়। বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতাও যে কিছুটা ফিরে পাওয়া যেতে পারে সেটাও আশা করা যায়।

নরেন্দ্র মোদী আর তার বিজেপি দল যেভাবে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার বুকে ক্রমান্বয়ে ছুরি মেরে দেশটির রূপ বদলে দেয়ার চেষ্টা করে এসেছে, দেশটির জনগণ যে তাতে সায় দিয়েছে তা বলা যাবে না। এখানেই রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি শুভ বার্তা। ভারতের দুই পাশেই রয়েছে দুটি মুসলমান প্রধান দেশ, যেগুলোতে রয়েছে হিন্দু সংখ্যালঘু। ভারতের অভ্যন্তরের হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের মাধ্যমে কখনোই তার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর ভেতরকার একই সম্পর্কগুলো প্রভাবিত হওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু তারপরেও কিছুটা প্রভাব কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে ফেলে। ভারতের ভোটাররা সাম্প্রদায়িকতার ডাকে সারা না দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ককে কিছুটা হলেও সহায়তা করলো।

বাংলাদেশে আজ গণতন্ত্র মৃত। নির্বাচন বলতে জনগণ যা বুঝে ও আশা করে, এই দেশে তার ছায়াটুকুও আজ সম্পন্ন হওয়ার ক্ষমতাটি হারিয়ে ফেলেছে। সেই কারণে বাংলাদেশের জনগণের আজ ক্ষমতা নেই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলকে শায়েস্তা করতে। তবে ভারতের ২০২৪ সালের নির্বাচনটি বাংলাদেশিদেরকে আশার আলো দেখাতে পারে, যদি আমরা তা দেখার ইচ্ছা পোষণ করি। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভারতের যে কোনো সরকারের সাথেই কিঞ্চিৎ বৈরিতা বজায় রেখে এসেছে। বর্তমানে তাদেরই কিছু অতি উৎসাহী অনলাইন সমর্থকরা ভারতীয় পণ্য, এমনকি গোটা ভারতকেই বর্জন করার ডাক দিয়ে চলেছে।

আশা করি সমর্থকদের এই শিশুসুলভ বাতুলতা শিগগিরি বন্ধ হবে এবং বিএনপি ভারতকে আশ্বস্ত করতে পারবে যে (জামাত ব্যতীত) বিএনপি আবারও ক্ষমতায় এলে বাংলার মাটিকে কখনোই ভারতের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এতে ভারত আর একচেটিয়াভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করবে না, যার ফলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকাশের পথটি আবারও একটু হলেও খুলে যাবে। ঐতিহাসিক ও সাংষ্কৃতিক বন্ধনের পটভূমিতে বিশ্ব দরবারে ভারত ও বাংলাদেশকে একত্রে মিলে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক বিকাশের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকা উচিৎ।

Two States Called Israel and Palestine

Peace

Riaz Osmani

30 May 2024

Regarding the Israeli and Palestinian conflict, we should all move away from absolutist positions. They will get us nowhere. What we all need to get behind is the dead process of the two state solution of Israel and Palestine, two separate and independent countries, living side by side in peace and security.

Right now, that seems like pie in the sky. But we nearly got there by the efforts of former American Presidents Bill Clinton and Barak Obama when they were in office. Unfortunately, both the Palestinian and Israeli delegations at those instances could not agree to the final status compromises. But this must be tried again.

And for that to happen, Israelis need to re-elect a leftwing government and Palestinians need to re-elect Fatah. Then willing and moderate delegates from both sides can sit around a table again, sponsored by the US, EU, Arab League etc. Extremists on both sides tried very hard in the past to make sure we never reached a two state solution. That cannot be allowed to happen again.

ইসরায়েল ও প্যালেস্টাইন নামের দুটি রাষ্ট্র

শান্তি

রিয়াজ ওসমানী

৩০ মে ২০২৪

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সংঘাতের বিষয়ে আমাদের সকলকেই চরম একপেশে অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে। কারণ এতে এই সংঘাতটির কোনো সুরাহা আশা করা যাবে না। আমাদের সকলকে দুই রাষ্ট্রের মৃত প্রক্রিয়াটির পেছনে আবারও ছুটতে হবে, যেই সমাধানের মাধ্যমে ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইন নামের দুটি পৃথক এবং স্বাধীন দেশ, শান্তি ও নিরাপত্তায় পাশাপাশি বসবাস করবে।

যদিও এই মুহূর্তে এটিকে একেবারেই অবাস্তব ও আজগুবি মনে হতে পারে, আমরা প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতিগন, বিল ক্লিনটন এবং বারাক ওবামা, যখন তারা ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের প্রচেষ্টায় সেখানে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত, সেই সময়গুলোতে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি উভয় প্রতিনিধিদলই চূড়ান্ত সমঝোতায় একমত হতে পারেনি। কিন্তু এটা আবার চেষ্টা করা আবশ্যক।

এবং এটি ঘটতে হলে, ইসরায়েলিদেরকে একটি বামপন্থী সরকারকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদেরকে ফাতাহকে পুনরায় নির্বাচিত করতে হবে। তারপরে দুইপক্ষ থেকেই ইচ্ছুক এবং মধ্যপন্থী প্রতিনিধিরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, আরব লীগ ইত্যাদিদের পৃষ্ঠপোষকতায় আবারও একটি টেবিলের চারপাশে বসতে পারে। উভয় পক্ষের চরমপন্থীরা অতীতে অনেক চেষ্টা করেছিল যাতে আমরা কখনই দুই রাষ্ট্র সমাধানে পৌঁছাতে না পারি। এমনটা আর হতে দেওয়া যাবে না।

ভন্ড মুমিন, ভন্ড বাঙালী

রিয়াজ ওসমানী

২০ এপ্রিল ২০২৪

বাংলা সংষ্কৃতি ও ইসলামী মূল্যবোধের তথাকতিত রক্ষকগণ, যারা “বাংলাদেশ সিভিলিয়ান ফোর্স” নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমকামীদেরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে হেনেস্তা, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অপমান, এবং তাদের জীবন তছনছ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চাই।

অন্যদের বিচার করার আগে প্রথমে আয়নায় নিজের দিকে তাকান। বাঙালী ও ইসলামী মূল্যবোধ আপনাদের ব্যক্তিগত জীবনে কত শতাংশ প্রস্ফুটিত হয়েছে সেই দিকে নজর দিন। দেখবেন যে অনেক দিক থেকেই আপনাদের এই সব কর্মকান্ড ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু না।

সমকামিতা একজনের জন্মগত এবং অপরিবর্তনীয় যৌন প্রবৃত্তি। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে শুরু করে চিকিৎসাবিজ্ঞান মহলে সকলেরই জানা। কাজেই এখানে সমকামীরা বিষমকামীদের মতো করে জীবনযাপন করবে, এই প্রত্যাশাটা রীতি মতো অন্যায় – ঠিক বিষমকামীরা সমকামীদের মতো করে জীবনযাপন করবে, সেই প্রত্যাশাটার মতো। বাংলাদেশ সহ সমগ্র পৃথিবীর ৫-১০ শতাংশ নর ও নারী সমকামী। এটা মানব সভ্যতার শুরু থেকেই বিদ্যমান, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।

এবার ধর্মের কথা টানবেন নিশ্চয়ই। সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করলে এটাও মানবেন যে সৃষ্টিকর্তাই সমকামী, উভকামী, রূপান্তরকামী, অদ্বৈত, আন্ত:লিঙ্গ প্রভৃতি মানুষদেরকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। এখানে পাপ পুণ্যের বিচার তাঁর উপরেই ছেড়ে দিতে হবে৷ সৃষ্টিকর্তা আপনাদেরকে অধিকার দেননি তাঁর দায়িত্বটা আপনাদের নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে নেয়ার।

আর অনলাইন জগতে বা তার বাইরে নির্দিষ্ট একটি গোত্রের মানুষদেরকে এভাবে হেনেস্তা করার অধিকার আপনাদেরকে কেউ দেয়নি। আপনারাই আমাদের সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট কীট পতঙ্গ। ভন্ডের সর্ব শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। অধমেরও অধম। আপনাদের এই সব কর্মকাণ্ড থামিয়ে দিন। আপনাদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা কতৃপক্ষ দ্বারা কী ব্যবস্থা নেয়া যায় তার সমস্ত পথ বের করা হবে।